• প্রচ্ছদ » » স্যাটায়ারিস্টদের দায়বদ্ধতা ও জীবন-সংসার!


স্যাটায়ারিস্টদের দায়বদ্ধতা ও জীবন-সংসার!

আমাদের নতুন সময় : 21/06/2019

সোহেল অমিতাভ

স্যাটায়ার যেহেতু স্বভাবজাত দোষ-গুণ, ফলে এটি কৃত্রিমত্ত¡ার একাডেমিক পাঠ্যক্রমের জিপিএ ৪ অথবা ৫ নয়। স্যাটায়ার জন্মগত তাই স্যাটায়ারিস্টের মূলত কোনো দায়বদ্ধতা নেই! সবই বিধাতার লিখন! এ কারণেই সে মানবসৃষ্ট সময় ও সভ্যতাকে কটাক্ষ করে, ব্যঙ্গ করে হাস্যরস উৎপাদন করে, যা থেকে মানুষ দীর্ঘায়ু কামনা করতে পারে। এইটুকু শুধু। অন্য কোনো দায়বদ্ধতা নেই, আর সে কারণেই স্যাটায়ারিস্ট কখনো রাজকবি হতে পারেন না, হলে গোপাল ভাঁড় হয়ে যেতে হয় ।
স্যাটায়ারিস্টদের ব্যক্তিগত কিছু দায় আছে, যে দায় স্যাটায়ারিস্টকে একা একা শোধ করতে হয়। তা হচ্ছে তার নিজের স্বভাব গুণে তিনি যে প্রতিভাপ্রাপ্ত, সেটাকে স্ব-স্বভাব অতিক্রম করে কবিতার দরবারে পৌঁছে দেয়া, যেখানে অনবরত কবিতা উৎপাদনে কাব্য জটলায় আটকে থাকে সময়। সেই সময়টার পশ্চাৎ-এ একটু লাথি মেরে সময়টা বদলে দেয়া, আরেকটি বসন্তের প্রত্যাশায়। এই দায়টুকু স্যাটায়ারিস্টকে নিজ দায়িত্বে পালন করতে হয়। কবিতাকে মেরামত করে দিতে হয় সময়ের হাতে।
স্যাটায়ারিস্টদের জীবন ও কর্ম পুরোটাই সামাজিক দায়বদ্ধতায় আবদ্ধ পুষ্প ! অর্থাৎ ‘কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি’ সি এস আর। এই সি এস আরের কর্পোরেট প্রধানই হচ্ছেন স্যাটারিস্ট নিজে। ফলে আলাদা করে ভিন্ন পোশাকে সামাজিক দায় মেটানোর প্রয়োজন নেই। সেটা করতে গেলে বুদ্ধিজীবী স্তরে স্যাটায়ারিস্টের অবনতি ঘটবে, হারিয়ে যাবে সক্রিয়তা। তাই স্যাটায়ারিস্টকে মেনে নিতে হবে নিজের অচ্ছুৎতাকে। সমাজের সজারু হয়ে তীক্ষè কাঁটায় বিঁধতে ওই সব স্থানে যেখানে এখনো জ্ঞানের টিকা দেয়া হয়নি।
স্যাটায়ারিস্টদের পরিবার ও ব্যক্তিজীবন বিচিত্র হতে বাধ্য। ব্যক্তি ও পরিবারের দ্ব›দ্ব থেকেই স্যাটায়ারিস্টদের বদ্ধতালা খুলে যায়। বেরিয়ে আসতে থাকে রসমঞ্জুরি। এরপর সমাজ ও রাষ্ট্র তাকে বাধ্য করে স্যাটায়ারিস্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশের। তখনই রস সঞ্চারিত হয় সমাজে রাষ্ট্রে কিন্তু স্যাটায়ারিস্টদের পরিবার বিধ্বস্ত হয়ে পোয়েট কিচেনে রূপ নেয়। রসের রেসিপিতে ভরে ওঠে রান্নার জীবন আর কান্নার অন্তর্ভেদী হাস্যরস ! সংসার ঔষধালয়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]