রাজউকের অভিযান, অচিরেই নিয়ম বহির্ভূত সুউচ্চ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আমাদের নতুন সময় : 03/07/2019

সুজিৎ নন্দী : রাজধানীর ১০তলার বেশি উচ্চতার নিয়ম বহির্ভুত ভবনের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে রাজউক। প্রায় ১৮শ নিয়ম বহির্ভুত ভবনকে শিঘ্রই চিঠি দেয়া হবে। এর মধ্যে কিছু ভবনকে জরিমানা নিয়ে ছাড়, কিছু আংশিক ভেঙ্গে ফেলা এবং যে ভবনগুলোর কোনো অনুমোদন নেই সেগুলোর বিরুদ্ধে রাজউকের নিয়ম মোতাবেক চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি জউকের অভিযান, অচিরেই বেজমেন্ট স্টোররুম বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহার না করা এবং বেজমেন্টে জেনারেটর, সুইচগিয়ার রুম, সাবস্টেশন, বয়লার রুম কোনোভাবেই রাখা যাবে না। রাজউকের অথরাইজ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
রাজউকের এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তা জানান, নগরীর এই অবস্থার জন্য দায় রাজউককেই নিতে হবে। কারণ, ভবন নির্মাণের সময় রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতেন, তাহলে কোনও ভবনই নকশা ব্যত্যয় করে নির্মাণের সুযোগ থাকতো না। ইতোমধ্যে বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকা-ের পরে মামলায় রাজউকের সাবেক দুইজন চেয়ারম্যানসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলে আসছে। বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে অন্য ভবনগুলোর কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। আসলে কী পরিমাণ ভবন নিয়ম মেনে নির্মাণ করেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। তবে বর্তমানে আগের চেয়ে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। এখন ভূমি ব্যবহারের অনুমোদন ছাড়া ভবনে সার্ভিস লাইন সংযোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১ এপ্রিল মাস থেকে ৩০ কর্মদিবস পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে রাজউকের ২৪টি টিম রাজধানীর প্রায় ১ হাজার ৮৫০ ভবনের তথ্য সংগ্রহ করে। এর মধ্যে কেবল বিকল্প সিঁড়িই নয়, ১৫ শতাংশ বহুতল ভবন ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি। আর বহুতল ভবন নির্মাণে ৩৭ শতাংশ ভবনের যে পরিমাণ উন্মুক্ত স্থান রাখার কথা তা রাখেনি। ৪৭৪টি বহুতল ভবনের মালিকরা অভিযান চলাকালে রাজউককে নকশা দেখাতে পারেনি। এছাড়া সরকারের অন্য সংস্থার ৪৪টি বহুতল ভবনেরও নকশা পায়নি রাজউক। পাশাপাশি ৭০ শতাংশ বহুতল ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। ৩৩ শতাংশ বহুতল ভবনে অগ্নিকা-ের সময় দ্রুত বের হওয়ার জন্য বিকল্প সিঁড়ি নেই। বাকি ৬৭ শতাংশ ভবনে এই সিঁড়ি থাকলেও ব্যবহার উপযোগী মাত্র ৪৩ শতাংশ। আর বাকি ৩৪ শতাংশ ভবনের সিঁড়ি ব্যবহার অনুপযোগী। ইতোপূর্বে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের নির্দেশে বহুতল ভবনের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় রাজউক। সে সময় তথ্য সংগ্রহের জন্য বেশকিছু নির্দেশনাও দিয়েছিলেন মন্ত্রী। সম্পাদনা : আবদুল অদুদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]