• প্রচ্ছদ » » বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোয় ‘আইন’ ছাড়া চলার কি কোনো উপায় আছে?


বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোয় ‘আইন’ ছাড়া চলার কি কোনো উপায় আছে?

আমাদের নতুন সময় : 11/06/2019

জ্যোতির্ময় বড়–য়া

কর দেয়ার সময় এলেই আমার কেবল মনে হয় কেন কর দেয় লোকে? দেশ থেকে প্রতিবছর সত্তর হাজার কোটি টাকা পাচার হওয়ার অভিযোগ আছে যা নিয়ে আজ পর্যন্ত কোনো দায়িত্বশীল পক্ষ থেকে বলা হলো না যে, বিষয়টা খতিয়ে দেখা হবে বা হয়েছে। কেবল রাজনৈতিক গালগল্প ছাড়া দায়িত্ব নিয়ে কেউ কোনো মন্তব্য করেননি। এদেশের নাগরিকরা সর্বংসহা, তারা এসব নিয়ে বিচলিত নয়। নাগরিকদের দেয়া করের টাকায় কি হয় তা নিয়ে জানার কোনো সুযোগ নেই। জানার কোনো চেষ্টাও নেই। সংবিধানের ৮০ থেকে ৯০ অনুচ্ছেদ পড়ে দেখলে বুঝতে পারবেন ‘অর্থ বিল’ নিয়ে কথা বলার সুযোগ রাষ্ট্রপতিরও নেই। কেন নেই? দেশের কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বাকি নেই যেটা তার নিজের নিয়মে কাজ করছে, তাতেও কিছু আসে যায় না আমাদের। চারদিকে এতো অন্যায়, অনিয়ম কিছুতেই কিছু আসে যায় না আমাদের। এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পেছনে কারণ কি? শাসকশ্রেণি বরাবরই তাদের সুবিধামতো ন্যারেটিভ তৈরি করে, কিন্তু তার পাশাপাশি জনগণের নিজস্ব ন্যারেটিভ থাকে। সেই ন্যারেটিভ কোথায়? এই জোরালো ন্যারেটিভ না থাকার পেছনে কারণ কি? বিভিন্নভাবে নাগরিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেটি তো তাদের এতোদিনে বুঝতে না পারার কথা নয়। শাসন ব্যবস্থার সংকট বুঝতে না পারারই কোনো সুযোগ নেই। তাহলে কি কারণ? নিজে মারা যাচ্ছেন না এটা কি কারণ হিসেবে যথেষ্ট। ঈদে বাড়ি যেতে গিয়ে কতোজন মারা গেলেন? কেন মারা গেলেন? এসব প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গে মনে আসে আইনের কথা, কিন্তু দেশের আইন সম্পর্কে সাধারণ নাগরিকরা কতোটুকু জানেন? তাদের জানানোর জন্য কোনো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা কি আছে? বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোয় ‘আইন’ ছাড়া চলার কি কোনো উপায় আছে? তাহলে আইনকে সাধারণের দরোজা পর্যন্ত পৌঁছানোর উপায় কি?
দেওয়ানি আদালতের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে কী ভাবেন দেশের জনগণ? এতে বিচার পেতে দেরি হয় বা কখনো পাওয়া যায় না। অনেকে আবার মামলাই করেন দেরি করে অন্যকে হয়রানি করার জন্য। এতো পুরানো কথা কিন্তু এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য কে কে চেষ্টা করেছেন? সাধারণ নাগরিক তার নিজের ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা নিয়ে কি কেবল অভিযোগ করবে না পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করবে? ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা নিয়ে জনহতাশা আলাদা করে বলার কিছু নেই। যে কারণে ক্রসফায়ারের মতো ঘৃণ্য একটি অপরাধকেও এদেশের মানুষ মুখ বুজে সহ্য করে, নীরব থেকে অনুমোদন দেয়। কিন্তু পরিবর্তনের জন্য কাজ করে না, ফলে ক‚পমন্ডুক বলতে যা বোঝায়, আমরা ঠিক তাই। কুয়োর মধ্যেই আমাদের বাস, কুয়োতেই মৃত্যু। ভেবে দেখেন কেবল অভিযোগ করবেন নাকি পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]