বিশ্ব মিডিয়া-বিশ্লেষকরা মেতেছে বাংলাদেশ বন্দনায়

আমাদের নতুন সময় : 19/06/2019

শিউলী আক্তার : রুপকথার জন্ম দিয়েছেন সাকিব-লিটন। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার অনন্য নজির স্থাপন করে বাংলাদেশকে এনে দিয়েছেন কাক্সিক্ষত এক জয়। যে জয়ে সেনাপতির ভূমিকায় ছিলেন সাকিব আল হাসান। আর তার সহযোদ্ধা ছিলেন লিটন দাস। সোমবার টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জয়ের পর সেমিফাইনালের আশাও জিইয়ে রেখেছে টাইগাররা। পয়েন্ট টেবিলেও সাকিবরা এখন পাঁচ নম্বরে। বিশ্বকাপে এই বাংলাদেশকে দেখে মুগ্ধ হয়েছে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব। লাল-সুবজের দলটির এমন পারফরম্যান্স দেখে প্রশংসায় মেতেছে বিশ্ব মিডিয়া এবং ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

সোমবার টন্টনে উইন্ডিজের বিরুদ্ধে অবিস্মরণীয় জয়ের পর দারুণ এক প্রতিবেদন লিখেছে বার্তা সংস্থা এপি। মার্কিন সংবাদ সংস্থার সেই রিপোর্ট ছাপিয়েছে পশ্চিমা বিশ্বের বহু মিডিয়া। তাছাড়া বিশ্বের নামী-দামী অন্য মিডিয়াগুলোও নিজেদের মতো করে বাংলাদেশ ও সাকিব বন্দনায় সুর মিলিয়েছে। এই রান তাড়া করে জেতাকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে মহাকাব্যের আবির্ভাব বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ইএসপিএন-ক্রিকইনফো শিরোনাম করেছে, সাকিব-লিটনের আলোতে বাংলাদেশের রেকর্ড জয়! একই শিরোনাম করেছে পাকিস্তানে দুই শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ডন ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

বাংলাদেশের জয়ের পর দুটি শিরোনাম করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এইউডটকম। তাদের একটি শিরোনাম এরকম- ‘উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশ ডোবাল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।’ আরেকটি শিরোনাম- সুপার সাকিবের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল বাংলাদেশ।’

দুটি শিরোনাম করেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানও। তাদের প্রথম শিরোনাম- ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সাত উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় শিরোনাম সাকিবকে নিয়ে। যেখানে মারকাটারি ব্যাটিংয়ের জন্য সাকিবকে নির্দয় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘অসহায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের নেতৃত্ব দিলেন নির্দয় সাকিব।’

বিবিসির শিরোনাম অবশ্য বরাবরের মতোই সহজ-সরল, ‘৩২২ রান তাড়ায় বাংলাদেশকে সাহায্য করেছে সাকিবের সেঞ্চুরি।’ টেলিগ্রাফ লিখেছে, ‘সাকিবের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে উইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়।’

টাইমস অব ইন্ডিয়া বেশ ভারী শিরোনাম করেছে। তারা লিখেছে, ‘বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাকিব-লিটনে বাংলাদেশে মহাকাব্যের আবির্ভাব!’ আর দ্য হিন্দুর শিরোনাম, ‘সাকিব-লিটনের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল বাংলাদেশ।’

পশ্চিমবঙ্গের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারের শিরোনাম মনে ধরার মতো। তারা লিখেছে, ‘সাকিবের দুরন্ত সেঞ্চুরিতে জয় বাংলা।’ সেখানকার আরেক দৈনিক এই সময়ের শিরোনাম প্রায় কাছাকাছি, ‘৩২২ তাড়া করে জিতে নজির দুরন্ত সাকিবদের।’

মিডিয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সাকিব প্রশংসায় মেতেছেন সাবেক ক্রিকেটার ও গ্রেটরা। সাকিবদের সাবেক গুরু ইয়ান পন্ট টুইটারে জানান, সাকিবের সব থেকে বড় গুণ হচ্ছে ও সবসময় শোনে এবং শেখে। সে একদম বাচ্চাদের মতো আর একটু দুর্লভ ট্যালেন্ট। এই জয়টা বাংলাদেশের প্রাপ্য। পন্ট মনে করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের সেই গানটাও, ‘আমরা করবো জয়’।

বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার আকাশ চোপড়াও। টুইটারে লিখেছেন, ‘হোয়াট এ উইন। সাত উইকেট এবং আট ওভারের বেশি হাতে রেখে। এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশই প্রথম দল যারা ২৫০ বেশি রান এত সহজে তাড়া করল।’

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি বাংলাদেশের এই জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আলাদাভাবে সাকিবকেও শুভেচ্ছা জানান বুমবুম। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে কোনো দেশকে ছোট করে দেখা উচিৎ নয়, কারণ সবাই এখানে খেলতে এসেছে।

ইংলিশদের সাবেক ক্রিকেটার মন্টি পানেসার বলেন, এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সবচেয়ে অভিজ্ঞ দিক। বাংলাদেশি টাইগারদের ছোট করে না দেখার কথাও বলেছেন পানেসার।

ভারতের বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে বলেছেন, ‘এটা বাংলাদেশের ইতিহাসের সব থেকে শক্তিশালী ব্যাটিং পারফরম্যান্স। আর আমি বাংলাদেশের খেলা অনেকদিন ধরেই দেখে আসছি।’

ভারতীয় বিশ্লেষক মোহনদাস মেনন লিখেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম দল যারা বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৫০-এর অধিক বল হাতে রেখে ৩০০-এর অধিক রান তাড়া করে জিতেছে।

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাকিব আল হাসানকে আখ্যায়িত করেছেন সাউথ আফ্রিকার সাবেক ওপেনার হার্শেল গিবস। প্রোটিয়া তারকা লিখেছেন, ‘সাকিব এই বিশ্বকাপের বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান। দারুণ চিত্তাকর্ষক, আরেকটি সেঞ্চুরি আসছে।’

শ্রীলঙ্কার সাবেক ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার রাসেল আর্নল্ড লিখেছেন, ‘সাকিব শিকারি। সে শুধু এটা দেখায়নি যে, বিশ্বের একনম্বর অলরাউন্ডার। সে এটাও দেখিয়েছে, ওয়ার্ল্ডক্লাস ব্যাটসম্যানও। অভিনন্দন।’

পাকিস্তানের স্পিডস্টার শোয়েব আখতার লেখেন, ‘এটি একটি ক্লিনিক্যাল পারফরম্যান্স ছিল। বাংলাদেশ আজ(সোমবার) যেভাবে খেলেছে এবং ৩২২ রান করেছে, আমি আশা করি, আমরা এটি থেকে কিছু শিখতে পারব। বিশেষ করে রান তাড়ার সময় কীভাবে ধস ঠেকানো যায়।’




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]