• প্রচ্ছদ » » হলহলিয়া নদী ব্রহ্মপুত্রের পেটে হারিয়ে যাচ্ছে!


হলহলিয়া নদী ব্রহ্মপুত্রের পেটে হারিয়ে যাচ্ছে!

আমাদের নতুন সময় : 10/06/2019

শেখ রোকন

নদী-বিজ্ঞানে ‘ছিনতাইকারী নদী’ বলে একটা ধারণা আছে। রাতারাতি আরেক নদীর সব পানি নিয়ে নেয়। শুধু পানি ছিনতাই নয়, কখনো কখনো আস্ত নদীও ছিনতাই করে নিতে পারে আরেক নদী। এর নজির দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে। সুদূর অতীতে বৃহত্তর রৌমারীর (বর্তমান রাজীবপুর উপজেলাসহ) বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ব্রহ্মপুত্রের সমান্তরালে প্রবাহিত হতো হলহলিয়া। রৌমারী থেকে ব্রহ্মপুত্রের দিকে গেলে হলহলিয়া পার না হয়ে যাওয়া যেতো না। এখন নদীটির একাধিক অংশ খেয়ে ফেলেছে ব্রহ্মপুত্র। যে কারণে হলহলিয়া এখন টুকরো টুকরো এক নদী। আমার ধারণা হলহলিয়া আরও দীর্ঘ নদী ছিলো। কুড়িগ্রামের রৌমারী-রাজীবপুর পেরিয়ে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত। ফেসবুকেই দেখলাম, একজন একটি ‘বিলের ছবি’ দিয়ে বলছেন, এর নাম হলহলিয়া। একটু ভালোভাবে দেখলেই বোঝা যায় সেটা বিল নয়, প্রাচীন নদী খাত। হতে পারে একসময় হলহলিয়া পুরাতন ব্রহ্মপুত্রে পতিত হতো। হতে পারে ব্রহ্মপুত্রের মূল ¯্রােত যমুনা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আগে হলহলিয়া হয়তো ব্রহ্মপুত্রেরই একটি ধারা ছিলো।
নিজে হললিয়া নদী কতোবার, কতো জায়গায়, কতো রূপে দেখেছি! দুই একবার ছবিও তুলেছি। কিন্তু সেগুলো খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তাই এবার ঈদের ছুটিতে গিয়ে আরেকবার দেখতে গেলাম নদীটি। সঙ্গে ছিলেন নদী অধিকারকর্মী মহিউদ্দিন মহির, প্রিয় মহির ভাই। দেখলাম বলদমারা ঘাটের কাছে হলহলিয়া আরও খানিকটা অংশ ব্রহ্মপুত্রের পেটে ঢুকে গেছে। গতবার যখন দেখি পাখিউড়া যাওয়ার সেতু থেকে আরও খানিকটা লম্বা ছিলো নদীটি। হলহলিয়া ফের ব্রহ্মপুত্র থেকে বের হয়েছে বাগুয়ারচরের কাছে। ভাটিতে গিয়ে আবার ব্রহ্মপুত্রে হারিয়েছে। রাজীবপুরের কোদালকাটির আগে আর বের হতে পারেনি। এই কোদালকাটির চর বীরপ্রতীক তারামন বিবির স্মৃতিধন্য। তিনি মুক্তিযুদ্ধে প্রথম লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন এখানেই, এই হলহলিয়া নদীর তীরেই। তার প্রথম যুদ্ধস্থল কোদালকাটিকে অনেককে ভুলবশত ব্রহ্মপুত্রের চর হিসাবে বর্ণনা করেন। এখন যদিও এর চারদিকে ঘিরে রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদ, একাত্তরে একদিকে ছিলো হলহলিয়া নদী। মুক্তিযোদ্ধারা হলহলিয়া নদী পাড়ি দিয়েই কোদালকাটি যেতেন। পাকবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ঠেকাতে স্ট্রেঞ্চ খনন করা হয়েছিলো হলহলিয়া বরাবর। কোদালকাটি ইউনিয়ন হলহলিয়া নদী দিয়ে বিচ্ছিন্ন ছিলো তৎকালীন থানা সদর রৌমারী থেকে।
মিয়ার চরের কাছে হলহলিয়া থেকে বের হয়েছে সোনাভরি নদী। ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণে’ ওই স্থানে বাঁধ দেয়া হয়েছিলো আশির দশকের শেষভাগে। এখন স্থায়ীভাবে বন্ধ। হলহলিয়ায় ¯্রােত থাকলেও সোনাভরির অবস্থা সঙ্গীন। আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে বেশকিছু সমান্তরাল পুকুরে পরিণত হয়েছে। যেখানে পুকুর নেই, সেখানে চাষাবাদ চলে।
দুই নদীর সংযোগস্থলকে স্থানীয়রা বলেন ‘সোনাভির-মুখ-তলা’। ওখানে শাওন ও শাকিল নামে দুই স্থানীয় বালকের দেখা পেয়েছিলাম। নদীতে গোসল করছিলো, আমাদের দেখে উঠে এসেছে। বেশ সপ্রতিভ। নিজের নাম, স্কুলের নাম, শ্রেণির নাম, গ্রামের নাাম… সবই গড়গড় করে বলে দিলো। কিন্তু পাশের নদীটির নাম জিজ্ঞেস করতেই যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। বাড়ির পাশ দিয়ে নিত্য বয়ে যাওয়া, সদ্য স্নান সেরে ওঠা নদীটির নাম জানে না দেখে খানিকটা বেদনাহত হই সত্য, বিস্মিত হই না। এই চিত্র সারাদেশেই দেখছি। নতুন প্রজন্ম নদীর নাম বিস্মরিত হচ্ছে। হলহলিয়া ও এর অবদান ভুলে যাওয়া আরও স্বাভাবিক। খোদ নদীটিই তো ব্রহ্মপুত্রের পেটে হারিয়ে যাচ্ছে! ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]