• প্রচ্ছদ » » পিএইচডির জন্য একেকজনকে তিন কোটি টাকা করে দেয়া কি আমাদের মানায়?


পিএইচডির জন্য একেকজনকে তিন কোটি টাকা করে দেয়া কি আমাদের মানায়?

আমাদের নতুন সময় : 11/06/2019

কামরুল হাসান মামুন

এবার ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা গড়ে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাগে ১.৫ কোটি টাকারও কম। ঠিক একই সময়ে ১০০টি উপজেলার ইউএনওদের জন্য ৯০ লাখের চেয়েও বেশি দামের গাড়ি দেয়া হচ্ছে। শুনেছি কৃষি কর্মকর্তাদেরও এ রকম গাড়ি দেয়া হচ্ছে। তারা গাড়ি পাক সেটা সমস্যা নয়। সমস্যা হলো আমাদের প্রায়োরিটি নির্বাচনে। এ রকম আরো অনেক বিষয়েই আমরা প্রায়োরিটি নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছি বলে আমার বিশ্বাস। আমরা যে এতো টাকা খরচ করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পাঠালাম এটার কতোটুকু লাভ হচ্ছে। ওই টাকাটা আগে শিক্ষায় ব্যয় করে দেশ যখন শিক্ষায় মোটামোটি মানে পৌঁছতো তারপর স্যাটেলাইটের কথা চিন্তা করাটা কি বেশি যুক্তিসঙ্গত ছিলো না? তারপর আবার দেখি প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ নামে একটি ফেলোশিপ চালু করে সরকারি কর্মকর্তাদের পিএইচডি/মাস্টার্স করতে বিদেশ পাঠানো হচ্ছে। এখানেও একটি কাজ করতে পারতো! ভারতের সঙ্গে গঙট করে অনেক কম খরচে ভারতে পিএইচডি করতে পাঠাতে পারতাম। এমনকি ব্রিটেনের সঙ্গে গঙট করে কম খরচে ওখানে পিএইচডি করাতে পারতাম। গবেষণায় নামমাত্র টাকা বরাদ্দ দিয়ে এভাবে টাকা খরচ করা কি মানায়? পিএইচডির জন্য একেকজনকে তিন কোটি টাকা করে দেয়া কি আমাদের মানায়? আমরাও তো পিএইচডি পোস্ট-ডক করেছি। রাষ্ট্রের একটি টাকাও তো নিইনি। উল্টো বৈদেশিক মুদ্রা দেশে নিয়ে এসেছি।
কয়েকদিন আগে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিং প্রকাশিত হলো সেটার মাধ্যমে কি শিক্ষায় আমাদের করুণ অবস্থাটাই প্রকাশিত হলো না? যুদ্ধাপরাধী, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে যেই দেশ দায়ী সেই পাকিস্তানের অবস্থান আমাদের চেয়ে এতো ভালো দেখতে আমাদের তো ভালো লাগে না। পাশের দেশ ভারতের শিক্ষার কথা তো বলাই বাহুল্য। তারা মদের ধরাছোঁয়ারও বাইরে। র‌্যাংকিংয়ে সংখ্যা ও মানে এই দিয়েই পাকিস্তানের অবস্থান আমাদের থেকে ঢের ভালো। হবে না কেন? এবার ইমরান খান ক্ষমতায় এসে প্রথমেই ঘোষণা দিলেন তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে উঠবেন না। এতো বড় রাজপ্রসাদে থাকবেন না। উল্টো তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন এটিকে তিনি একটি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করবেন। কথা বলেই তিনি শেষ করেননি। শুনেছি চীন, ইউরোপ, আমেরিকা ও পাকিস্তানের অনেক স্কলারদের নিয়ে এই বিষয়ে একটি সম্মেলনও করেছেন। সিদ্ধান্ত হয় প্রথমে একটি অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইনস্টিটিউট করা হবে পরে ধীরে ধীরে এটাকে উন্নত মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা হবে।
আমরা কি করছি? আমরা শুধু সংখ্যা বাড়াচ্ছি। জিপিএ ফাইভ পাওয়ার সংখ্যা, গ্রাজুয়েট সার্টিফিকেটধারীর সংখ্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ইত্যাদি কেবল বাড়িয়েই যাচ্ছি। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্ভিক্ষের মানুষগুলোর মতো অনাহারে-অপুষ্টিতে জর্জরিত। ভাবা যায় ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার জন্য ৬৪ কোটি টাকা। শুনেছি হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটির খধহফ ঝঁৎাবুরহম ধহফ এবড়-ওহভড়ৎসধঃরপং বিভাগের শুধু পোস্ট-ডক পিএইচডি গবেষকদের বেতন ও স্কলারশিপ বাবদ বছরে খরচ প্রায় ১৮ কোটি টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১টি বিভাগে এ খাতে বছরে আনুমানিক খরচ হয় প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকা। এখানে কিন্তু শিক্ষকদের গবেষণা প্রকল্প বাবদ খরচ ধরা হয়নি। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ল্যাবের আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ে প্রতিবছর কি পরিমাণ খরচ হয়, তা বোধহয় আমাদের কল্পনার অতীত। এমনি এমনিই কি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং ১৫৯? আর আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেট হলো ৬০০-৭০০ কোটি টাকা? আর প্রান্তিক লেভেলে যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আছে তাদের কথা না হয় নাই বললাম। বাজেটের প্রায় পুরো টাকাটাই ব্যয় হয় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বেতন-ভাতাদি দিতে। উন্নয়ন প্রকল্পের খাত থেকে কিছু বরাদ্দ আসে যা দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ হয়, কিন্তু সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো টাকা বরাদ্দ থাকে না। ফলে নির্মাণের দু-এক বছরের মধ্যেই দেখতে মনে হয় শত বছরের পুরানো! আর ইউরোপ আমেরিকার অনেক শত বছরের পুরানো অবকাঠামো দেখলে মনে হয় গতকাল বানিয়েছে। অথচ আমরা যদি ক্যান্টনমেন্ট এলাকা যাই দেখি তার উল্টো চিত্র। ঠিক যেমনটি হওয়া উচিত ছিলো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেহারা সেটা হয়েছে আমাদের ক্যান্টনমেন্ট। কেউ কি কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাবে গিয়েছেন? কোনো শিক্ষকের অফিস কক্ষে গিয়েছেন? কোনো ল্যাবে গিয়েছেন? কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে গিয়েছেন? ছাত্রদের আবাসিক অবস্থা দেখেছেন? এসবই রাষ্ট্রের মারাত্মক অবহেলার স্বাক্ষর। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]