সোহেল তাজ নয়, সব অসহায়দের আকুতি, শুনবে কি কেউ?

আমাদের নতুন সময় : 19/06/2019

কাকন রেজা : বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী নন সোহেল তাজ। বর্তমান সরকারেরই সাবেক প্রতিমন্ত্রী, তাও আবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। তারই ভাগনে যখন অপহৃত হন, তাকে এবং তার বোনকে যখন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে হয়, তখন চিত্রটা কেমন দাঁড়ায়। তাও আবার তারা আহ্বান জানান, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহীকে যদি হস্তক্ষেপ করতে হয় এমন একটি ঘটনায়, তবে আমরা আছি কোথায়। তবে কি তলে তলে এমন একটি শক্তি গজিয়ে উঠেছে, যারা অনেক বেশি শক্তিশালী। যাদের কাছে সোহেল তাজের মতন দাপুটে নেতা, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও অসহায়! কারা এই শক্তি, কোন সে অন্ধকারের শক্তি এরা?

গত ৯ জুন সোহেল তাজের ভাগনে সৈয়দ  মোহাম্মদ ইফতেখারকে অপহরণ করা হয়। সোহেল তাজ নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন, ‘কারা এই অপহরণের সাথে জড়িত তাদের নাম তিনি জানেন এবং তার ভাগনেকে ফিরিয়ে না দিলে তিনি তাদের পরিচয় প্রকাশ করে দেবেন।’ ১৭ জুন বিকালে সোহেল তাজ তার বোনকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। তখন পর্যন্ত তার ভাগনে ফিরেনি এবং তিনি সম্ভাব্যদের নামও বলেননি। কেন বলেননি?

গত ২১ মে আমার ছেলেও নিখোঁজ হয়। সেদিনই মধ্যরাতে তার লাশ পাওয়া যায় জামালপুর-নান্দিনা স্টেশনের মাঝামাঝি রেললাইনের পাশে। আমার মতো ছেলেও সাংবাদিকতা করতো। তাকে সবাই চেনেন সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন বা ফাগুন রেজা নামে। সে একটি প্রতিষ্ঠিত অনলাইন গণমাধ্যমের ইংরেজি ভার্সনের সাবএডিটর ছিলো। ঈদুল ফিতরের পর আরেকটি গণমাধ্যমে যোগদানের কথা ছিল তার। সেই গণমাধ্যমের কর্তাদের সাথে কথা বলে বাড়ি ফিরছিলো সে। কিন্তু মাঝপথে নিখোঁজ হয়ে যায় ফাগুন, তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি।

২১ মে সন্ধ্যার পর তার সাথে আমাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মধ্যরাতে জামালপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাগুনের মৃতদেহ উদ্ধার করলেও, আমরা খবর পাই পরদিন ২২ মে বিকালে। যখন তাকে বেওয়ারিশ হিসাবে দাফনের প্রস্তুতি চলছিলো। এই যে, ফাগুনের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া, তার লাশ উদ্ধার এবং তার শরীর থেকে তাকে সনাক্ত করা যায় এমন কিছু উদ্ধার না হওয়া। তার সাথে থাকা ল্যাপটপ, মোবাইল, মানিব্যাগ, আইডি কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। তার কাছে নিজের সিভির কপি, তার সাথে থাকা আমার নিজের ভিজিটিং কার্ড, সবই গায়ের হয়ে যায়। ফাগুনকে, একজন তরুণ সাংবাদিককে পরিচয়হীন করে বেওয়ারিশ হিসাবে তড়িঘড়ি দাফনের চেষ্টা চলে জামালপুরের একটি গোরস্থানে। ভাগ্য ভালো থাকায় শেষ মুহূর্তে খবর পাই আমরা। যার ফলেই তাকে আর বেওয়ারিশ করা যায়নি। গোরস্থানে দাফনের পূর্ব মুহূর্তে আমরা ফাগুনের দেহ উদ্ধার করি।

এই যে ফাগুন হত্যাকা-, তার কোনও ক্লু এখনো বের করতে পারেনি জামালপুর রেল পুলিশ। যেহেতু রেললাইনের পাশে ফাগুনের দেহ পাওয়া গেছে, সুতরাং মামলাটি রেল পুলিশের আওতায়। সোহেল তাজ তো সংবাদ সম্মেলন করলেন। আমরা এখন কি করবো? একজন সাংবাদিক পিতা, সাংবাদিক পুত্রের মৃত্যুতে কি করবেন? তার সহকর্মীরা, অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা খবর করেছেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছেন, তারাও আর কি করবেন?

প্রায় একমাস হতে চললো বিষয়টির কোন কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। সোহেল তাজ সাবেক মন্ত্রী, তাও আবার বর্তমান সরকারেরই। আর আমি-আমরা ছা-পোষা সাংবাদিক, আমার ছেলেও সাংবাদিক হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলো। একজন সাবেক মন্ত্রীরই যখন এমন অসহায় অবস্থা, সংবাদ সম্মেলনে আকুতি জানাতে হয় রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানের কাছে, তখন আমরা কোথায় যাবো? আমাদের দিকে কি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী মুখ তুলে তাকাবেন? তার চোখে পড়বে কি আমাদের নিবেদন? জানি না। আমাদের অনেক প্রশ্নের উত্তরই জানা নেই।

লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]