• প্রচ্ছদ » » উন্নয়নের সঙ্গে গবেষণার একটি নিবিড় সম্পর্ক আছে, আমরা এখনো তা বুঝতে পারিনি


উন্নয়নের সঙ্গে গবেষণার একটি নিবিড় সম্পর্ক আছে, আমরা এখনো তা বুঝতে পারিনি

আমাদের নতুন সময় : 21/06/2019

কামরুল হাসান মামুন

‘গবেষণা সংকটে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়’ শিরোনামে ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ পত্রিকায় তাদের প্রথম পাতায় তিন কলামজুড়ে একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছেন। এজন্য ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’কে একটি বিশাল ধন্যবাদ দিতে চাই। প্রতিবেদনটি পড়ে বাংলাদেশের গবেষণার সত্যিকারের একটি চিত্র ফুটে উঠেছে। আর সেই সঙ্গে আমরা গবেষণাকে কতো অবহেলা করি সেটাও ফুটে উঠেছে চমৎকারভাবে। এখানে চেষ্টা করা হয়েছে, গবেষণায় বরাদ্দের একটি ডাইনামিক চিত্র তুলে ধরতে এবং সেটা লেখক শামীম আহমেদ ও জয়শ্রী ভাদুড়ী অত্যন্ত সফলভাবে পেরেছে এইজন্য তাদেরও ধন্যবাদ।
‘গবেষণা প্রকল্প প্রদানে স্বজনপ্রীতি, ভালো ল্যাব না থাকা, গবেষণায় বরাদ্দে অপ্রতুলতা, ভালো গবেষণার স্বীকৃতি না পাওয়া, পদোন্নতিতে গবেষণার চেয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শকে প্রাধান্য দেয়ায় মেধাবী শিক্ষকরা গবেষণাবিমুখ হচ্ছে’ এর চেয়ে সত্য কথা আর হয় না। ইনফ্যাক্ট আমি বলবো, গবেষণা প্রকল্প প্রদানে স্বজনপ্রীতি না বরং চলছে মাফিয়াইজম। ভালো গবেষণা ও গবেষকদের কোনো প্রকার মূল্যায়ন ব্যবস্থা নেই বরং আছে উল্টোটা। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়া হয় ৪ হাজার ১৫১ কোটি টাকা। যার ১.৪৮ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গবেষণার জন্য। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন করা হয় ৪ হাজার ৮৩৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। যার ১.২৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গবেষণার জন্য। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাজেট অনুমোদন করা হয় ৮ হাজার ৮৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। যার ১.২৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয় ২০১৯-২০ অর্থবছরে গবেষণার জন্য। তাহলে স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে শতাংশের হিসাবে গবেষণায় বরাদ্দ দিন দিন কমছে।
এখানেই শেষ নয়। যৎসামান্য যতোটুকুই আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছিলো তার পুরোটা খরচ করতে পারেনি। এর একটি অংশ খরচ করা হয়েছে সবাইকে গবেষণা ভাতা হিসাবে দিয়ে। গবেষণা করুক আর না করুক এই ভাতা সবাইকে দেয়ার অর্থই হলো এটিকে বেতন হিসাবে চালিয়ে দেয়া। এর চেয়ে ভালো ভাবে অ্যাবিউজ করার ব্যবস্থা বুঝি আর হয় না। আরো একটি কারণে বরাদ্দের পুরো টাকা খরচ করতে পারেনি। কারণ প্রশাসনের এই দিকে দৃষ্টি নেই। টাকাটা খরচ করতে হলে এর সুষ্ঠু বণ্টনের পদ্ধতি বের করতে হবে। আবার অপ্রতুল ভেবে সবাইকে যেহেতু খুশি করা যাবে না তাই কাউকেই না দেয়ার চিন্তা থেকেও হতে পারে। আমাদের চিন্তা চেতনার দৈন্যতা দেখে আমি বিস্মিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নেমে আমাদের এখানে যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলো আসলে সার্টিফিকেট ডিস্ট্রিবিউশন কারখানা। ভালো বিশ্ববিদ্যালয় বানাতে হলে ভালো শিক্ষক নিয়োগ এবং ভালো মানের প্রমোশন নীতির প্রয়োজন, আমাদের সেটিও নেই। গোটা সিস্টেম এখন একধরনের মাফিয়ার কাছে বন্দি। আমরা জানিই না যে, বিশ্বের সভ্য দেশগুলো ‘গবেষণা ও উন্নয়ন’ এ খাতে বাজেটে বিশাল একটি বরাদ্দ রাখে। পৃথিবীর ১২৫টি দেশ আছে যারা এই খাতে ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি বরাদ্দ রাখে। সেই লিস্টে আমরা নেই। এমনকি নেপালও এই লিস্টে আছে। বুঝতে হবে উন্নয়নের সঙ্গে গবেষণার একটি নিবিড় সম্পর্ক আছে। আমরা এখনো এটাই বুঝতে পারিনি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]