লোকসভা ভোট মিটতেই প্রবল রাজনৈতিক আলোড়ন ত্রিপুরায়

আমাদের নতুন সময় : 08/06/2019

সন্তোষ ভট্টাচার্য, আগরতলালোকসভা ভোট মিটতেই প্রবল রাজনৈতিক আলোড়ন ত্রিপুরায়। যে কোনো মুহূর্তে দল ছাড়তে পারেন পরিবর্তনের অন্যতম কা-ারি সুদীপ রায়বর্মণ। ইতিমধ্যেই মন্ত্রীসভা থেকে তাঁকে ছেঁটে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। সুদীপ রায় বর্মণের হাতে স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারি মন্ত্রণালয় দেয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি শিল্প ও বাণিজ্য, পূর্ত, বিজ্ঞান এবং তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামাল দিচ্ছিলেন। মন্ত্রীসভার এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব নিজে। সুদীপ রায়বর্মণের অধীনে থাকা মন্ত্রণালয় এখন থেকে শামাল দেবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। বাকি দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেব বর্মার কাঁধে। এমন ঘটনার ইঙ্গিত আগেই

পাওয়া গিয়েছিলো। দলের মধ্যেই ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন সুদীপ রায়বর্মণ। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন বিভীষণদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। কংগ্রেসেই ফিরতে চলেছেন সুদীপবাবু। পোড় খাওয়া রাজনীতিক এর আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছিলেন। পরে তিনি বিজেপিতে যান। তারপর ক্ষমতার পরিবর্তনে ২০ বছরের টানা বামশাসনের শেষ হয় ত্রিপুরায়। মূলত সুদীপ রায়বর্মণই ছিলেন সেই রাজনৈতিক পালাবদলের অন্যতম কা-ারি। তাঁর পিতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমীররঞ্জন বর্মণ ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা। গত বছর বিপুল জনারায় নিয়ে ত্রিপুরার ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। অবসান ঘটে দীর্ঘদিনের বামশাসনের। এর অল্প সময়ের মধ্যে রাজ্যের সকল পঞ্চায়েত দখল করে নেয় পদ্মশিবির। তবে এই পঞ্চায়েত দখল নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে ওই রাজ্যের দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছে শাসক বিজেপি।

সুদীপ রায়বর্মণ এখন পরিবর্তনের জমানার বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকারের হেভিওয়েট কেউ নন, বরং সাধারণ বিজেপি বিধায়ক? তবে সদ্য মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়া সুদীপ রায়বর্মণকে ঘিরে ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলোড়িত। যদিও সুদীপ রায়বর্মণই জানিয়েছেন, “আমি সাধ্যমতো আমার দফতর স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিজ্ঞান বিভাগের কাজ করতে চেয়েছি? এটা জনগণই বিচার করবেন, কতোটা ঠিক বা ভুল করেছি? মুখ্যমন্ত্রীর হয়তো আমার কাজ পছন্দ হয়নি, তাই তিনি আমাকে বাদ দিয়েছেন? আমি নিজের স্বাস্থ্যে মনযোগ না দিয়েও স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য কাজ করেছি।”

এদিকে সুদীপ রায়বর্মণের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ার পরেই প্রশ্ন উঠছে এরপর কার পালা? কারণ মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি দলের বিভীষণদের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালাবেন? ফলে নতুন ছাঁটাইয়ের তালিকায় কারা কারা রয়েছেন, তা নিয়েও জোর জল্পনা চলছে আগরতলার রাজনৈতিক মহলে? অভিযোগ, সুদীপবাবু তাঁর পুরনো দল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি? নির্বাচনের সময় তিনি কংগ্রেসকে ভেতরে ভেতরে অনেক সাহায্য করেছেন? যদিও প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবি, এসবই রটনা। আসলে সুদীপবাবু সরকারে থেকেও এমনকি দুষ্কৃতিদের হাতে চিকিৎসকদের মার খাওয়ার ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। খোদ মন্ত্রীর মুখে নিরাপত্তা নিয়ে এমন কড়া সমালোচনায় অস্বস্তি বেড়েছিলো মুখ্যমন্ত্রীর। সদ্য লোকসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় দুটি আসনেই জয় পেয়েছে বিজেপি। তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, দুটি কেন্দ্রেই দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে কংগ্রেস। প্রধান বিরোধী দল সিপিএম নেমেছে তৃতীয় স্থানে? নির্বাচনী প্রচারে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাজা প্রদ্যোৎকিশোর দেববর্মা জানিয়েছিলেন, সুদীপ রায়বর্মণকে ফের ফিরিয়ে নেয়া হবে কংগ্রেসে। এর আগেই বিজেপির রাজ্য সহসভাপতি পদ ছেড়ে পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে গেছেন সুবল ভৌমিক।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]