• প্রচ্ছদ » » মোদীর পক্ষে ছিলো ভারতের নির্বাচন কমিশন : নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন


মোদীর পক্ষে ছিলো ভারতের নির্বাচন কমিশন : নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন

আমাদের নতুন সময় : 13/06/2019

ভোটে জেতাই শেষ কথা নয়। নির্বাচর্নী সময়ে বিজেতাকে ভোটাররা কি চোখে দেখছেন সেটাও ভাবতে হয়। এমনটাই মনে করেন ভারতের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন। তিনি মনে করিয়ে দিলেন, সব রাজনৈতিক দল ভারতে চিরকাল যে সমান সুযোগ পেয়ে এসেছে, সেই সুনাম নষ্ট হয়েছে। সমতার সেই নীতি ধরে রাখতে হবে। বৈষম্য সরাতে হবে, বিশেষত যেখানে শাসকদলই সব সুবিধা পাচ্ছে, বাকিরা নয়। শাসকদলই যেখানে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক প্রধানদের মনোনীত করে, নির্বাচন কমিশনের গঠনেও যেখানে শাসকেরই বড় ভ‚মিকা, সেখানে সমতা রক্ষা করা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানীত এই অধ্যাপকের খেদ, ভারত নানা দিক দিয়ে এক সফল গণতন্ত্র হয়ে উঠতে পেরেছিলো, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সমান নজরে দেখা হতো। কিন্তু ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচন সেই সুখ্যাতি নষ্ট করেছে। যুক্তিগ্রাহ্য এবং বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, শাসকদল নানা বিশেষ সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে। অবশ্য এজন্য কেবল নির্বাচন কমিশনকেই দায়ী করেননি অমর্ত্য সেন। তিনি বলেছেন, সরকারি দূরদর্শনও একইভাবে পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছে। ভোটের আগে বিজেপিকে যতোটা সময় টিভির পর্দায় থাকতে দেয়া হয়েছে, কংগ্রেস তার অর্ধেক সময়ও পায়নি।
নির্বাচনী খরচ জোগাড়ের ক্ষেত্রেও শাসকদল এবং বিরোধীদের মধ্যে যে ব্যাপক বৈষম্য এবার দেখা গেছে বলে অমর্ত্য সেন তা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, বিরোধীদের হাতে যে বিত্ত, যে সামর্থ্য ছিলো তার থেকে এমনকি কংগ্রেসের থেকেও এবার বেশি আর্থিক ক্ষমতা ছিলো বিজেপি। ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে এই বিপুল পরিমাণ অর্থের যে ক্ষমতা, সরাসরি তার কথা না বললেও নির্বাচনী পুঁজি জোগাড় এবং খরচের উপর নিরপেক্ষ নিয়ন্ত্রণের অত্যন্ত প্রয়োজন আছে। নির্বাচনী সাফল্যকে ঘরে এবং বাইরে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতেই এই নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
ভারতে এবারের ভোটে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদির সাফল্যকে সারাবিশ্বের সংবাদমাধ্যম যে বাঁকা চোখে দেখেছে, অমর্ত্য সেন তা উল্লেখ করেছেন। আমেরিকার ‘ইয়র্ক টাইমস্’, ‘পোস্ট’, ‘স্ট্রিট জার্নাল’, ইংল্যান্ডের ‘দ্য গার্ডিয়ান’, ফ্রান্সের ‘মন্ডে’, জার্মানির ‘ৎসাইট’, ‘রেৎস’-এর মতো বিখ্যাত সব কাগজ, অন্যদিকে সিএনএন, বিবিসি, সবাই একবাক্যে সমালোচনা করেছে মোদীর নির্বাচনী কৌশলের। যে কায়দায় বিজেপি এই বিরাট জয় এলো এবং যেভাবে বিভিন্ন ভারতীয় জনগোষ্ঠী, বিশেষত মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা এবং অসহিষ্ণুতায় প্ররোচনা জুগিয়েছে মোদীর দল, তার তীব্র নিন্দা করেছে এসব আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
নিজের লেখায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের দিকে ইঙ্গিত করেছেন বিশ্ববিখ্যাত অর্থনীতিবিদ। ব্রিটিশদের অনুসরণে ভারতে যে নির্বাচন পদ্ধতি চালু আছে, তাতে যে দল সব থেকে বেশি ভোট পেয়েছে তারাই নির্বাচিত হয়। কিন্তু তার অর্থ এই নয়, যে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট তারাই পেয়েছে।
এবারের লোকসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থীরা বেশিরভাগ সংসদীয় আসনে জয়ী হলেও তারা ভোট পেয়েছেন মাত্র ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের ৬৩ শতাংশ ভোট বিজেপি পায়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নেই তাদের পক্ষে।
অমর্ত্য সেন প্রশ্ন করেছেন, বিরোধী দলগুলো কি এটা নিয়ে ভাবছে? তাদের কি মনে হচ্ছে না… নির্বাচনের আগে নিজেদের মধ্যে আরও বেশি ঐক্য দরকার ছিলো? বিজেপিবিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জোট করতে কংগ্রেসের কি আরও বেশি সুসংহত উদ্যোগ জরুরি ছিলো না? যেমন উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি বা বহুজন সমাজ পার্টির সঙ্গে? দিল্লিতে আম আদমি পার্টির সঙ্গে? মহারাষ্ট্রে প্রকাশ আম্বেদকরের পার্টির সঙ্গে? বিহারে রাষ্ট্রীয় জনতা দল জোট গড়েছিলো ঠিকই, কিন্তু তাদের কি উচিত ছিলো না আরও এক পা এগিয়ে কানহাইয়া কুমারের মতো জাতীয় স্তরে স্বীকৃত একজন নবীন নেতাকে জায়গা করে দেয়া? সূত্র : সত্য বার্তা




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]omoy.com