• প্রচ্ছদ » » ভারতের কর্ণাটকের শঙ্কর গৌড়া : এ যুগের ডাক্তার নর্মান বেথুন


ভারতের কর্ণাটকের শঙ্কর গৌড়া : এ যুগের ডাক্তার নর্মান বেথুন

আমাদের নতুন সময় : 11/06/2019

অঁজিষ্ণু অভি

ডাক্তার মানেই কসাই তা নয়। ডাক্তার হবেন ভগবানের প্রতিরূপÑ এমনটি যারা বিশ্বাস করেন বা করতে ভালোবাসেন তারা আশাহত হবেন না। প্রাইভেট চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত বিলাসে সবাই পশু হয়ে যাননি। ডাক্তার নর্মান বেথুনের মতো অনেকেই বিশ্বাস করেন, ডাক্তারের কাছে রোগীকে নয়, ডাক্তারকেই রোগীর কাছে পৌঁছতে হবে। যার অর্থ আছে তিনিই চিকিৎসা পাবেন তা নয়, যার অর্থ নেই তারও চিকিৎসা পাবার অধিকার আছে। ছবিতে দেওয়ালে হেলান দিয়ে বসে থাকতে দেখছেন এক ভদ্রলোককে। সাধারণ পোশাক, খালি পা, হাতে কমদামি ঘড়ি, তিন টাকা দামের পেন নিয়ে কি যেন লিখে চলেছেন! আসুন পরিচয় পর্বটা সেরে ফেলা যাক। তিনি কর্ণাটকে রাজ্যের মন্ডয়ার একজন কৃতি সন্তান। নাম ডাক্তার শঙ্কর গৌড়া। ফুটপাথে বসে আছেন এজন্য হাতুড়ে ডাক্তার ভাববেন না, কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন, এরপর মেডিসিনে নিয়েছেন এমডি ডিগ্রি। অথচ নিজস্ব কোনো চেম্বার নেই। একটা অত্যাধুনিক চেম্বার বানাতে কয়েক লাখ টাকা খরচ। পাবেন কোথায়? সম্বল বলতে আছে নিজের পৈত্রিক দুই কামরার ঘর, সেটাও শহর থেকে বহু দূরে। সেখান যদি বসেন তবে পেসেন্ট আসবে কীভাবে?
পাঁচশ/এক হাজার টাকা ভিজিট দিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য থাক দূরের কথা, বিশ-ত্রিশ কিলো ভাড়া দিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখাবেন সেই সামর্থ্যই তো নেই এ দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর। তাই তিনি ভাবলেন তাকেই রোগীদের দ্বারে পৌঁছতে হবে। প্রতিদিন সকাল আটটায় পৌঁছে যান একটা ফাস্টফুডের দোকানের রকে। সেখানে বসেই ওভাবে দেওয়ালে হেলান দিয়ে রোগী দেখেন, যতোক্ষণ না রোগীর লাইন শেষ হয়। ঔষধও লেখেন সস্তা দামের এবং সহজলভ্য যাতে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষগুলো কিনে খেতে পারেন। দেশের শীর্ষ একটি মেডিকেল কলেজ হতে এমবিবিএস পাস করা এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ভিজিট কতো জানেন? হাসবেন না প্লিজ। পাঁচ টাকা মাত্র। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন, পাঁচ টাকা। আজকের যুগে যেখানে চিকিৎসার নামে গরিবের পকেট কাটা হচ্ছে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিজের বিবেক এবং মনুষত্ব বিক্রি করে দিয়ে এসি রুমে বসছেন আর কসাইয়ের মতো ছয়শো-এক হাজার টাকা ফি নিচ্ছেন ধনী-দরিদ্র বৈষম্য না করে। আবার অপ্রয়োজনীয় দশ-বারোটি টেস্ট ধরিয়ে দিচ্ছেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো হতে কমিশনের জন্য সেই যুগে ডাক্তার শঙ্কর গৌড়া, গরিবের কাছে যেন স্বর্গীয় দূত। চাইলেই তিনি পারতেন কোনো প্রাইভেট হাসপাতালে যোগ দিতে, কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এসিরুমে বসে নিজের বিবেক মনুষত্ব বিক্রি করে কেবল নিজের পকেট ভরিয়ে তুলতে। কিন্তু তিনি তা করেননি, কেননা তিনি ভুলে যাননি তার সেবাধর্ম। এমন একজন মানুষের জন্য আমরা গর্বিত। ডাক্তার গৌড়ারা এখনো দু-চারজন আছে বলেই এখনো বিশাল জনগোষ্ঠী বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। ডাক্তার শঙ্কর গৌড়ার চরণে সশ্রদ্ধ প্রণাম। আপনি দীর্ঘজীবী হন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]