চলতি বছর হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার বিচার শেষ হওয়ার প্রত্যাশা

আমাদের নতুন সময় : 01/07/2019

মামুন আহম্মেদ খান : তিন বছর আগে ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশসহ দেশি-বিদেশি ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ডে’ পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। ওই ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাস বিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার তিন বছর অতিবাহিত হলেও মালার বিচার শেষ হয়নি। তবে মামলার বিচার কার্যক্রম বিচারাধীন অন্যান্য মামলার তুলনায় ত্বরিত গতিতে এগোচ্ছে। যেভাবে মামলার বিচার কার্যক্রম অগ্রসর হচ্ছে এতে করে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই এ মামলার বিচার শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার লক্ষ্যে তৎপর রয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আর বিচারে আসামিদের কিভাবে খালাস করা যায় সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমানের আদালতে মামলাটি বিচারাধীন। আগামীকাল মঙ্গলবার মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

মামলা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিব প্রসিকিউটর মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, হলি আর্টিজানে হামলার মামলাটি বিশ্বের সংঘটিত ঘটনাবলির মধ্যে একটি। সেদিনের হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন খানসহ মারা যান। দেশী-বিদেশীসহ আরো ২০ জন মারা যান। সেদিনের নেক্কারজনক ঘটনার মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা চেষ্টা করেছিল অগ্রগামী বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়ার। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত বিচক্ষণতার কারণে সন্ত্রাসীদের সেই প্রচেষ্টা বিফল করে দেয়া হয়। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে আইননের আওতায় এনে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা  করেছেন।

তিনি বলেন, মামলাটি আমাদের ট্রাইব্যুনালে আসার পর আমরা রাষ্ট্রপক্ষের সকলে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে যেন মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ হয়। যেভাবে মামলাটির বিচারকাজ এগিয়ে চলছে তাতে আমরা আশা করছি দ্রুত সময় ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে মামলাটির বিচারকাজ শেষ হয়ে যাবে। সারা বিশ্ব মামলাটির বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যে সাক্ষীদের উপস্থাপন করা হয়েছে তা আসামিদের দোষী প্রমাণ করা জন্য যথেষ্ট। এছাড়া এ মামলার ছয়জন আসামি আদালতে বিভিন্ন সময়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। জবানবন্দিতে নিজেদের দোষী ও অপরাধের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন তারা। এখনো এ মামলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি রয়েছে। যা পর্যায়েক্রমে আসবে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, এ মামলায় ৬০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এদের মধ্যে কোন সাক্ষীই আসামিদের নাম বলেনি। আসামিদের কাছ থেকে কোনো কিছু উদ্ধার হয়েছে মর্মেও আদালতের নথিপত্রে নেই। এ ছাড়া মূল আসামিদের আমরা (চার্জশিটভুক্ত আসামিরা) সহায়তা করেছি, এমন কথাও কোনো সাক্ষী আদালতে বলেননি। এমতাবস্থায় আশা করছি, আসামিরা এ মামলা থেকে খালাস পাবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলাটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছে। এভাবে চললে মামলাটির বিচার কার্যক্রম দ্রুতই নিষ্পত্তি হবে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে রায় হয়ে গেলে বিষয়টিকে অবশ্যই স্বাগত জানাব। আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটা সাক্ষীর দিন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির থাকেন। সে বিষয়টি সাক্ষীরা নিজেরা স্বীকার করেছেন তার উপস্থিত থাকার বিষয়ে। উনার উপস্থিতির কারণে সাক্ষীরা অনেক সময় অন্যরকম ফিল করেন। মামলাটি পরিচালনা করার জন্য আমরা সহযোগিতা করছি যার কারণে আজ পর্যন্ত অনেক সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে। মামলাটির কার্যক্রম যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা মনে হচ্ছে চলতি বছরের মধ্যে রায় ঘোষণা করতে পারবে বিচারক।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে কূটনৈতিক এলাকা গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলা করে এবং দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে। এ সময় অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন খান নিহত হন। রাতের বিভিন্ন সময় তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জন জিম্মিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা।

পরদিন সকালে যৌথ বাহিনী কমান্ডো অভিযান চালায়। এতে ছয় হামলাকারী নিহত হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৩ জিম্মিকে। ওই ঘটনায় ২ পুলিশ কর্মকর্তা, জাপানি, ইতালি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভতু আমেরিকানসহ ১৮ বিদেশি ও ২ বাংলাদেশি  এবং ৬ জঙ্গিসহ ২৮ জন নিহত হন।

 

 

 

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]