শিক্ষাখাতে সত্যিকারের উন্নতি চাইলে জিডিপির কমপক্ষে ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া উচিত

আমাদের নতুন সময় : 12/06/2019

কামরুল হাসান মামুন : ইউনেস্কোর ইনস্টিটিউট ফর স্ট্যাটিসটিক্স কর্তৃক প্রকাশিত একটি গ্রাফই প্রমাণ করে দেয় আমাদের প্রাণের এই বাংলাদেশ শিক্ষাকে এযাবৎকালের সকল সরকারই কতো অগুরুত্বপূর্ণ মনে করেছে এবং এখনো করছে। এই গ্রাফে ১৯৭৮ থেকে আজ পর্যন্ত সরকারগুলো শিক্ষায় জিডিপির কতো শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছে তার একটি ডায়নামিক চিত্র ফুটে উঠেছে। এখানে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে, আমরা শিক্ষাকে কখনোই একটি গুরত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচনা করিনি। শিক্ষায় আমাদের বরাদ্দ জিডিপির ১.৩ থেকে ২.২ এর বেশি কখনো কোনো সরকারই বরাদ্দ দেয়নি। যেখানে ইউনেস্কো বলছে, ধরহধনষব উন্নয়নের জন্য শিক্ষায় ন্যূনতম জিডিপির ৫.৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া উচিত। এর বাইরে উন্নয়ন ও গবেষণায় (জ্উ) আলাদা বরাদ্দ দেওয়া উচিত যেখানে নেপালের মতো একটি দেশও জ ্ উ খাতে ৩০-৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে সেখানে আমরা করি ১ মিলিয়ন ডলারেরও কম। তফাৎটা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। এই গ্রাফে আরও দেখতে পাই পৃথিবীর সকল দেশের গড় বরাদ্দ জিডিপির ৪ শতাংশরে আশেপাশে। অর্থাৎ ইতোমধ্যেই উন্নত বা উন্নত হতে চাওয়া দেশগুলো এতো বেশি বরাদ্দ দেয় যে আমাদের মতো কম যেই বলদ দেশগুলো দেয় তাদের বলদামিকে ছাড়িয়ে পৃথিবীর গড়কে উপরে উঠাতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের দেশ যদি এখন জিডিপির ৫ শতাংশও বরাদ্দ দেয় সেটাও অপ্রতুল। সত্যিকারের উন্নতি করতে চাইলে এটা হওয়া উচিত ৬ শতাংশ কিংবা এরও বেশি।

একটি জিনিস লক্ষ করে খুবই মন খারাপ হয়। আমাদের দেশের যেই স্কলাররা সরকারি দলের সাথে কোনো না কোনো লেভেলে জড়িত তারা এটা নিয়ে কোনো আওয়াজ তুলে না। একদম চুপ থাকে। এমন চুপ থাকেন যেন কেউ ভুলেও মনে না করতে পারেন যে তারা বর্তমান বরাদ্দে অখুশি। বরং কথায় বার্তায় চলনে বলনে আকার ইঙ্গিতে তারা বরং বলে আমাদের শিক্ষাবান্ধব সরকার দিন দিন বরাদ্দ বাড়িয়েই যাচ্ছে। মোটা দাগে কথা ঠিক। এই সংখ্যার মানের সামান্য বৃদ্ধি আসলে টাকার অবমূল্যায়ন বিবেচনায় নিলে বরং বরাদ্দ কমেছে বললে বাড়িয়ে বলা হবে না । উনারা নিজেরাতো দাবি করেই না। অন্যরা কোথাও দাবি করলেও সেটাতে কোন প্রকার ভ্রুক্ষেপ করে না। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ লিখলে সেখানে মন্তব্য করা কিংবা লাইক বাটন ক্লিক করা থেকে পর্যন্ত বিরত থাকেন, পাছে পদ-পদবি পেতে যদি অসুবিধা হয়! অর্থাৎ দেশের লাভকে নিজের লাভের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারেনি বা পারে না। এই হলো আমাদের অবস্থা। ফেসবুক থেকে

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]