লিখছি, আমার নায়িকাকে নিয়ে!

আমাদের নতুন সময় : 11/06/2019

মুস্তাফা জামান আব্বাসী

একটা প্লট বারবার আসছে, আর অর্ধেক না লিখতেই কারেন্ট চলে যাচ্ছে। যে এসেছিলো সামনে, সে চিরদিনের জন্য আমার চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। এমনি কয়েকবার। তাহলে কার কথা বলতে চেয়েছিলাম? কবিতা লিখবো, না গানে, না গল্পে? তা হলে গল্পে বলি।
সদরঘাটে ভীষণ ভীড়। কোথাও জায়গা নেই। তাও পেলাম সবচেয়ে খারাপ সিট। তাহলে কি হবে আমার পাশে যে বসেছে সে আমার নায়িকা। তাকে দেখিনি। সে আমার দিকে একবারও ফিরে তাকায়নি। ভিড় পাতলা হলে বললো, আপনাকে চেনা চেনা লাগছে। আপনি কি…? বললাম, চিনাবাদাম খাবে? সে অনায়াসে বললো, খাবো এবং বাধ্য মেয়ের মতো চিনাবাদামের খোসা ছাড়িয়ে মুখে দিলো। সবচেয়ে ভদ্রতা করলো, যখন ছাড়িয়ে আমার হাতে খেতে দিলো আমি মুহূর্তে মেয়েটিকে বোঝার চেষ্টা করলাম। মেডিকেলে পড়ে সেকেন্ড ইয়ার। ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছে। তার স্বপ্ন আর কিছু নয়, ডাক্তার হওয়া। সারা গ্রামে একটাও ডাক্তার নেই। সে সবার পাশে দাঁড়াবে। চিনাবাদাম শেষ। এবার এলো চিপস। একটি তাকে ধরিয়ে দিলাম। বললো, আমার সবচেয়ে পছন্দের জিনিস। স্টিমার ছেড়ে দিলো। হালকা বাতাস। মনটাকে হালকা করে দিলো। বললো, আপনাকে আমি চিনতে পেরেছি। আপনি আমার একজন মনোনীত লেখক। যদিও আমার লেখা বেশি বই নেই এবং খবরের কাগজওয়ালাদের সঙ্গে তেমন পরিচয় নেই। তবু সে আমার নামটি কীভাবে সংগ্রহ করলো। ভেবে অবাক হলাম। এরপর আলাপ অনেকদূর এগিয়ে চললো। লেখাপড়া, গ্রামের গল্প, জীবন কেমন, সব। এরপর সে এমন কথা বলেনি, যা বলার। আমি তার সব কথা সংগ্রহ করেছি। সে সংগ্রহ নিয়ে আমি আমার লেখাকে এগিয়ে নিতে পারি। যেদিকে খুশি। এটিকে নাটক বানানো যায়। আবার ছোট কবিতা, আবার ছোট গল্প। কোনটা আপনার পছন্দ?
এরপর যা হলো তা ¯্রফে নাটক। মেয়েটি হঠাৎ অতিরিক্ত গরমে অজ্ঞান হয়ে পড়লো। আমি তার একমাত্র আত্মীয়ের মতো যা করার তা করলাম। পানি খাওয়ালাম, মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। বললাম, তোমার কিছু হয়নি। আমি তোমার দায়িত্ব নিলাম, ল²ী মেয়ে। ধীরে ধীরে গন্তব্যে এগোচ্ছি। খাওয়ার অর্ডার দিলাম। তাকে নিজের মেয়ের মতো খাইয়ে দিলাম। সে বশ্যতা স্বীকার করলো। লঞ্চঘাটে রিকশা নিলাম। এটা আমার গন্তব্য নয়। তবুও। মেয়েটি বললো, আপনাকে ভোলা যাবে না। আমার নাম আমিনা। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]