পলাতক ১২৬ মানবতাবিরোধী আসামি, কমিটি গঠনের ৪ বছরে গ্রেপ্তার হননি একজনও

আমাদের নতুন সময় : 11/06/2019

এস এম নূর মোহাম্মদ : মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি সাতক্ষীরার জহিরুল ইসলাম ওরফে টিক্কা খান (৬৭) বিচার চলমান অবস্থায় মারা যান ভারতে। গত ১৩ মে ভোরের দিকে ভারত থেকে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত নেত্রকোণার পলাতক আসামি নূর উদ্দিনের (৭০) মৃত্যু হয় গত ১৫ এপ্রিল। গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় পলাতক ছিলেন এই আসামি। বিচারচলা অবস্থায় শেরপুরের ইমদাদুল হক মারা যান গত ২ জানুয়ারি। বাগেরহাটের মোকছেদ আলী দিদার মারা যান ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি। ২০১৭ সালের ২৯ জুলাই মারা যান ময়মনসিংহের কাজী বদরুজ্জামান। একই এলাকার নুরুল আমিন সুজন মারা যান গত বছরের ১৫ জানুয়ারি। ২০১৬ সালের ৩ ডিসেম্বর মারা যান গাইবান্ধার আজগর হোসেন খান। একই বছরের ২২ ডিসেম্বর মারা যান কক্সবাজারের আব্দুল মজিত।

শুধু মাত্র আজগর হোসেন কিংবা টিক্কা খানই নন আরও অনেকের ক্ষেত্রেই এভাবে পলাতক অবস্থায় মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে পালিয়ে থেকে মারা গেলেও এদের গ্রেফতার করতে পারছেনা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পলাতক থেকে জীবন-যাপন করছেন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ১২৬ জন আসামি। এদের মধ্যে বিচার চলমান রয়েছে ৮২ জনের। যাদের সবার বিরুদ্ধেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এর বাইরে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত পলাতক আসামি রয়েছেন ৩২ জন। আর আমৃত্যু কারাদ- সাজা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ১২ জন। মাঝেমধ্যে পলাতক আসামিদের অনেকের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। তবে জীবিত অবস্থায় তাদের গ্রেফতার করতে পারছেনা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। কেবল মারা গেলেই তাদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ।

এর আগে বিচারাধীন মামলাগুলোতে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় অসন্তোষ জানিয়েছিলেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের গ্রেফতারের জন্য ২০১৫ সালের ১৩ মে একটি তদারকি সেল বা কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। নির্দেশ অনুযায়ী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় একই বছরের ২১ মে মনিটরিং সেল গঠন করে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। এছাড়াও একজন অ্যাডিশনাল ডিআইজি, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ ও তদন্ত সংস্থার একজন প্রতিনিধি রয়েছেন কমিটিতে।

তবে মনিটরিং সেল গঠনের পর ৪ বছর পার হলেও এখনো পর্যন্ত কোন পলাতক আসামিকেই গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর প্রাথমিক তদন্তের একটি পর্যায়ে আসামিদের গ্রেফতারে উদ্যোগ নেয়া হয়। পরোয়ানা জারি করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে।  তবে পলাতকদের গ্রেফতারে কোন অর্জন না থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন বিচার কাজের সঙ্গে জড়িতরা।

জানতে চাইলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারাটা দুঃখজনক। অথচ এদের গ্রেফতার করার জন্য একটি শক্তিশালী কমিটিও রয়েছে। তবে এ কমিটির জোরালো কোন ভূমিকা পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে জানান তিনি। আর এতে বিচারপ্রার্থী ও ভোক্তভোগী শহীদ পরিবার হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। আমরা প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে বার বার এ বিষয়ে আকুতি জানিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তৎপর হলেই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব। তিনি বলেন আমি কমিটিতে আছি। কমিটির মিটিং নিয়মিত হয়না। আমি ব্যস্ততার কারণে যেতে পারিনা। প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন মিটিং-এ অংশ নেন। আর মিটিং হলেও জোরালো কোন পদক্ষেপ গৃহিত হয়না। আমরা ট্রাইব্যুনালকে বহুবার বিষয়টি অবহিত করেছি। ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে বিষয়টি স্পষ্ট করছে। আদেশ দিচ্ছে। এর বাইরে আর কি করবে।

প্রসিকিউটর রানা দাস গুপ্ত বলনে, আমার মনে হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আদেশ কার্যকরের ক্ষেত্রে তাদের শৈথিল্যতা বা উদাসীনতা আছে। নইলে দেশে থাকে, দেশেই মারা যায় অথচ গ্রেফতার হয়না। এরমধ্যে দুর্নীতির কোন ছোয়া আছে বলে মনে হয়। নইলে এমনটা হওয়ার কথা না। পুলিশ বলছে আসামিকে পাওয়া যাচ্ছেনা, অথচ সে মারা যাওয়ার পর খবর পাওয়া যাচ্ছে। তাহলে কেন হচ্ছে এমনটা। এখানে জবাবদিহীতার একটা বিষয় আছে। আর যে জবাবদিহী হয় সেটা অনেকটা দায়সার গোছের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রসিকিউটর তাপসকান্তি বল বলেন, এটি খুবই হতাশাজনক একটি বিষয়। এছাড়া কয়েকবার ট্রাইব্যুনালও এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আসামি গ্রেফতার থাকলে বিচার দ্রুত শেষ হয়। আর পলাতক থাকলে বিচার কিছুটা বিলম্বিত হয়। তাই আমি মনে করি পুলিশের আরও তৎপর হওয়া দরকার। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]