• প্রচ্ছদ » » শ্রদ্ধাঞ্জলি ‘ছন্দের জাদুকর’ কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত


শ্রদ্ধাঞ্জলি ‘ছন্দের জাদুকর’ কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

আমাদের নতুন সময় : 25/06/2019

বাবলু ভট্টাচার্য : ‘ছন্দের জাদুকর’ এই অভিধা পেয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট থেকে। ভাষা ও ছন্দের উপর তার অসাধারণ দখল ছিলো। শব্দ ও ছন্দ নিয়ে যেমন খেলা করেছেন, সেইসঙ্গে জ্ঞান-বিজ্ঞান, ঐতিহ্য, প্রকৃতি, স্বদেশ-সমাজ-সমকাল সম্পর্কেও ছিলেন সমাসক্ত। তিনি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। কলকাতার কাছেই নিমতা গ্রামে মামার বাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, বাংলা ১২৮৮, ৩০ মাঘ। পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের চুপী গ্রামে। সত্যেন্দ্রনাথের পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন প্রখ্যাত সাহিত্যিক, বিজ্ঞান-অনুরাগী এবং ইতিহাস প্রেমিক। ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’র সম্পাদক। পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। উত্তরাধিকারসূত্রে সাহিত্য সাধনা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান অনুশীলনের প্রতি একাগ্রতা লাভ করেন সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। স্কুলের বাঁধাধরা পড়াশোনা আর পরিবেশে মন বসাতে পারতেন না তিনি। কলকাতার সেন্ট্রাল কলেজিয়েট স্কুল থেকে এন্ট্রাস (১৮৯৯), জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিটিউশন থেকে এফ.এ (১৯০১) পাস করেন। বি.এ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে পিতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।  কিন্তু ব্যবসার কর্মটিতেও মন বসাতে পারলেন না। শেষে সব ছেড়ে কাব্যসাধনায় আত্মনিয়োগ করলেন।

রবীন্দ্রভক্ত কবি হয়েও সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের স্বাতন্ত্র্যতা রয়েছে তার কাব্য-বিষয়বস্তুতে, ছন্দ-নির্মিতিতে এবং শব্দ ও ভাষা প্রয়োগের কারুকার্যে। দেশাত্মবোধ ও মানবতার বন্দনা তার রচনার মূল বিষয়। সমাজের তুচ্ছ মানুষদেরও তিনি আপনার বলে ভাবতেন। সংস্কারমুক্ত উদার মানবতাবাদী কবি মানুষে মানুষে মহামিলনের স্বপ্ন দেখেছেন। বলেছেন ‘জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে/ সে জাতির নাম মানুষ জাতি’। শিশু-কিশোরদের জন্য তার হৃদয়ে ছিলো গভীর আবেগ। শিশুর ‘প্রথম হাসির ধ্বনি’ কবির কাছে মনে হয় ‘ফুলঝুরিতে ফুলকি হাসির রাশি’। যে হাসি ভুলিয়ে দিতে পারে সকল দুঃখ, ব্যথা, অতৃপ্তি। ‘ছিন্নমুকুল’ কবিতায় ‘ছোট্ট যে জন’ তার অভাব কীভাবে ‘সকল শূন্য করে’, দেয় তার হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা আছে।  রেলগাড়ির যান, খেলোয়াড়ের দলে, পাল্কির গান, দূরের পাল্লা, ঝড়ের ছড়া প্রভৃতি কবিতায় শিশু-কিশোরদের কৌতূহল, চাপল্য বিশেষ করে তাদের মুখের ভাষা প্রয়োগে কবিতাগুলো অনবদ্য হয়ে উঠেছে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের কর্ণধার। তাই তাদের মধ্যে স্বদেশপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, স্বাজাত্যবোধ জাগানোর জন্যও এমন কিছু কবিতা রচনা করেছেন। তার নাটক, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধাদি সুধীজনসমাদৃত। তার বর্ণনাভঙ্গিতে বৈচিত্র্য এবং মাধুর্য আছে। সমাজের আচার সর্বস্বতা, শুষ্কনীতি, শ্রেণি-দ্বন্দ্ব, নারী-পুরুষ  বৈষম্য এসবের বিরুদ্ধে কবি সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন সদা সত্যভাষী।

নবকুমার, কবিরতœ, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগির প্রভৃতি ছদ্মনামে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত লিখতেন। সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, হোমশিখা, কুহু ও কেকা, অভ্র-আবির, বেলা শেষের গান প্রভৃতি তার রচিত কাব্যগ্রন্থ। সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯২২ সালের ২৫ জুন মাত্র একচল্লিশ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

লেখক : চলচ্চিত্র গবেষক ও সাংস্কৃতিক কর্মী

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]