প্রেম!

আমাদের নতুন সময় : 21/06/2019

রিতা রায় মিঠু

তরুণ এবং তরুণী, দুজনেই একসময় আমাকে ফেসবুকে ‘দি’ভাই, ‘দি’ভাই করে পাগল (ভালো অর্থে) করে দিতো। প্রায় আট বছর আগের কথা বলছি, যখন সবে ফেসবুকে এসেছি। বন্ধু লিস্টে বন্ধু নেই। বন্ধুত্ব করার জন্য একে-তাকে রিকোয়েস্ট পাঠাতাম, কেউ গ্রহণ করতো, কেউ ফিরিয়ে দিতো। কেউবা আনফ্রেন্ড করে দিতো। একজন নামকরা গেরিলা যোদ্ধাকে অনলাইনে পেয়ে যুদ্ধকালীন সময়ের কিছু প্রশ্ন করেছিলাম বলে আমাকে ‘আনফ্রেন্ড’ করে দিয়েছিলেন। আমার বয়সী একজন টিভি উপস্থাপককে এক-দুটো প্রশ্ন করেছিলাম বলে সেই যে তিনি গা ঢাকা দিলেন, আরেক টিভি অভিনেতাকে তার অভিনয়ের বিশাল প্রশংসা করে ফেলেছিলাম বলে সঙ্গে সঙ্গে আমায় আনফ্রেন্ড করে দিয়েছিলো। এমন আরো অনেক মজার মজার ছেলেখেলা চলতো, সেসময়ের কথা বলছি। তখনো ‘ফেক আইডি’র চিন্তা কারো মাথাতে আসেনি, ফেসবুক সেলিব্রিটি তৈরি হয়নি। সবাই বেশ স্বচ্ছতার সঙ্গেই ফেসবুকে বিচরণ করে। যে তরুণ-তরুণীর কথা দিয়ে লেখা শুরু করেছি, ওরা আমার সেই বন্ধু আকালের দিনের বন্ধু। তরুণ ঢাকাতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, তরুণী কলকাতায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রী।
তরুণ আর তরুণীতে নাকি ফেসবুকেই পরিচয়, প্রথম দিন পরিচয়, পরের দিন থেকেই প্রেম। এরপর প্রেম শুধু গভীরই হয়, প্রেমের ডায়লগ সরাসরি ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট হয়, দু’জন দু’জনকে ‘জানু’ ডাকে। তরুণ তার প্রোফাইল পিকচার বানায় তরুণীর ছবি দিয়ে, এদের এমন ডিজিটাল প্রেম থেকে যে কিছু শিখবো, সেই বয়স পেরিয়ে এসেছি, তাই দর্শকের গ্যালারিতে বসে ওদের প্রেমকাব্য উপভোগ করতাম। এরপর অনেকদিন পেরিয়ে গেছে আমি লেখালেখি পলিটিক্যাল ঝগড়ার নেশায় আক্রান্ত হয়েছি। বন্ধুর সংখ্যা দ্রæত বাড়তে লাগলো, ধীরে ধীরে তরুণ-তরুণীও আমার দৃষ্টির সীমানা ছাড়িয়ে চলে গেলো আরো অনেক গভীরে। একসময় ওদের নামটাও মনে করতে পারতাম না, তবে ওদের খুব মিস করতাম। এর মধ্যেই একদিন সেই তরুণের বিয়ের ছবি ওয়ালে পোস্ট হতে চমকে গেলাম। আরে! এই তো তরুণ ফিরে এসেছে, বিয়ে করেছে ওরা! বউ দেখতে গিয়ে ওর পাশে সেই মিষ্টি, মায়াবী চেহারার তরুণীর বদলে অন্য আরেকজন নারীকে দেখে বিষম খেলাম। নানা রকম রোমান্টিক অ্যাঙ্গেলে তোলা ছবি, তার জন্য আমার বুঝতে ভুল হচ্ছে না তো? কিন্তু তরুণের নাম তো সেই একই আছে।
তরুণের চেহারাও একই আছে, শুধু বউয়ের চেহারা ভিন্ন! যখন তাদের চিনতাম, তাদের কথাবার্তা, বাড়িঘরের আসবাবের ছবি দেখে-শুনে মনে হতো আধুনিক ও সচ্ছল পরিবারের তরুণ-তরুণী। কিন্তু একই নামের, একই চেহারার তরুণের বিয়ের ছবি দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে বিয়ের আসর থেকে শুরু করে নতুন বউয়ের সাজগোজ, খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন, সর্বত্র একেবারেই কঠিন গ্রাম্য জীবনের ছাপ সুস্পষ্ট। কথাবার্তায় চৌকস তরুণের বিয়ের আবহ এমন হওয়ার কথা ছিলো না। নিঃসন্দেহ হতে তরুণকে একটি বিয়ের শুভেচ্ছা মেসেজ পাঠালাম। সঙ্গে প্রশ্ন করলাম আচ্ছা তোমার সেই ‘ওর’ খবর কি? পরদিন উত্তর এলো, ‘কি জানি দিদি, আমি ওর খোঁজ রাখি না। দুই বছর আগে আমাদের ব্রেক-আপ হয়ে গেছে’। মনে পড়ে গেলো প্রেমের শুরুর যতো ছবি দেখেছি, সেখানে শুধুমাত্র মেয়েটির পারিবারিক ছবি দেখেছি, মেয়েটির আহ্লাদে গদগদ মুখশ্রী দেখে প্রশ্রয়ের হাসি হেসেছি, ছেলেটির কাছ থেকে শুধু বড় বড় কথা শুনেছি, ছেলের পারিবারিক ছবি তো একটিও দেখিনি। তখন সে বলতো, ঢাকা শহরের আধুনিক ফ্ল্যাটে সে একাকী জীবনযাপন করে, কিন্তু সেই জীবনের ছবিও দেখিনি। তার মানে কি? তরুণ কি তরুণীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিলো? তরুণী কি শেষ পর্যন্ত মিথ্যাটুকু ধরতে পেরেছিলো নাকি তরুণী স্বেচ্ছায় এই প্রেম বিভ্রান্তি খেলায় কিছুদিনের জন্য মেতেছিলো। প্রশ্ন হয়েই থেকে গেলো ফেসবুকে নিজের চোখে দেখা অনন্ত প্রেম কেন মিলনে নয়, বিচ্ছেদে সমাপ্তি হয়েছিলো। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]