• প্রচ্ছদ » » পগারপারের কাহিনি, নায়ক ওসি মোয়াজ্জেম


পগারপারের কাহিনি, নায়ক ওসি মোয়াজ্জেম

আমাদের নতুন সময় : 11/06/2019

কাকন রেজা

নুসরাত হত্যা নিয়ে লিখছি। এটা নিয়ে লেখা খুব সহজ। এই হত্যার ব্যাপারে পুলিশসহ সবার বিরুদ্ধেই বলা যায়। কেন যায়, সেটা আপনি বোঝেন, আমার মতন গাধাও বোঝে। সর্বোচ্চ মহল থেকে গ্রিনসিগন্যাল পাওয়া এই মামলার অভিযুক্তরা জেলে থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। আছেনও। যদিও কাগজে দেখতে পাওয়া তাদের হাসিমুখ কিছুটা উৎকণ্ঠা জাগায়, তারপরেও সান্ত¡না তারা ভেতরে আছেন।
হবে মুশকিল হলো, ওসি মোয়াজ্জেমকে নিয়ে। তার পরোয়ানা গায়েব হয়ে যায়, হইচই করে উঠে গণমাধ্যম। করবেই তো এ বিষয়ে ছাড় দেয়া আছে, ‘হইচই’য়ে সমস্যা নেই। কিন্তু পরোয়ানা গায়েবই শেষ কথা নয়, যখন স্বয়ং ওসিই গায়েব হয়ে যান, তখনই ঝামেলাটা বাধে। কেউ কেউ হয়তো চিন্তায় বসে যান, কতোটা ‘হই’ বা কতোটা ‘চই’ করা যাবে। অবশ্য তারপরেও কেউ কেউ লিখে। যেমন, প্রথম আলো লিখেছে, ‘পরোয়ানা মাথায় নিয়ে সটকে পড়লেন ওসি মোয়াজ্জেম’। এক সপ্তাহ ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পড়েছিলো, আর এ সময়ের মাঝেই পগারপার হয়েছেন কীর্তিমান সেই ওসি। বলি, ওসি পগারপার না হবার কী কথা ছিলো? ওসি থাকলে এবং তিনি সর্ব ব্যাপারে মুখ খুললে বিষয়টি লেজেগোবরে হয়ে যেতো না। বুমেরাংও হতে পারতো। সুতরাং তার একটা এক্সিট না থাকার তো কোনো কারণ নেই।
আচ্ছা একটি সরল প্রশ্ন করি, উঠে যাওয়া পাটিগণিতের সরল অংকের মতন। নুসরাত হত্যাকাÐ নিয়ে এতোকিছু হচ্ছে, এমন অন্যান্য হত্যাকাÐগুলো হালে পানি পাচ্ছে না কেন? আগেই বলেছি সরল প্রশ্ন। কদিন আগে বাড়ি ফিরতে গিয়ে বাসে ধর্ষিতা হয়ে প্রাণ হারলো তানিয়া। কই এটা নিয়ে প্রশ্ন নেই তো কোথাও। স্বর্ণলতা না কী যেন নাম বাসটির, সেটিওতো সেই নামেই রাস্তায় চলছে। সেই বাস মালিক রয়েছেন বহাল তবিয়তে। হয়তো বলছেন, বাসে এমনটা হয়েই থাকে।
কদিন আগেও এক গৃহবধুকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার নামও মনে নেই। যেহেতু তার খবর এতোটা ফলাও করেনি কোনো মাধ্যম। সামাজিকমাধ্যমও অতোটা সরব হয়নি। এর অবশ্য কারণও রয়েছে। ওই গৃহবধুর মৃত্যুতে কোনো রাজনীতি নেই। এমন খবরে রাজনীতিটা খুব দরকার। তা না থাকা মানে ওতে খুব একটা সুবিধা নেই। বিরোধীরা বলতে পারবে না, দেখো সরকারদলীয়রা এর সাথে জড়িত। বিপরীতে সরকারকেও বলতে হবে না, অন্যায়কারী যেই হোক আমরা তাকে ছাড় দিই না। যেমন, নুসরাতের বেলায় কাউকে ছাড় দিইনি। কথাটা শুনতে খুব ভালো শোনায় না। কিন্তু এক নুসরাত হত্যার বিচারই শেষ বিচার নয়। আর এক বিচারেই, গ্রেপ্তারেই যে সব ভয়ে পেয়ে যাবে লক্ষণ কিন্তু তেমনটা বলে না। না হলে, নুসরাতের পর তানিয়া ধর্ষণ-হত্যাসহ অন্যান্য ঘটনা ঘটতো না। রেল লাইনে পড়ে থাকতো না তরুণ সাংবাদিকের লাশ।
একটা বিচার চলছে, হয়তো অপরাধীরা শাস্তি পাবে। কিন্তু এই বিচার যদি দৃষ্টান্ত না হয়, মানুষ যদি বহুল প্রচলিত কথায় বিষয়টিকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ ধরে নেয় তবেই মুশকিল। আর এই মুশকিলের কোনো আছান নেই। আগেই বলেছি, আছান না থাকার লক্ষণ চারিদিকে স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর। স¤প্রতি একটি লক্ষণের কথা বলি। এবার ঈদের দিন অসুস্থ বাবার ঔষধ আনতে যাবার পথে ধর্ষিতা হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির এক বালিকা। ঘটনাটি ঢাকার কাছে নরসিংদীতে। তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিলো। ভাগ্যিস, লোকজন চিৎকার শুনে ফেলায় এ যাত্রায় বেঁচে গেছে মেয়েটি। ঘটনাটি নিয়ে খুব বেশি মাধ্যম খবর করেনি। সামাজিকমাধ্যমেও খুব একটা ‘হইচই’ নেই। কেন নেই- এরমধ্যে কোন পক্ষ নেই বলে, রাজনীতি নেই বলে, সুবিধা নেই বলে।
এখানে সবাই সুবিধা খোঁজে। জন্ম থেকে মৃত্যু সবটাতেই হিসাব করে লাভক্ষতির। এখানে জন্মদিনেও গানবাজনা হয়, হয় মৃত্যুদিনেও। এখানে সুবিধার বাটখাঁড়ায় মাপা হয় ভালো-মন্দের পরিমান। পাটিগণিত উঠে যাওয়ায় এখানের সরল অংক বড়ই জটিল হয়ে দাঁড়ায়। আর সেই অংকের ফলাফল মেলে না প্রায়শই। লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]