টুপকিনের মাধ্যমে বুথের নিয়ন্ত্রণ নেয় জালিয়াত চক্রের সদস্যরা

আমাদের নতুন সময় : 11/06/2019

ইসমাঈল ইমু : এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনা বাইরের দেশে আগেও ঘটেছে। সেসব ক্ষেত্রে জালিয়াত চক্র ‘টুপকিন’ নামে একটি ম্যালওয়ার ব্যবহার করে বুথের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নিয়ে নেয়। টাকা উত্তোলনের সময় ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে যে নির্দেশনা আসার কথা, সেটি তখন চক্রের সদস্যরাই দিয়ে থাকেন।
গত ১ জুন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এটিএম বুথ জালিয়াত চক্রের ৬ সদস্য ধরা পড়ার পর তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা সকলেই ইউক্রেনের নাগরিক।
পুলিশ জানায়, তদন্তে নতুন যে পাঁচটি এটিএম বুথের সন্ধান পাওয়া গেছে, সেগুলো রাজধানীর র্যাডিসন হোটেল, কাকরাইল, রামপুরার ডিআইটি সড়ক ও নিকুঞ্জ এলাকার। গত ৩১ মে প্রথমে মধ্য বাড্ডার বুথ থেকে টাকা চুরি হয়। বাকি সব বুথে চুরি হয় ১ জুন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সাড়ে ১৬ লাখ টাকা চুরির খবর পাওয়া গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাকা চুরির ঘটনায় জালিয়াত চক্রের দুটি গ্রুপ জড়িত ছিলো বলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে জানা গেছে। ১ জুন সন্ধ্যায় খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় ডাচ্-বাংলার এটিএম বুথে ইউক্রেনের দুই নাগরিক টাকা চুরি করতে যান। তাদের একজন ধরা পড়লেও পালিয়ে যান আরেকজন। ওই দিন রাতেই রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেন থেকে ইউক্রেনের আরও পাঁচ নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই চক্রের একজন এখনো পলাতক।
সূত্র জানায়, গত ৩০ মে বিকেলে তুর্কি এয়ারওয়েজের একটি বিমানে করে ইউক্রেন থেকে বাংলাদেশে আসেন সাত নাগরিক। পরদিনই ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মধ্য বাড্ডার দুটি বুথ থেকে ৪ লাখ টাকা চুরি করেন। ৬ জুন তাদের ভারতে যাওয়ার কথা ছিলো। এই সাতজন ছাড়াও জালিয়াত চক্রে আর কারা আছে, তা শনাক্ত করতে ১৫ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত বাংলাদেশে আসা এবং বেরিয়ে যাওয়া ইউক্রেনের সব নাগরিকের তথ্য পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চাওয়া হয়েছে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, জালিয়াত চক্রের এই সদস্যরা ‘হিডেন কুবরা’ নামক একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সদস্য। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ‘লেজারাস’ নামের যে চক্রটি জড়িত ছিলো সেই চক্রের সঙ্গে এদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের এটিএম বুথগুলোতে জালিয়াত চক্র হানা দিতে পারে, এমন তথ্য তারা আন্তর্জাতিক একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আগেই জানতে পেরেছিলেন। সেই তথ্য তারা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছিলেন। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]