খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে  বিএনপির ‘আত্মবিশ্ব্স নেই

আমাদের নতুন সময় : 22/06/2019

দেবদুলাল মুন্না : ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ঢাকায় দায়েল করা দুই মামলায় মঙ্গলবার ছয় মাসের জামিন পেলেও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি কবে ঘটবে এ বিষয়ে বিএনপি নেতারা যেমন কিছুই বলতে পারছেন না, তেমনই কয়েকদফা আন্দোলন করার হুমকি দিলেও সেই আন্দোলন সফল হয়নি। বিএনপি সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গত পাঁচ বছর সংসদের বাইরে থাকা এবং আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে মামলা-হামলার শিকার হয়ে কোণঠাসা দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে। দিনে দিনে তারা ‘আত্মবিশ্বাস’ হারিয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন সংঘটিত করার মতো বাস্তবতা নেই বিএনপির।

এ বিষয়ে ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে সরকারি হস্তক্ষেপে কারাগারে বন্দী করে রাখা অন্যায়। রাজপথে আন্দোলনেও তারা করতে দিচ্ছে না। বিএনপিও আন্দোলনের জন্য সারাদেশ থেকে ঢাকার রাজপথে যথেষ্ট কর্মীর জমায়েত করে যে আন্দোলনের ডাক দিবে সেটিও পারছে না।’

খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, ‘ওই দুই মামলায় হাইকোর্ট বিএনপির চেয়ারপারসনকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন। দুদকের করা দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজার রায় হয়েছে। এই দুই মামলায় জামিন পাওয়ার পর সরকার যদি হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে বিএনপির চেয়ারপারসনের কারামুক্তিতে আইনগত বাধা থাকবে না।’ সম্প্রতি খালেদা জিয়ার কারামুক্তির জন্য দলের গুলশানের কার্যালয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। এর আগে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এই বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্ত করতে আইনি সব প্রক্রিয়া শেষ করতে চান বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা। এরপরই মুক্তির আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে চান তারা। বৈঠকে আইনজীবীদের মধ্যে খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। আন্দোলনের জন্যও ইতিবাচক সাড়া নেই।’

সোমবার ‘আগামী সপ্তাহে আদালত খালেদা জিয়ার জামিন দেবে’, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের এমন মন্তব্য করলে আওয়ামীলীগ নেতা ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি (মওদুদ) একজন বিজ্ঞ আইনজীবী, তিনি হয়তো ধারণা করেই বলেছেন। এক্ষেত্রে বিচার সম্পূর্ণটা আদালত করেছেন। তাকে (খালেদা জিয়া) শাস্তি দিয়েছেন আদালত। জামিন দেওয়ার দায়িত্বও আদালতের। আমরা সবসময় আদালতকে সম্মান প্রদর্শন করি। তাই আদালতের রায় সর্বশেষ বিচার হিসেবে গণ্য হবে।’ বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি সভা-সমাবেশ, গণঅনশন, মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালন করেও সরকারের ওপর প্রভাব ফলতে পারেনি। কথায় কথায় সরকারের মামলা দেওয়ার কারণে আমাদের দলে ফাঁকিবাজ নেতা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনে নামতে ভয় পাচ্ছেন তারা।’ সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]