• প্রচ্ছদ » আমাদের বাংলাদেশ » প্রধানমন্ত্রী বললেন, একটি ইংরেজী পত্রিকার সম্পাদকের গণতন্ত্র ভালো লাগে না, তার পছন্দ সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর শাসন


প্রধানমন্ত্রী বললেন, একটি ইংরেজী পত্রিকার সম্পাদকের গণতন্ত্র ভালো লাগে না, তার পছন্দ সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর শাসন

আমাদের নতুন সময় : 10/06/2019

আবুল বাশার নূরু : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো পত্রিকার সম্পাদকের গণতান্ত্রিক পন্থা ভালো লাগে না। অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এলেই তারা ভালো থাকেন। সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর শাসনই তাদের পছন্দ। এই বাহিনীর ফরমায়েসি লেখা ছাড়া এই সম্পাদকরা কিছুই লিখতে পারেন না। এখন কোনো ফরমায়েসি লেখা পাচ্ছেন না তাই তারা লিখতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কারো লেখা বন্ধ করতে কোনো চাপ দেইনি। আমার বিরুদ্ধে কে কী লিখলো তা নিয়ে আমি ভাবি না। আমি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কাজ করতেই আমি ভালবাসি। যারা স্বাধীন দেশ চায়নি তাদের উন্নয়ন ভালো লাগে না।

জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড ত্রিদেশীয় সফর নিয়ে গতকাল রোববার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একটি ইংরেজী জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকের বক্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এসময় উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ডয়সে ভেলেকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ইংরেজী জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক বলেছেন, “যা লিখতে চাই তা লিখতে পারছি না”। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, সত্যি যদি কিছু লেখা যাবে না বলে চাপ থাকত তাহলে ঐ সম্পাদক একথা বলতে পারতেন না। দেশের একটি টিভি চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাতকারে সেই সম্পাদক এক এগার সময়ে একটি লেখা প্রসঙ্গে বলেছেন, ডিজিএফআই তাকে লেখাটি লিখতে বলেছিলেন, তাই তিনি লিখেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ঐ সম্পাদক সেই গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ফরমায়েসি লেখা লিখতে পারেন।

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকট নিরসনের জন্য ভারত, চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তারা সবাই রোহিঙ্গার বিষয়টি বাংলাদেশের সংকট বলে স্বীকার করে। কিন্তু কেউ কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না। সবচেয়ে বড় বিষয় মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চাচ্ছে না। এছাড়া আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো চায় না রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরে যাক। এরা ফিরে গেলে অনেকেই চাকুরি হারাবেন এই ভয় কাছ করছে।

এবার ঈদ জামাতের সময় জঙ্গি হামলার হুমকি ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক চেষ্টায় কোনো অঘটন ছাড়াই সব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার পর থেকেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও পুলিশ কড়া নজরদারি শুরু করে। কোথাও কোনো ধরনের তথ্য পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সব বিষয় প্রকাশ করা যায় না। আপনারা জানেন যে নানা নামে নানাভাবে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে নানা ধরনের থ্রেট কিন্তু দিতেই থাকে। সারাক্ষণ কিন্তু এগুলো আসছে। সবটা আমি বলে মানুষকে ভীত করতে চাই না। কিন্তু যতদূর পারি, এগুলোর পেছনে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, তা আমরা নিয়ে থাকি। জঙ্গিবাদ দমনে জনগণের সচেতনতাকে বাংলাদেশের ‘সবচেয়ে বড় শক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

গত বছর শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, তিস্তায় সুবাতাস বইবে। সেই মোদী প্রধানমন্ত্রী পদে পুননির্বাচিত হয়েছেন বিধায় চুক্তির বিষয়ে কী হবে? এমন এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সমুদ্রসীমা নির্ধারণের মতো কঠিন একটা সমস্যার সমাধান করেছি। আমরা আমাদের যে ছিটমহল, সেটা বিনিময় করেছি। অথচ পৃথিবীর বহু দেশে যুদ্ধই বেঁধে যাচ্ছে এই ছিটমহল নিয়ে। আর আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে ছিটমহল বিনিময় করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আরও অনেক কঠিন সমস্যা সমাধান করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের ডেল্টা প্ল্যান নিয়েছি। নদীগুলো ড্রেজিং করে দিচ্ছি। কারও কাছে পানির জন্য মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। কারণ আমাদের এটা হচ্ছে ডেল্টা। হিমালয় থেকে যে নদীগুলো আসছে, বাংলাদেশের উপর দিয়ে যেতেই হবে। এখন পানিটা আমরা কতোখানি ধরে রাখতে পারবো, সেই ব্যবস্থা যদি করি, তাহলে পানি আমাদের চাইতে হবে না। কাজেই এটা নিয়ে বেশি চিন্তা করার দরকার নেই।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী আছে। সবসময় টহলসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]