• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » শুধুমাত্র জিপিএ-৫ এর পিছনে না ছুটে শিশুদের মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে বেড়ে উঠার সুযোগ দিতে  রাষ্ট্রপতির আহ্বান


শুধুমাত্র জিপিএ-৫ এর পিছনে না ছুটে শিশুদের মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে বেড়ে উঠার সুযোগ দিতে  রাষ্ট্রপতির আহ্বান

আমাদের নতুন সময় : 13/06/2019

সমীরণ রায় : শুধুমাত্র জিপিএ-৫ এর পিছনে না ছুটে শিশুদের জন্য প্রকৃতি থেকে এ  শিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে বেড়ে উঠার সুযোগ সৃষ্টির প্রতি খেয়াল রাখতে হবে এবং শিশুদের পড়াশুনা অথবা অন্যান্য কোন বিষয়ে চাপ না দিতে এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের জন্য সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

বুধবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা-২০১৯’ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শিশুদের অসুস্থ প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেবেন না। অসুস্থ প্রতিযোগিতা তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশুদেরকে সকল ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারলেই দেশ ও জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই শিশুদের মাঝে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিকাশ ঘটানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের দেশকে ভালবাসতে শেখাতে হবে। কখনো অন্যায় ও অসত্যের সাথে আপোষ না করতে শেখানো উচিত। যদি শিশুরা সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের পথে চলে তারা জীবনে সফল হতে পারবে।

২০২১ সালে দেশের স্বাধীনতার ৫০ বর্ষপূর্তি ও ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে শিশুদেরকে উৎসাহিত করার জন্য অভিভাবকদের ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের কথা উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু শিশুদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে জাতীয় শিশু আইন -১৯৭৪ প্রণয়ন করেছিলেন। জাতির পিতা শিশুদের অনেক ভালবাসতেন। তিনি তাদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর সোনার বাংলা গড়ে তোলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে জ্যেষ্ঠ নাগরিক, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, পাঠ্যসূচির মাধ্যমে শিশুদের মাঝে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করুন, যাতে করে তারা কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামী থেকে মুক্ত থাকতে পারে। আজকের শিশু আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তারা দেশপ্রেম, বাংলা ভাষা, মুক্তিচিন্তা ও মানবিক নৈতিক মূল্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙালী সংস্কৃতিকে তুলে ধরবে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি ২৩৭ জন বিজয়ীর ৩০ জনের মাঝে পুরস্কার ও পদক বিতরণ করেন। ১৯ জানুয়ারি থেকে মোট ৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৭ জন প্রতিযোগী ছবি আঁকা, নৃত্য, আবৃত্তি, অভিনয় ও গানসহ ৩০টি বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

এ সময় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চেয়ারম্যান মেহের আফরোজ চুমকি, বিশিষ্ট সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর পরিচালক আনজির লিটন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি একটি মনোজ্ঞ সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের সঙ্গে ছবি তোলেন। সম্পাদনা : আবদুল অদুদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]