• প্রচ্ছদ » » এখন কি মহাকাব্য রচনার কালপর্ব শেষ?


এখন কি মহাকাব্য রচনার কালপর্ব শেষ?

আমাদের নতুন সময় : 12/06/2019

হাসান মুরাদ সিদ্দিক

ইতিহাসের কালপর্বে মহাকাব্য লেখার সময়টা অতিক্রান্ত হয়েছে বহুপূর্বে। তখন রাজার সেবাদাসরা রাজন্যের স্তুতি রচনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকতো। সময়ের প্রেক্ষিতটা ছিলো এ রকম যে, বীরত্ব জাহির করার জন্য রাজ্যের চৌকস, লড়াকু এবং সাহসীরাই যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হতো এবং তাদের বেশিরভাগ ছিলো উঁচুকোটির আমাত্যজন। সেসব আমাত্যজনের বীরত্বব্যঞ্জক শ্লোকগাঁথাই কালের ইতিহাসে ‘মহাকাব্যে’র স্থান দখল করে আছে। আমরা আমাদের সাহিত্যের বড় মÐপে যেসব মহাকাব্যের সন্ধান পাই তা কোনো না কোনো, কারো না কারো বীরত্বের কাব্যিক রসায়ন। প্রশ্ন আসতে পারে, এখন কি মহাকাব্য রচনার কালপর্ব শেষ? যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হয়ে নির্দিষ্ট বীবের বীরত্ব দেখানোর সূর্যটা যেদিন অস্তমিত গেছে, সেদিন থেকে মহাকাব্যের রসদ শেষ এবং মহাকাব্য রচনার কফিনেও শেষ পেরেক ঠুকে গেছে। মানুষ তার বহমান সময়ের দীর্ঘ পর্বে একটি মাত্র সা¤্রাজ্যের অধীনে শত শত বছর তাঁবেদারি করেছে, রাজার বংশ পরম্পরাকে কুর্নিশ করেছে চৌদ্দ পুরুষ। পৃথিবীর দিকে দিকে রাজা শাসিত সা¤্রাজ্যেগুলো যেদিন থেকে গণচাপে ফেটে পড়েছে, ছত্রখান হয়ে গেছে, সেদিন থেকে মহাকাব্যের উপাদানও কর্পুরের মতো উবে গেছে। তাহলে এখন সময়টা কার? পৃথিবীতে যতো বিপ্লব, অভ্যুত্থান, বিদ্রোহ, রেনেসাঁ-সভ্যতার ভাঙা-গড়ার খেলা চলেছে, বিবর্তনের হাজার হাজার বছর অতিক্রম করে আধুনিক সভ্যতা তার বেলাভ‚মিতে এসে দাঁড়িয়েছে এবং আগামী আরেকটা বুদ্ধিজীবীদের সভ্যতার উদয় হতে চলেছে। তার নেপথ্যের কারিগর, উত্থান-পতনের বরপুত্র, বিবর্তনের কাÐারি, ভাঙা-গড়ার সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেছে সাবঅলটার্ন তথা নিম্নবর্গীয় সমাজ। তাদের শ্রম-ঘাম, ধর্ষকাম-মর্ষকাম, ত্যাগ-তিতিক্ষার উপর যেমন দাঁড়িয়ে আছে সভ্যতার ভিত, তেমনি আধুনিক সাহিত্যের সমূহ অনুষঙ্গও। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]