• প্রচ্ছদ » » হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারের একটি বৈধ সামরিক সংগঠন হলেও আমেরিকা ও তার মিত্রদের চোখে তা অবৈধ!


হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারের একটি বৈধ সামরিক সংগঠন হলেও আমেরিকা ও তার মিত্রদের চোখে তা অবৈধ!

আমাদের নতুন সময় : 21/06/2019

মাহফুজুর রহমান

লেবাননের শিয়া সমর্থিত একটি শক্তিশালী মিলিশিয়া সংগঠন। হাসান নসরুল্লাহ এর প্রধান। আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের সবই আছে তাদের। স্বল্প পাল্লার মিসাইল তাদের অস্ত্র ভাÐারে অফুরন্ত, যা ইসরাইলের পুরা ভ‚খÐে আঘাত হানতে পারে। ইরান ও সিরিয়া এদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে পেট্রোনাইজ করে। হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারের একটি বৈধ সামরিক সংগঠন হলেও আমেরিকা ও তার মিত্রদের চোখে এটা অবৈধ। লেবাননে ২৮ শতাংশ সুন্নি, ২৮ শতাংশ শিয়া ও ২২ শতাংশ খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা, বাকি অন্যরা। সরকার ব্যবস্থাও ইন্টারেস্টিং! খ্রিস্টান থেকে প্রেসিডেন্ট, সুন্নি থেকে প্রধানমন্ত্রী, শিয়া থেকে স্পিকার হবেন। পার্লামেন্টেও সেই অনুপাতে সুন্নি, শিয়া ও খ্রিস্টান সদস্য নিয়ে গঠিত। ধর্মীয় সম্প্রীতি সেখানে ১শ শতাংশ। ইসরাইলের হাজার উসকানিতেও কাজ হয় না।
২. ফিলিস্তিনের ( গাজা স্ট্রিপ) হামাস… ফিলিস্তিনিদের একটি রাজনৈতিক সংগঠন। খালেদ মিশাল এই দলের রাজনৈতিক ব্যুরো প্রধান। গাজা স্ট্রিপ নিয়ন্ত্রণ করে। ইয়াসির আরাফাতের-ফাতাহ নানা কারণে দুষ্ট হবার জন্য হামাসের উৎপত্তি। হামাসের সামরিক শাখা কাসসাম ব্রিগেড। ফিলিস্তিনি পার্লামেন্টের অধিকাংশ আসন হামাসের। হামাস সুন্নি আদর্শে বিশ্বাসী। গাজা ভ‚খÐ তারা নিয়ন্ত্রণ করছে। কাসাম ব্রিগেড মূলত গেরিলা যোদ্ধা। ইয়াসির আরাফাতের পিএলও এর প্রাক্তন যোদ্ধাদের নিয়ে এটা গঠিত হয়েছিলো। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের কাছে কাসসাম ব্রিগেড বৈধ হলেও আমেরিকা ও তার মিত্রদের কাছে এটা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। সুন্নি হওয়া সত্তে¡ও হামাস মিলিশিয়াদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে পেট্রোনাইজ করে ইরান। হামাসের কাছে এতো রকেট আছে যে তারা ইসরাইলের অভ্যন্তরে প্রতি মিনিটেই এক হাজার রকেট ছুড়তে পারে।
৩. ইয়ামিনের হুথি বিদ্রোহী : ইয়ামেনের প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি শিয়া মুসলমান। সুন্নিদের চাইতে সংখ্যায় কম হলেও সাধারণ নির্বাচনে শিয়া সমর্থকেরা ইয়ামেনের ক্ষমতা পায়। পরাজিত সুন্নি শাসক সৌদি আরবের সহায়তায় ক্ষমতা ছাড়তে টালবাহানা করে ও বিরোধী শিয়া সমর্থকদের নিপিড়ন শুরু করলে শিয়া নেতা বদরুদ্দীন আল হুথির নেতৃত্বে সংগঠিত হন। ইয়ামেনের সামরিক বাহিনীর অনেক সদস্য হুসাইন বদরুদ্দীন হুথিকে সমর্থন করে ও সরকারি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হয়। বিদ্রোহীরা হুথি নামেই পরিচিত হুথিরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ইরানের কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছে। হুথিরা সরকারি বাহিনীকে রাজধানী সানা থেকে হটিয়ে দখল করে নেয়। হুথিদের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আছে, যা দিয়ে তারা সৌদি সামরিক জোটকে নাজেহাল করছে।
৪. মিসরের ব্রাদারহুড, একটি সুসংগঠিত সুন্নি রাজনৈতিক দল। দলের প্রধান মুরসি, সম্প্রতি যিনি আদালতের ভেতরেই মারা গেলেন। মিসরের ইতিহাসে একটি নিরেপক্ষ সাধারণ হলে ব্রাদারহুড ক্ষমতা পায়, তবে সেনাপ্রধান সিসি আমেরিকার সমর্থনে সামিরিক অভ্যুত্থান করে ক্ষমতা নেন, এখন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। ব্রাদারহুডের অবশ্য সামরিক শাখা নেই। ৫. ইরানের সামরিক বাহিনী, সিরিয়ার আসাদ সরকারের পতন যখন আসন্ন তখন লেবাননের কয়েক হাজার হিজবুল্লাহ সিরিয়ায় এসে আসাদের পক্ষে লড়াই করে। ইরানও সেখানে অস্ত্র, সেনা ও সামরিক উপদেষ্টা পাঠায়। তবে রাশিয়ার বিমান বাহিনী সিরিয়ায় আসাদের পক্ষ নিলে পুরো যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। আসাদ এখন প্রায় বিদ্রোহী মুক্ত।
৬. কাতার, কাতার যখন আল জাজিরার কারণে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো দিয়ে প্রায় অবরুদ্ধ তখন ইরান তাদের খাদ্য পানীয় দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে। অর্থাৎ ইরান এখন আরব-আফ্রিকাতে পরাশক্তি। রাশিয়া ও চীনকে কাছে টানতেও ইরান সক্ষম হয়েছে। সিরিয়া যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়া কিছু এদিক-ওদিক করলেও ইরানের নেতাদের ক‚টনীতিক তৎপরতায় তা অনুক‚লে আসে। ইরানের সামরিক শক্তি আগের তুলনায় কয়েকশো গুণ বেশি। এমন অবস্থায় আমেরিকা ও তার মিত্ররা যতোই হম্বিতম্বি করুক শেষে লেজ গুটিয়ে দেবে বলেই আমার বিশ্বাস। ইরান অনেক সুশৃঙ্খল জাতি, ইরানকে আজকের অবস্থায় আসতে নেতাদের সীমাহীন ধৈর্যের পরিচয় দিতে হয়েছে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]