এবারের প্রজনন মৌসুমে ৫০ ভাগ মা ডিম ছাড়লে পাওয়া যাবে তিন হাজার কোটিরও বেশি ইলিশ

আমাদের নতুন সময় : 26/06/2019

মতিনুজ্জামান মিটু : সব কিছু ঠিক থাকলে এবারের প্রজনন সৌসুমে মা ইলিশের ডিম ছাড়ার হার আরো বাড়বে। এতে ইলিশ পরিবারে যুক্ত হতে পারে তিন হাজার কোটিরও বেশি খোকা ইলিশ বা জাটকা। গত প্রজনন মৌসুমে ৪৮ ভাগ মা ইলিশ ডিম ছেড়েছিলো। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) চাঁদপুর নদীকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, প্রকৃতিক কোনো দৈবদুর্বিপাক না হলে এবং আইনের সঠিক বাস্তবায়নের ধারা অব্যাহত থাকলে এবারেও অধিক সংখ্যায় মা ইলিশ ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ পাবে। গতবছর অক্টোবরের ৭ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত মোট ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও পরিবহনের ওপর সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় অধিক সংখ্যায় মা ইলিশ ডিম ছাড়ে।

বিএফআরআই চাদপুর নদীকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিসুর রহমান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকরণের প্রভাব নিরুপণের জন্য ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রগুলোতে সমীক্ষা চালানো হয়। ইনস্টিটিউট আহরিত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইলিশ প্রজনন সাফল্যে ২২ দিন আহরণ নিষিদ্ধকরণের প্রভাব রয়েছে। আহরণ নিষিদ্ধকালে ধরা ইলিশের অধিকাংশই ছিলো পরিপক্ক অবস্থায়। এছাড়াও প্রজননক্ষম মা ইলিশের হার ২০১৭ সালের ৭৩ থেকে বেড়ে ২০১৮ সালে  ৯৩ শতাংশে উন্নীত হয়। এর মধ্যে ৪৭.৭৪ ভাগ পরিপক্ক মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পায়। আংশিক ডিম ছাড়া ইলিশের হার ছিলো শতকরা ২২ ভাগ এবং প্রজননরত ইলিশের হার ৩ থেকে ১০ শতাংশে এ উন্নীত হয়। এছাড়া ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকরণে প্রজনন সাফল্য হয় প্রায় ৮০ শতাংশ। ডিম উৎপাদিত হয় ৭ লাখ ৬ হাজার কেজি।

এর মধ্যে ৫০ ভাগ ডিমের পরিস্ফুটন স্বাভাবিক হলে এবং এর ১০ ভাগ বেঁচে থাকলে ৩ হাজার কোটি জাটকা ইলিশ পরিবারে যুক্ত হয়েছে বলে গবেষকরা মনে করছেন। ইলিশের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্রগুলোতে পরীক্ষামূলক নমুনায়নের সময় প্রায় ৮৩ ভাগ ইলিশের রেণু পোনা পাওয়া যায়। অন্যান্য প্রজাতির মাছের রেণু পোনা পাওয়া যায় প্রায় ১৭ ভাগ। জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষিত হওয়ায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন বেড়ে ৫ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]