নতুন আইনে ভ্যাট হার থাকবে পাঁচটি

আমাদের নতুন সময় : 10/06/2019

তাপসী রাবেয়া : ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে পুরোনো আইনের আদলেই নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইন হচ্ছে। নতুন আইনে ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে একক হার থাকছে না। পুরোনো আইনের সাতটি হারের পরিবর্তে নতুন আইনে সব মিলিয়ে পাঁচটি ভ্যাট হার হচ্ছে। এই হারগুলো হলো ২, ৫, ৭.৫, ১০ ও ১৫। আবার পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক ভ্যাট ব্যবস্থাও পুরোপুরি হবে না। হিসাবনিকাশ ব্যবস্থাও আগের মতোই খাতাকলমে রাখা যাবে। সীমিত পরিসরে অনলাইনভিত্তিক ভ্যাট রিটার্ন জমা, ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ দিয়ে আপাতত নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন শুরু হবে। তবে পুরোনো আইনের প্যাকেজ ভ্যাট থাকছে না। কোনো পণ্য বা সেবায় ১৫ শতাংশ ছাড়া অন্য ভ্যাট হার প্রযোজ্য হলে ব্যবসায়ীদের রেয়াত নেওয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে বলে এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। দুই বছর সময় পেলেও এনবিআর নতুন আইন বাস্তবায়নে যথেষ্ট প্রস্তুতি নিতে পারেনি। নতুন আইনে অনলাইনে রিটার্ন জমা, ভ্যাট পরিশোধসহ যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালনার করার কথা ছিল। কিন্তু ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করবে, তা চূড়ান্ত করা যায়নি। আমদানিমূল্যে ৫০ হাজার ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্টার (ইসিআর) ব্যবসায়ীদের দেওয়ার কথা থাকলেও তা দিতে পারেনি এনবিআর।

নতুন ভ্যাট আইন কতটা বাস্তবায়নযোগ্য এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল গত ২৭ মে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগে তো শুরু করি। কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে যত বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে, এর ৯০ শতাংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান (এসএমই)। তাদের কাছে পৌঁছাতে পারলে আমরা অনেক ভ্যাট পাব। এখন তো ঈদ, পয়লা বৈশাখ, খেলাসহ বিভিন্ন উপলক্ষে বিপুল বেচাকেনা হয়। সেখান থেকেও আমরা ভ্যাট পাই। এখন খরচের ওপর নির্ভর করে প্রবৃদ্ধি হয়। খরচ করলেই ভ্যাট পাব।’ নতুন ভ্যাট আইন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে নতুন আইন বাস্তবায়ন শুরু হলেও এনবিআর আইনটি বাস্তবায়নে আপাতত কঠোর অবস্থানে যাবে না। ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব-নিকাশ, ভ্যাট রিটার্নই মেনে নেবে। অনেকটা পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়নের মতো করে নতুন আইনটি চালু হবে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ জন্য সব ব্যবসায়ী সংগঠনে বিশেষ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম সাংবাদিকদের বলেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার পর মাঠপর্যায়ে কোনো সমস্যা হলে এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করবে সরকার। যেমন রেয়াত নিতে না পারলে পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সব ব্যবসায়ী চেম্বার ও সমিতির সভাপতিদের এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করার জন্য আলাদা আলাদা কমিটি গঠনের অনুরোধ করেছে এফবিসিসিআই। নতুন ও পুরোনো আইনের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই। প্যাকেজ ভ্যাট ছাড়া প্রায় সবই বহাল থাকছে। একাধিক ভ্যাট হার, টার্নওভার কর থাকবে। বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক হারও বহাল রাখার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিদ্যমান পুরোনো আইনে ২, ৩, ৪.৫, ৫, ৭, ১০ ও ১৫ এই সাতটি ভ্যাট হার আছে। নতুন আইনে ভ্যাট হার হচ্ছে পাঁচটি। এগুলো হলো ২, ৫, ৭.৫, ১০ ও ১৫। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, পণ্য বা সেবা আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ, উৎপাদনে ১০ শতাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ এবং খুচরায় ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হবে।
প্রথমে চারটি ভ্যাট হার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এখন আরেকটি নতুন হার করা হচ্ছে। এত দিন যেসব পণ্য বা সেবায় ট্যারিফ মূল্য ও সংকুচিত ভিত্তিমূল্যের ওপর ভ্যাট দিত, সেখানে ২ শতাংশ হারে ভ্যাট নির্ধারণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া মৌলিক খাদ্য, নির্ধারিত জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, গণপরিবহন সেবা, গণস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কৃষি, মৎস্য চাষ, দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অবাণিজ্যিক কার্যক্রম, অলাভজনক সাংস্কৃতিক সেবার এসব ক্ষেত্রে মূসক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ১ হাজার ৯৮৩টি পণ্য ও সেবা আছে। নতুন ভ্যাট আইনটি সংশোধন করে আরও বেশ কিছু ছাড় দেওয়া হয়েছে। ২০১২ সালের মূল আইনে বলা হয়েছিল, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেন ৩০ লাখ টাকার কম হলে কোনো ভ্যাট দিতে হবে না। এখন তা বাড়িয়ে ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে। টার্নওভার করের সীমা ন্যূনতম বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এখন থেকে ৮০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা বার্ষিক লেনদেন হলে টার্নওভার কর দিতে হবে। টার্নওভার করহার ৩ শতাংশের পরিবর্তে ৪ শতাংশ করা হচ্ছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]