• প্রচ্ছদ » » ড. মুহাম্মদ মুরসি, সালাফি নূর পার্টি সৌদি রাজতন্ত্র এবং জেনারেল সিসি


ড. মুহাম্মদ মুরসি, সালাফি নূর পার্টি সৌদি রাজতন্ত্র এবং জেনারেল সিসি

আমাদের নতুন সময় : 22/06/2019

আপনি যদি ইতিহাসের পাতায় একটু চোখ বোলান তবে দেখতে পাবেন মুসলমানদের বড় পরাজয়গুলো শত্রæপক্ষ শক্তিশালী হওয়ার কারণে নয় বরং নিজেদের মধ্যকার অনৈক্য, গ্রæপিং, হানাহানি, প্রাসাদ ষড়যন্ত্র এসবই বেশি দায়ী। ইসলামের সোনালী যুগে মুসলমানদের মাঝে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছিলো বলে তখন ইসলাম ছিলো বিজয়ী শক্তি। এই ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের সংস্কৃতি ক্ষয়িষ্ণু হতে হতে একসময় তীব্র গ্রæপিং ও হানাহানিতে রূপ নেয়। ড. মুহাম্মদ মুরসি ছিলেন মিসরে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। জুন ২০১২-এ নির্বাচিত হওয়ার পর ড. মুহাম্মাদ মুরসি তার বিজয়ী ভাষণে ঘোষণা দেন তিনি মিসরের বর্তমান আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন, প্রত্যক্ষভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলবেন এবং ভ‚রাজনীতিকভাবে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে মনযোগী হবেন। তিনি সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ও বিদ্রোহীদের সাহায্য করার জন্যও বিশ্ববাসীকে আহŸান করেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার এক বছরের মাথায় তাকে উৎখাত করে ক্ষমতা হস্তগত করে ইসরাইলপন্থি জেনারেল সিসি। কিন্তু জেনারেল আবদুল ফাত্তাহ সিসিকে এই সুযোগ কে এনে দিয়েছিলো জানেন? সেটা আর কেউ নয়, মিসরের ইসলামপন্থি একটি দল। সালাফী মতাদর্শের আল নূর পার্টি। ড. মুরসির বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলন বিক্ষোভ শুরু করেছিলো সালাফী আল নূর পার্টি। এই কাজে আল নূর পার্টিকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে সৌদি আরব এবং পাশাপাশি জেনারেল সিসিকে ক্ষমতা দখলের জন্য ইন্ধন দিয়েছিলো সৌদি আরব ও ইসরাইল। তখন গার্ডিয়ান পত্রিকায় একটি আর্টিকেলে আল নূর পার্টির চেয়ারম্যান ইউনুস মাখিউনের ছবি দিয়ে একটি আর্টিকেল ছাপিয়েছিলো যার প্রথমে উল্লেখ ছিলো… ডযবহ এবহবৎধষ অনফবষ ঋধঃধয ধষ-ঝরংর ধহহড়ঁহপবফ গড়যধসবফ গড়ৎংর’ং ফবঢ়ধৎঃঁৎব ড়হ ডবফহবংফধু হরমযঃ রহ ভৎড়হঃ ড়ভ ধ ঢ়ধহবষ ড়ভ ঢ়ড়ষরঃরপরধহং ধহফ ৎবষরমরড়ঁং ভরমঁৎবং ৎবঢ়ৎবংবহঃরহম ধ পৎড়ংং-ংবপঃরড়হ ড়ভ ঊমুঢ়ঃরধহ ংড়পরবঃু, ঃযবৎব ধিং ড়হব ঁহষরশবষু ভধপব নবযরহফ যরস. ওঃ ধিং ঃযব নবধৎফবফ ণড়ঁহবং গধশযুড়ঁহ, পযধরৎসধহ ড়ভ ঊমুঢ়ঃ’ং ষধৎমবংঃ ঝধষধভর ড়ৎ ঁষঃৎধ-ড়ৎঃযড়ফড়ী ঢ়ড়ষরঃরপধষ ঢ়ধৎঃু, ধষ-ঘড়ঁৎ. (ঊমুঢ়ঃ’ং ঝধষধভরংঃ ধষ-ঘড়ঁৎ ঢ়ধৎঃু রিবষফং হবি রহভষঁবহপব ড়হ ঢ়ড়ংঃ-গড়ৎংর পড়ধষরঃরড়হ, ঞযব এঁধৎফরধহ, ০৭ ঔঁষু ২০১৩).
এখানে আরেকটি অবাক করা বিষয় হচ্ছে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে সালাফী আলেমরা নির্বাচন, গণতন্ত্র, ভোট এসবকে হারাম ফতোয়া দিয়ে আসছেন। কিন্তু মিসরের আল নূর পার্টির প্রতি তাদের সমর্থন ছিলো। তাদের এই ডাবল স্টান্ডার্ডকে অনেকেই সৌদি রাজতন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। মুরসির পতনের সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের সব স্বৈরশাসক সিসিকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছিলো। আর মুরসির পতন ও জেনারেল সিসির ক্ষমতারোহণে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা ইসরাইল খুব উঁচু গলায় প্রচার করেছিলো। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিয়াহ এল্ডাদ মুরসির পতনের পর এক বিবিৃতিতে বলেন, ‘মুরসি ক্ষমতায় বসার পর ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে শুরু করেছিলেন। তিনি পূর্ববর্তী শাসকদের সময়ে ইসরাইলের সঙ্গে করা শান্তিচুক্তি বাতিল করে দেন। পাশাপাশি সিনাই উপত্যকায় সেনা মোতায়েন বৃদ্ধি করেন। এ পর্যায়ে এসে ইসরাইল মুরসিকে সরিয়ে ইসরাইলের জন্য সুবিধাজনক আল-সিসিকে ক্ষমতায় আনার জন্য উঠেপড়ে লাগে। এজন্য তারা ক‚টনৈতিক চেষ্টা ও পরবর্তীতে আরো বেশি গভীরে হাত দেয়। একইসঙ্গে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার থেকেও এ বিষয়ে সমর্থন আদায় করে ইসরাইল। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও সিসির রয়েছে অসাধারণ সুসম্পর্ক।’
এই ক্ষুদ্র লেখায় চাইলে আরো অনেক তথ্য-উপাত্ত যোগ করা যায়। কিন্তু যতোটুকু তথ্য আছে তা হতেই ঘটনা পরম্পরা বিবেচনা করলে প্রকৃত সত্য প্রতিভাত হয়ে। মিসরে কারা বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির দালালি করে, কারা অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সহযোগী তা স্পষ্ট দিবালোকের মতো।
আজ সবচেয়ে বড় সত্য হচ্ছে, ড. মুহাম্মদ মুরসি আর এই নশ্বর পৃথিবীতে নেই। তিনি হকের পথে অটল ছিলেন বলে দুনিয়ার জালিমদের দ্বারা অনেক জুলুমের শিকার হয়েছেন। মহান প্রভু আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে উত্তম বিনিময় দান করবেন। আল্লাহ তাকে জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা দান করুন। (সূত্র : ইউরো ভিশন রিপোর্ট) সংগৃহীত




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]