ঈদে আনন্দ ছিলো না টাঙ্গাইলের কৃষক পরিবারে

আমাদের নতুন সময় : 11/06/2019

অলক কুমার : ধান কাটার শ্রমিকের দুষ্প্রাপ্যতা, অধিক মজুরি ও বোরো ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় এবার রোজার ঈদে ধান বিক্রি করে খরচ মেটানোর আশা করলেও অধিকাংশ কৃষকের ভাগ্যে তা জোটেনি। টাঙ্গাইলের প্রান্তিক কৃষকদের বর্তমান এমন অবস্থার কথা জানান ভুয়াপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের মো. আব্দুল লতিফ। তার মতে ধান বিক্রি করে ঈদে পোশাক আর ভাল খাবার জোগার করা সম্ভব হয়নি। কারণ এক মন ধান বিক্রি করে এক কেজি মাংস কেনাও যায়নি।
যমুনা নদীর ভান কবলিত গাবসারা ইউনিয়নের আব্দুল লতিফের পেশা মুলত কৃষি। বাবা ইদ্রিস আলীও ছিলেন কৃষক। এলাকায় বেশ অবস্থাশালী কৃষক পরিবার তাদের। চরাঞ্চল হওয়ার কারণে এখানে আউশ ধানের চাষ বেশী হয়ে থাকে। তবে বোরো ধানের আবাদও হয় এ অঞ্চলে। কিন্তু ধানের দাম কম হওয়ায় প্রতিবছরই আবাদ কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ কৃষকরা বোরো আবাদের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। আব্দুল লতিফের মোট প্রায় ২০ বিঘা জমির মধ্যে এবার মাত্র ৪৩ শতাংশ জমিতে বোরো আবাদ করে ধান পেয়েছেন প্রায় ৩৫ মন। ধান বিক্রি করে খরচও উঠছেনা। তাই বোরা ধান বিক্রি করে তিন সন্তানসহ এবার ঈদে পরিবারের কেনাকাটা সম্ভব হয়নি। ধারকর্জ করে ঈদের কেনাকাটা আব্দুল লতিফকে।
উৎপাদিত ধান বিক্রি করে যেখানে খরচই উঠছে না সেখানে ঈদে নতুন কাপড়, ভালো খাবার কেনা কিভাবে সম্ভব? এমন প্রশ্ন করেছেন সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নে কৃষক আব্দুস সাত্তার।
তিনি জানান, আমি আমার পরিবারের কাউকেই কিছু কিনে দিতে পারি নাই। তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করে ৩০ হাজার টাকার বেশি ঘাটতি হইছে। ঈদ করুম কি দিয়া?
দেলদুয়ারের কৃষক মোস্তফা হোসেন জানান, এই দেশে কৃষকের জন্য কোনো ঈদ নাই। ঈদ হইল শিল্পপতিদের জন্য। যারা নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]