• প্রচ্ছদ » » সাম্প্রদায়িকতা এক নিকৃষ্ট প্রবণতা, এ থেকে মুক্ত না থাকলে কেবল অপরেরই ক্ষতি হবে না, নিজেও নিকৃষ্ট জীবে পরিণত হতে হবে


সাম্প্রদায়িকতা এক নিকৃষ্ট প্রবণতা, এ থেকে মুক্ত না থাকলে কেবল অপরেরই ক্ষতি হবে না, নিজেও নিকৃষ্ট জীবে পরিণত হতে হবে

আমাদের নতুন সময় : 11/06/2019

ফারুক ওয়াসিফ

এক ফেসবুক বন্ধু আনন্দের সঙ্গে একটা বিজেপি লিংক শেয়ার করেছেন। সেখানে বলা হচ্ছে, বখতিয়ার খিলজী নাকি বিহারের প্রাচীন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করেছেন। ধ্বংস করলে কথা ছিলো না, কিন্তু প্রমাণ তো নেই আজ অবধি। আল বেরুনীর কিতাবÑউল-হিন্দে (১০৩০ খ্রি.) বিহারের অন্য কথা থাকলেও নালন্দার কথা নেই। রোমিলা থাপার, ইরফান হবিব, রিচার্ড ইটন, মোহাম্মদ সাজ্জাদ প্রমুখ নামকরা ইতিহাসবিদরা এসব নিয়ে লিখেছেন। কয়েকটি লিংক নিচে দিলাম।
একাদশ শতকের ইতিহাসবিদ মিনহাজ শিরাজী সেসময়ের বিবরণ লিখেছেন, যদুনাথ সরকার লিখেছেন প্রাচীন বাংলার ইতিহাস। এরা দুজনই বলছেন, বখতিয়ার খিলজী বিহারের রাজার দুর্গ আক্রমণ করেন, নালন্দা সে জায়গা থেকে অনেক দূরের স্থান। এমনকি ত্রয়োদশ শতকে লেখা তারানাথের ভারতে বৌদ্ধ ইতিহাস বইয়ে হিন্দু-বৌদ্ধ সংঘাতের কথা আছে, মুসলমান-বৌদ্ধ সংঘাতের কথা নেই। ১৭ ও ১৮ শতকের তিব্বতি লেখালেখির ভাষ্যও সেরকম।
তুর্কিদের আসবার অনেক আগেই কমপক্ষে দুবার হিন্দু রাজাদের হাতে নালন্দা ধ্বংসের বিবরণ বরং অনেক প্রামাণিক। কোনো প্রতœতাত্তি¡ক অনুসন্ধানেও বখতিয়ার খিলজীর নালন্দা ধ্বংসের আলামত মেলেনি। হিন্দু-মুসলিম কিংবা হিন্দু-মুসলমান রেষারেষির গল্পের তুমুল প্রচার চলে বরং ব্রিটিশ আমলে। তারা দেখাবার চেষ্টা করে হিন্দুদের যে, মুসলমান শাসকদের হাত থেকে আমরা তোমাদের বাঁচিয়েছি। সেই বাঁচানোর পরিণাম, সমৃদ্ধ ভারতের ধ্বংস, শিক্ষা-দীক্ষা-বিজ্ঞান-সংস্কৃতিতে ভারতের পিছিয়ে পড়া। কোটি কোটি মানুষের দুর্ভিক্ষে মৃত্যু এবং জাতীয় অমর্যাদার দুইশ বছর। তবে সে আমলে পাঠানদের দ্বারা আফগানদের মসজিদ ধ্বংস, মুসলমান রাজার সঙ্গে হিন্দু রাজার যুদ্ধে সেই রাজার প্রভাবের পতনের প্রমাণ হিসেবে মন্দির ধ্বংসের এবং আবার তা নির্মাণ করে দেবার ইতিহাস আছে। এই ধ্বংস ও নির্মাণকে সাম্প্রদায়িক হিংসা বা প্রীতি বলা যায় না। নইলে এক মুসলমান শাসক দ্বারা অন্য মুসলমান শাসকের মসজিদ বা দরগা ধ্বংসের ঘটনা ঘটতো না।
ইতিহাস আজ সংঘাতের বিরাট জ্বালানিক্ষেত্র। ইতিহাস নিয়ে কিছু করার আগে তাই ভাবুন। নিশ্চয়ই সাম্প্রদায়িকতা এক নিকৃষ্ট প্রবণতা, এ থেকে মুক্ত না থাকলে কেবল অপরেরই ক্ষতি হবে না, নিজেও নিকৃষ্ট জীবে পরিণত হতে হবে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]