• প্রচ্ছদ » » শুধু উন্নয়ন কিংবা উন্নয়নে সমতা নয়, প্রয়োজন টেকসই উন্নয়ন


শুধু উন্নয়ন কিংবা উন্নয়নে সমতা নয়, প্রয়োজন টেকসই উন্নয়ন

আমাদের নতুন সময় : 21/06/2019

প্রকৌশলী নওশাদুল হক

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের ক্ষেত্রে মৌলিক বিষয় পাঁচটি। যেমন : সামাজিক উন্নয়ন, রাজনৈতিক উন্নয়ন, ধর্মীয় উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন। আপাতদৃষ্টিতে ধর্মীয় উন্নয়ন ছাড়া বাকী বিষয় সমূহের উন্নয়ন অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপরই অনেকাংশে নির্ভরশীল। অর্থাৎ ধনাত্বক প্রবৃদ্ধিই একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নের মূল নির্দেশক হিসাবে বিবেচিত। অথচ প্রবৃদ্ধি শব্দটি কেবলমাত্র অর্থনীতির ক্ষেত্রেই বহুলাংশে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলতে নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশের অর্থনীতিতে পণ্য ও সেবার উৎপাদন বৃদ্ধিকেই বুঝায়। অর্থাৎ কোনো দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির শতকরা হারকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।
কিছু কিছু সমাজবিজ্ঞানী উন্নয়নে সমতার কথা বলে টেকসই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে থাকেন। যেখানে তারা শুধুমাত্র নারী পুরুষের সমতার দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করেন। অথচ তারা নিজেরাও জানেন যে, এটা মোটেও সম্ভব নয়। নারী পুরুষের সমতা আনয়ন কোনো দেশেই অতীতে সম্ভব হয়নি। অদূর ভবিষ্যতেও সম্ভব হবে না হয়তোবা। কারণ, একজন পুরুষ একজন নারীর ন্যায় সন্তান ধারন কিংবা সন্তানকে বুকের দুগ্ধ পান করানো কি আদৌ সম্ভব? সোজা উত্তর-না। তেমনিভাবে একজন নারীকেও শারীরিক গঠন শৈলী ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণেই একজন পুরুষের ন্যায় অনেক কাজই পুরোপুরি সম্পন্ন করা কোনোক্রমেই সম্ভব হয় না। সুতরাং এক্ষেত্রে উন্নয়নে সমতা নয় বরং বৈষম্য দূর করাকেই আমরা চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিতে পারি হয়তোবা। যা হবে উন্নয়নের জন্য মাইল ফলক।
আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল আরও অনেক দেশেই মূলতঃ উৎপাদন বৃদ্ধি, জনশক্তি রপ্তানি, তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন, অবকাঠামো ও যোগাযোগের উন্নতিকেই উন্নয়নের মূল হিসাবে দেখা হয়ে থাকে। প্রকৃতপক্ষে এই সকল বিষয়সমূহ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখলেও এগুলো কেবলমাত্র বস্তুর উন্নয়নেরই নামান্তর মাত্র। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যক্তির উন্নয়ন কিভাবে সম্ভব? ব্যক্তির উন্নয়ন চাইলে প্রথমেই ব্যাপকহারে নিশ্চিত করতে হবে সামাজিক উন্নয়ন। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে করতে হবে আরও বেশি সুদৃঢ় ও মজবুত। আর এর জন্যে প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। সাথে সাথে অপসংস্কৃতি ও বিদেশী সংস্কৃতির কবল হতে দেশীয় সংস্কৃতিকে রক্ষা করে নিজস্ব সংস্কৃতির বেশী বেশী চর্চা করতে হবে। এছাড়াও ব্যক্তির উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ধর্মীয় মূল্যবোধ, ধর্মীয় রীতি-নীতি, বিধি-নিষেধ, ধর্মীয় অনুভূতি ও ধর্মীয় অনুশাসন। দুনিয়াতে সকল ধর্মই বলে- সেবা সর্বাগ্রে। আর সেই সেবার মান নিশ্চিত ও উন্নত হবে কেবল সুশাসন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হলেই। আর ব্যক্তির মধ্যে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে ব্যক্তির নিজস্ব উন্নয়ন। সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উন্নয়নের ফলে মজবুত হয় ব্যক্তির উন্নয়ন। ব্যক্তির উন্নয়নের সাথে বস্তুর উন্নয়ন বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়লে ঘটে যে উন্নয়ন, তা কেবলমাত্র উন্নয়ন বা সুষম উন্নয়নই নয়, সেটিই হলো টেকসই উন্নয়ন। লেখক : সভাপতি, ঢাবি সমাজকল্যাণ অ্যালামনাই ফোরাম




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]