কাঁঠাল যথাযথ কারণেই বাংলাদেশের জাতীয় ফলের মর্যাদা লাভ করেছে

আমাদের নতুন সময় : 18/06/2019

চিররঞ্জন সরকার

কাঁঠাল যে যথাযথ কারণেই বাংলাদেশের জাতীয় ফলের মর্যাদা লাভ করেছেÑ সে ব্যাপারে আমাদের নিঃসংশয় হওয়া দরকার। আম কখনো কাঁঠালের সমকক্ষ নয়। মনে রাখা দরকার যে, কাঁঠাল গাছের প্রতিটি অংশই ব্যবহারযোগ্য। যেমন কাঁঠাল গাছের পাতা দেশি কালো ছাগলকে খাওয়ানো যায়; ক্রমহ্রাসমান হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার ছাড়া আম পাতার তেমন কোনো ব্যবহার নেই। কাঁঠালের বাকল গরুর প্রধান খাদ্য। বিচি মানুষ খায়। কিন্তু আমের বাকল আর বিচি কেউ খায় না। ‘আম আঁটির ভেঁপু’ সাহিত্যের উপাদান হলেও বাস্তবে এর কোনো ব্যবহার নেই। একটি কাঁঠাল দিয়ে একটি পরিবারের খাওয়া হয়ে যায়। কিন্তু আম লাগে প্রায় এক ঢাকি। কাঁঠালের পুষ্টিগুণ আমের তুলনায় বেশি। আমের তুলনায় কাঁঠাল দামে সস্তা। আম কাঠের তুলনায় কাঁঠালের কাঠ ভালো। আম চাষের তুলনায় কাঁঠাল চাষ তুলনামূলকভাবে সহজ ও লাভজনক। একটি গাছে আম ও কাঁঠাল ধরার পরিমাণ ও তাদের বিক্রয়মূল্য হিসাব করলে কাঁঠাল এগিয়ে থাকে। আমের তুলনায় কাঁঠালের রোগবালাই কম হয়। আম ভারতের জাতীয় ফল, অন্যদিকে কাঁঠাল ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় ফল। ‘ইসলামিক উম্মাহর’ বিচারে কাঁঠালেরই বিজয়ী হওয়ার কথা!
কাঁঠালের সবচেয়ে বড় যে সমস্যা, সেটা হলো আঠা। এই আঠা যদি একবার গোঁফে লেগে যায় তাহলেই মহাসর্বনাশ। সাবধানীরা তাই কাঁঠাল খাওয়ার আগে গোঁফে ভালোমতো তেল মেখে নেন। কেননা তৈলাক্ত গোঁফে আঠা খুব একটা সমস্যা হিসেবে দেখা দেয় না। কিন্তু তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাও এখন মুশকিলের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশের মানুষ অবশ্য খুব একটা সাবধানী নয়। তারপরও কেন জানি অনেকে গাছে কাঁঠাল দেখলেই গোঁফে তেল মাখতে শুরু করে দেন। আমাদের সুদিন আসবে, ঢাকা শহর দূষণ ও যানজটমুক্ত হবে, দেশ থেকে দারিদ্র্য, দুর্নীতি ও বেকারত্ব দূর হবেÑ এমনি নানা আশাবাদ আমাদের কাছে ‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল’ হয়েই রয়ে যায়! ফেসুবক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]