• প্রচ্ছদ » » গরুর জন্য সীমান্তহত্যা বন্ধ করা যাচ্ছে না?


গরুর জন্য সীমান্তহত্যা বন্ধ করা যাচ্ছে না?

আমাদের নতুন সময় : 21/06/2019

রবিউল আলম

অত্যন্ত সহজ ভাষায় স্বীকারোক্তি করলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। গরুর হাটের ইজারাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো আবেদন তিনি পাননি। মাংস ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের কথা শুনে অবাক। চাঁদাবাজি ও অতিরিক্ত খাজনা আদায়, ১৭ বছর গাবতলী হাটের ১১ কোটির টাকায় ইজারা, একই ইজারাদারের ইজাদারি কাহিনী আলাউদ্দিনের জাদুর চেরাগের মতো। ১৮ টাকায় খাজনা ১১ কোটি, ৩০ টাকা খাজনা ১১ কোটি, ৫০ টাকা খাজনা ১১ কোটি, ১০০ টাকার খাজনা ১১ কোটির কোনো পরিবর্তন হয়নি। কিছু কমবেশি করে ইজারাদার লুৎফর রহমান জমাদার বহাল তবিয়েতে আছেন। তারপরও অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের শত শত অভিযোগ মেয়র পর্যন্ত পৌঁছায়নি, এর রহস্য কোথায়? মাননীয় মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করে বুঝতে পারলাম, অত্যন্ত দায়িত্বশীল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবিষ্কার এতো নিখুঁত হতে পারে, তার সঙ্গে না মিশলে আপনি বুঝতেই পারবেন না তিনি মানুষের কথাগুলো কতো মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে শোনেন। ৩০০ টাকা কেজি মাংস বিক্রয় করা সম্ভব কথাগুলো শোনার সময় মেয়র মহোদয়ের চোখের পলক পড়েনি। আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার প্রথম পাতায় লেখাসহ বিগত তিন বছর লিখেছি, লিখছি, মেয়র আতিকুলকে তা জানিয়েছি। সীমান্ত থেকে গাবতলী গরুর হাট পর্যন্ত একটি গরুর অতিরিক্ত চাঁদাবাজি ৫০-৬০ হাজার টাকা, তার উপর গাবতলী গরু হাটের ইজারাদারের অতিরিক্ত খাজনা আদায়, কর্পোরেশন কর্তৃক নির্মিত মাংস ব্যবসায়ী সমিতির অফিস দখলে রাখা বিষয়গুলো বলেছি। কর্পোরেশনের দায়িত্ব গাবতলী গরুর হাটকে আইনের আওতায় আনা। সরকারের দায়িত্ব চরাঞ্চল, বনাঞ্চল, পাহাড়ি অঞ্চলকে দীর্ঘমেয়াদি লিজ দিয়ে পশুপালনের জন্য খামার গড়ে তোলা। ৫ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ দিয়ে কৃষককে পশুপালনে উৎসাহিত করা, ভারতীয় পশু বাংলাদেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা।
গরুর জন্য সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা যাচ্ছে না। ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র, সামান্য গরুর জন্য সীমান্ত হত্যা আমরা চাই না। গরু লালন-পালনে মাত্র এক বছর সময় লাগবে, আজ যদি আমরা শুরু করি তাহলে এক বছরের মধ্যে ৩০০ টাকায় আমরা মাংস খেতে পারবো এবং প্রতিবছর ৫০ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবো। বরিশালের কালাইয়ার চরের গরু দিয়ে বাংলাদেশ ৩ মাস চলে, চরাঞ্চলের অভাব নেই আমাদের দেশে। সমবায়ের মাধ্যমে গরু-মহিষের খামার চালানো যায়। কালাইয়া থেকে অনেক বড় ভাষানচরে ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। পশুপালনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশে বৈদেশিক মুদ্রাও আয় হবে। চার থেকে পাঁচটা চর পশুপালনের আওতায় আনতে পারলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার বন্ধ হবে, ভারতীয় পচা মাংস ও গরু আমদানি বন্ধ হবে। আমাদের কৃষক স্বাবলম্বী হবে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক মুক্তি লাভ করবে। মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রকৃত বিষয়টি উপলব্ধি করে বললেন, আমি আমার দায়িত্ব হিসেবে গাবতলী গরুর হাটকে আইনের আওতায় আনবো। আমি তাকে বললাম, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আমাদের সংগ্রাম চলবে। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলাম, তিনি ভারতীয় মাংস আমদানি বন্ধ করেছিলেন। মেয়র সাঈদ খোকন নিজ থেকে বুঝে নিয়েছেন। বর্তমান বাণিজ্য, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার প্রয়োজন, এরপর আলাপ করবো মাননীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে। মিডিয়া তাদের ভ‚মিকা ও দায়িত্ব পালন করছেন। ৩০০ টাকায় মাংস খেতে চাইলে আরো ভ‚মিকা রাখতে হবে। প্রখ্যাত সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান অনেক আগে থেকেই শুরু করেছেন। লেখক : মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]