• প্রচ্ছদ » » নদী মরে গেলেও রেখে যায় তার রেখাচিহ্ন


নদী মরে গেলেও রেখে যায় তার রেখাচিহ্ন

আমাদের নতুন সময় : 10/06/2019

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু

জলিল ভাই অন্ধ, তবে জন্মান্ধ নন। বয়স যখন আঠারো-উনিশ তখন ঘাতকব্যাধি গুটিবসন্তে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। শিশুকাল থেকেই গানের নেশা ছিলো, নানাজনের কণ্ঠে শুনে শুনে অবলীলায় মুখস্থ করে ফেলেছিলেন অসংখ্য, মুর্শিদী, মারফতি, দেহতাত্তি¡ক, বিচ্ছেদি গান। কণ্ঠ, সুর, তাল, লয় ছিলো মোহনীয়। দৃষ্টি হারানোর পর দরিদ্র পরিবারের সন্তান জলিল ভাই এই গানকে সম্বল করে পথে নামেন। তবে ভিক্ষা করতে নয়। হাটে, পথে, আদালত প্রাঙ্গণে, আরিচা ঘাটে, পদ্মা, যমুনায় লঞ্চে, ফেরিতে গান গাইতেন। গান শুনে মুগ্ধ শ্রোতারা দু’হাত ভরে যা দিতেন তাতেই তার সংসার ভালোভাবেই চলতো। আরিচা-নগরবাড়ী, আরিচা-দৌলতদিয়া নৌরুটে শত শত লঞ্চ, ডজন দুয়েক ফেরি চলতো। আরিচা-নগরবাড়ী রুটের যাত্রীদের কাছে জলিল ভাইয়ের কদর ছিলো আকাশ ছোঁয়া। দেড়-দু’ঘণ্টার পথের একঘেঁয়েমী কাটাতে তারা জলিল ভাইকে সঙ্গে নিতেন। লঞ্চ-ফেরির ছাদে বসে উত্তাল নদীতে দরাজকণ্ঠে গলাখুলে গান ধরতেন। শ্রোতারা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে শুনতে গন্তব্যে পৌঁছে যেতেন। বিনিময়ে যা দিতেন তাতে খুশি মনে দিন শেষে বাড়ি ফিরতেন জলিল ভাই। সেই আরিচা ঘাট আজ নেই, নেই আরিচা-নগরবাড়ি রুট। সবচেয়ে বড় কথা জলিল ভাইয়ের সেই কণ্ঠটা নেই। বয়স আর দারিদ্র্য তার কণ্ঠকে পরাভ‚ত করেছে। গাইতে পারেন না। হাঁফিয়ে উঠেন অল্পেই। গলাও ভেঙে আসে। গান থামলে কি হবে, পেটের ক্ষুধার তো আর বিশ্রাম নেই। পথ তো একটাই, আবার পথে নামা, এবার গানের বিনিময়ে নয়, সরাসরি হাত পেতে ভিক্ষা করা। মানিকগঞ্জ শহরসহ পরিচিত এলাকায় স্ত্রীর হাত ধরে ভিক্ষা করে সংসার টানা।
জলিল ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় স্কুলজীবন থেকে। অনেকের মতো আমিও তার গানের মুগ্ধ শ্রোতা ছিলাম। বহুদিন বাড়ির কাছের আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে তার ভরাযৌবনের গান শুনেছি। ব্যক্তিগতভাবে পরিচয়ের গভীরতা বেড়েছে দিনে দিনে বিশেষ করে তার দুঃসময়ের কালে। শত ভিড়ের মাঝেও আমার কণ্ঠ আলাদা করে চিনতে পারেন, নাম ধরে ডাকেন, একসঙ্গে বসে চা খাই। ৬ জুনও একসঙ্গে অনেক সময় কেটেছে উজ্জ্বলের চায়ের দোকানের পাশে। মনটা ভালো ছিলো, শরীরও, তাই অনেকদিন পর মনখুলে গাইতে চেষ্টা করলেন।
কথায় বলে, নদী মরে গেলেও নাকি তার নদী রেখাটা ঠিকই রেখে যায়। জলিল ভাইয়ের কণ্ঠ, সুর, তাল, লয় মন দিয়ে শুনলে এখনো বোঝা যায় যৌবনে তার কণ্ঠের মাদকতা, মোহনীয়তার শক্তি কতোটা প্রবল ছিলো। সময় থাকলে, মন চাইলে শুনতে পারেন তার গান। তবে শুনবার আগে মনে রাখা ভালো জলিল ভাইয়ের বয়সটা সত্তর পার হয়েছে। শরীরজুড়ে বাসা বেঁধেছে শ্বাসকষ্টসহ নানা ব্যাধি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]