এলএনজি আমদানিতে ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে, বললেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

আমাদের নতুন সময় : 10/06/2019

শাহীন চৌধুরী : এলএনজির খরচ মেটাতে আবারও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। তিনি বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির কারণে এরই মধ্যে ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। অতিরিক্ত আরও ১৪ হাজার কোটি টাকার মতো প্রয়োজন হবে। এ অবস্থায় গ্যাসের দাম সমন্বয় করতে না পারলে ভর্তুকি আরও বাড়তেই থাকবে।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী ও বিদ্যুৎ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইনও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে প্রতিমন্ত্রী কমকর্তাদের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময় করেন এবং সবাইকে মিষ্টি মুখ করান।
নসরুল হামিদ বলেন, দেশে এ পর্যন্ত ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি গ্রিডে যোগ হয়েছে। শিগগিরই আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি যোগ হবে। গত বছর আগস্ট থেকে আমরা এলএনজি আমদানি শুরু করেছি। আমদানিকৃত এই গ্যাসের দাম অনেক বেশি। নিজস্ব গ্যাসেই আমরা এখন ভর্তুতি দেই। গ্যাসের যে দাম তার থেকে অনেক কম দামে গ্রাহককে সরবরাহ করা হয়। যদি দাম সমন্বয় না করা হয় তাহলে চলতি অর্থবছরে ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। আগামী অর্থবছর ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা বাড়তি লাগবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গ্যাসের দাম সমন্বয় করা হলেও কিছু ভর্তুকি দিতেই হবে। সেক্ষেত্রে আগের অর্থবছরে যে পরিমাণ ভতুর্কি দেওয়া হয়েছিল সে পরিমাণ দিলেই হবে। বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে ২৯ থেকে ৩০ হাজার কোটির টাকার বাজেট বরাদ্দ হতে পারে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ২৬ হাজার কোটি বরাদ্দ দেওয়া হবে। জ্বালানিতে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করার পশাপাশি পুরনো গ্যাস লাইন খুলে ফেলে নতুন করে পাইপ লাইন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর এজন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে গ্যাস সাশ্রয়ের কথাও চিন্তা করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর আরও আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। ঈদের ছুটিতে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির কারণে সব জায়গায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে না পারলেও গ্রাহকদের ধৈর্য ও বিশ্বাসের কারণে বর্তমান সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া যাবে বলে তিনি দাবি করেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]