• প্রচ্ছদ » » যারা টাকা কিংবা ক্ষমতাওয়ালা, দেশের প্রতি তাদের ন্যূনতম মমত্ববোধ আছে কিনা তা নিয়ে আমার বিস্তর সন্দেহ আছে


যারা টাকা কিংবা ক্ষমতাওয়ালা, দেশের প্রতি তাদের ন্যূনতম মমত্ববোধ আছে কিনা তা নিয়ে আমার বিস্তর সন্দেহ আছে

আমাদের নতুন সময় : 19/06/2019

 

কামরুল হাসান মামুন

কোনো কিছু সরকারি হলে তার কর্মকর্তা কর্মচারীরা ব্যক্তি লাভের জন্য সিস্টেমকে ধনঁংব করে। তাতে দেশের বারোটা বাজে বাজুক। আর কোনো কিছু বেসরকারি হলে মালিকদের লাভের জন্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের ধনঁংব করে তাতে দেশের বারোটা বাজে বাজুক। সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরকারের গাড়িঋণ সুবিধার উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে। যেসব সরকারি কর্মকর্তা বিনা সুদে ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন, তাদের কেউ কেউ ব্যবস্থাটির অপব্যবহার করছেন। ঋণসুবিধা দেওয়ার সময় আশা করা হয়েছিলো, সরকারের ওপর থেকে প্রতিবছর নতুন গাড়ি কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণের চাপ ক্রমান্বয়ে কমে আসবে। কিন্তু তা হচ্ছে না, বরং উল্টোটাই ঘটছে। জানা গেছে, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিন অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তাদের যথাক্রমে ১৬৫, ২১৯ ও ২৩৪টি গাড়ি কেনার জন্য ঋণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার ফলে সরকারি পরিবহন পুলের ব্যয় কমেনি, বরং ক্রমান্বয়ে বেড়েছে। ওই তিন বছরের সরকারি পরিবহন পুলের বাজেট ছিলো যথাক্রমে ১২৬, ১৪৬ ও ১৬২ কোটি টাকা। এ হিসাবের মধ্যে নতুন গাড়ি কেনার টাকা অন্তর্ভুক্ত নয় বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ শুধু ২০১৭-১৮ অর্থবছরেই সরকার গাড়ির জন্য ঋণ দিয়েছে ৩৭০ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ ব্যয় বেড়েই চলছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এ খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮০ কোটি টাকার বাজেট ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ কোটি টাকা। আর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের বাজেট ৭১ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৯ কোটি টাকা।
ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা দাপ্তরিক কাজে গাড়ির সুবিধা পেয়ে থাকেন। এমন কি তারা সামান্য মাশুল দিয়ে সেইসব গাড়ি ব্যক্তিগত কাজেও ব্যবহার করতে পারতেন। গাড়ি ব্যবহার করলেও সরকারি গাড়ির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দরদ ছিল না বললেই চলে। একটি গাড়িকে ভালো রাখার জন্য নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। বিশেষ করে নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল দিতে হয় এবং সেটি ভালো মানের হতে হয়। কিন্তু কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ড্রাইভারের সরকারি জিনিসের উপর মায়ার অভাবে সেগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়; অল্প সময়ের ব্যবধানে সরকারকে অনেক নতুন গাড়ি কিনতে হয়, ফলে সরকারের ব্যয় বাড়তে থাকে। এর সমাধান হিসাবে সরকারি কর্মকর্তাদের একটি গাড়ি কেনার জন্য সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার বিধান তৈরী হয়। উদ্যেশ্য এই খাতে ব্যয়বৃদ্ধি কমানো। এই বিবেচনা থেকে বিনা সুদে তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করা হয়; সেই সঙ্গে চালকের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হিসেবে মাসে ৫০ হাজার টাকা ধার্য করা হয়।
এতোকিছু আর এত সুবিধার পরও সরকারের কোনো লাভতো হয়ইনি বরং গাড়ি বাবদ সরকারের খরচ কেবল বেড়েই চলেছে। তার অবশ্য একটি কারণ আছে। সেটি হলো সরকারে সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পদে সরকারি কর্মকর্তদের সংখ্যা মাত্রারিতিক্তভাবে বেড়ে যাওয়া। জানা গেছে, সরকারে এখন সচিব আছেন ৫৯ জন, অতিরিক্ত সচিব আছেন ৫১০ জন, যুগ্ম সচিব আছেন ৭২৭ জন আর উপসচিব পদে আসীন আছেন ১৮৩৪ জন কর্মকর্তা। ভাবা যায়? এটি যে শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ঘটেছে তানা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।
এদিকে আরেক সংবাদে জানা যায় যে সরকারি ঋণ ব্যাংকের সংকট বাড়ছে এবং আরও বাড়াবে। বাজেটের বিশাল ঘাটতি অর্থায়নে সরকারের পরিকল্পনা দেশের ব্যাংক খাত নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তীব্র তারল্য সংকটে আছে বেশির ভাগ ব্যাংক। আর এ সময়ে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৪৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা পেশ করেছে। একদিকে ব্যাংক থেকে সরকার বিশাল অংকের ঋণ নিচ্ছে, আরেকদিকে সরকারের কাছের কিছু প্রভাবশালী ঋণের নামে ব্যাংক লুট করেছে। এইসব মিলিয়ে আমরা এক সংকটময় সময় পার করছি। যারা টাকাওয়ালা কিংবা ক্ষমতাওয়ালা তাদের দেশের প্রতি ন্যূনতম মমত্ববোধ আছে কিনা এই নিয়ে আমার বিস্তর সন্দেহ আছে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]