‘উবার’ কি হিডেন চার্জ নিচ্ছে? কেন নিচ্ছে, কোন যুক্তিতে?

আমাদের নতুন সময় : 19/06/2019

আফরোজা সোমা : সকালে পান্থপথ শমরিতা হাসপাতালের উল্টোপাশের গলি থেকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি পর্যন্ত উবার মোটোতে সম্ভাব্য ভাড়া দেখালো ৮২ টাকা। কিন্তু ভিসি অফিসের সামনে নেমে দেখি ভাড়া এসেছে ১৩১ টাকা। মানে ভাড়া এসেছে ৬০ শতাংশের বেশি। এর কারণ কী? রাস্তায় জ্যাম ছিলো না। বৃষ্টি ছিলো না। ঘুর-পথে বাইক আসে নাই। তাহলে ভাড়া এতো বেশি আসার কারণ কী? ১. আমার টাকা ফেরত চাই। ২. ভাড়া কেন বেশি এলো এর ব্যাখ্যা চাই ৩. ভাড়া বেশি দিয়ে, কমপ্লেইন লিখতে গিয়ে, ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখতে গিয়ে আমার যে ভোগান্তি হলো তার জন্য আমার ক্ষতিপূরণ কী? ক্ষতিপূরণ চাই। ৪. বাংলাদেশে প্রায় শতভাগ বাংলা ভাষাভাষীদের দেশে উবার ব্যবসা করছে কিন্তু তার অ্যাপের ভাষা ইংরেজি। বাংলাদেশে সম্ভবত (যদি আমি ভুল বলে না থাকি) হাইকোর্টের একটা রুল হয়েছিলো এরকম যে, সকল প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক বাংলা থাকতে হবে এবং পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ইংরেজি। ইংরেজিতে উবারের অ্যাপে কমপ্লেইনের লেখাগুলো থাকায় অন্তত ৭০/৮০ শতাংশ ব্যবহারকারী তাদের ভোগান্তির কথা অভিযোগ করতে পারে না। ফলে ভাষার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক বাংলার অপশান থাকতে হবে।

আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, ৪৯ টাকা বেশি নেওয়ায় এতো ক্ষেপলাম কেন? প্রতারণা করে ৪৯ পয়সা নিতে দিতে আমি রাজি নই। আমার সামর্থ থাকলে দেশের সকল অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতাম। কিন্তু সব কিছুর এখতিয়ার আমার নেই। আপাতত হ্যাশট্যাগ উবার আমার এখতিয়ারে আছে। তাই উবার নিয়ে বলছি।

ভোগান্তি রোজকার ঘটনা। কতো আর অভিযোগ করা যায়? সবসময় সময় থাকে না বা ইচ্ছা থাকে না বা মানসিক শ্রমের ক্লান্তি নিতেও অবসাদ লাগে। কিন্তু মাঝে মাঝে মেজাজ বিগড়ানো থাকলে বা চাপে থাকলে তখন গলা সপ্তমীতে উঠা স্বাভাবিক। হ্যাশট্যাগ উবার যদি মনে করে, আমি খালি কমপ্লেইন করি এবং এজন্য আমাকে তারা ব্লক করে দেবে তাহলে প্রয়োজনে আমি নিজে মামলা করবো। উবারের সার্ভিস নেয়া আমার নাগরিক অধিকার।

সেবা মানসম্মত না হলে বা সেবা নিতে গিয়ে গ্রাহক হিসেবে আমি কোনো প্রতারণার শিকার হলে সেটা নিয়ে কথা বলা এবং অভিযোগ করাও আমার অধিকার। ভোক্তা অধিকার নিয়ে যেসব সংস্থা/প্রতিষ্ঠান কাজ করে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। শুধু টনকে-টন আম ধ্বংস করে গরিব খুদে ব্যবসায়িকে পথে বসানোই ভোক্তা অধিকারের মধ্যে পড়ে না। এই যে প্রতিষ্ঠানগুলো রোজ মানুষের উপকার করার নামে আমাদের সকলকে জিম্মি করে ফেলছে এবং জিম্মি করে অন্যায় সুবিধা নিচ্ছে সেটা তদন্ত করাও ভোক্তা অধিকারের মধ্যে পড়ে। আপনারা কোথায়? একটু রাইড শেয়ারিং অ্যাপদের রংবাজির রকমফেরগুলো একটু খতিয়ে দেখে গরিব আম ব্যবসায়ীর মতন শক্ত ব্যবস্থা নেন। মানুষ উপকৃত হবে। মানুষ খুশি হবে। ফেসবুক থেকে

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]