বাজেট বিশ্লেষণ পদ্ধতি এবং এদেশের জনগণ

আমাদের নতুন সময় : 19/06/2019

হাসনাত কাইয়ূম : ব্রিটিশরা খাজনা আদায়ের অধিকার পাওয়ার পর আর পেছনে তাকাইতে হয় নাই। বাণিজ্য করে যা লাভ করার কথা ভাবতেও পারতো না, তার চেয়ে বহু বহুগুণ বেশি লাভ তাদের পকেটস্থ হতে শুরু করে। এ লাভ এমন পর্যায়ে যায় যে ১৭৭৬ -এর মন্বন্তরে এই অঞ্চলের প্রতি তিন জনের একজন না খেয়ে মারা যাওয়ার পরেও খাজনা আদায় কমে নাই বরং পরের বছরে তা বেড়েছে । কোম্পানির কাছ থেকে শাসনভার সরকারের হাতে নেওয়ার পর তারা রাষ্ট্রটাকে এমনভাবেই বানাইছে যাতে রাষ্ট্রযন্ত্র নিজেই লুণ্ঠনের হাতিয়ার হয়ে উঠে সে অনুযায়ী আইন বানাইছে, রাজনীতি বানাইছে, রাজনৈতিক দল- দলের নেতা বানাইছে ।

ব্রিটিশরা চলে গেছে, পাকিস্তানও বিদায় হয়েছে কিন্তু খাজনা আদায়ের মাধ্যমে লুন্ঠন বন্ধ হয়নি। খাজনার নাম পরিবর্তিত হয়ে ট্যাক্স, ভ্যাট, আমদানি শুল্ক, উৎস কর, আবগারী শুল্ক, সারচার্জ ইত্যাদি রূপ ধারণ করেছে। এখনো এইসব খাজনার সিংহভাগ তাদেরকেই পরিশোধ করতে হয় যাদের সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে কম আর এইসব তোলা এমনভাবে খরচ করা হয়, যাতে তা গড়াতে গড়াতে তাদের পাতে গিয়েই পড়ে যাদের পাতে আর রাখার জায়গা নাই এবং রাখার স্বার্থেই যাদের এসব তোলা বিদেশে পাঠাতে হয় ।

এই বন্টন, এই বাজেট বানানো কোনো নতুন কাজ নয়। এটা অনেক পুরনো একটা প্রক্রিয়া, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৭৮ থেকে ৮৩ অনুচ্ছেদ দেখুন, আজকের সাথে মিলটা পাবেন । কিন্তু এ পুরনো প্রক্রিয়াটা চালায়ে রাখে যারা, যে আইন, যে রাজনীতি, যে রাষ্ট্র প্রকল্প, যে শাসনতন্ত্র বা সংবিধান তা নিয়ে কোন আলাপ না তুলে দৈনিক পত্রিকার কলাম লেখকদের মতো কোন খাতে কতো বরাদ্দ বাড়লো কী কমলো, এসব আলাপেই যারা মগ্ন থাকে তারাই নিজেদেরকে এদেশে জনগণের পক্ষের রাজনৈতিক নেতা, দল বলে দাবি করে। এ অচলায়তন ভাঙবে কবে, কারা?




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]