• প্রচ্ছদ » নগর মহানগর » সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ায় ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবনের দ্বীপগুলো হারিয়ে যাচ্ছে ভাঙনে, বাসস্থান হারাচ্ছে লাখো মানুষ


সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ায় ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবনের দ্বীপগুলো হারিয়ে যাচ্ছে ভাঙনে, বাসস্থান হারাচ্ছে লাখো মানুষ

আমাদের নতুন সময় : 03/07/2019

নূর মাজিদ : উন্নত দেশগুলোর সৃষ্ট জলবায়ু সংকটে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও জনবহুল দেশগুলো। যদিও, বাংলাদেশের জন্য এই হুমকির কথা গত এক দশক ধরেই বলা হচ্ছে, তবে একমাত্র উপকূলের বাসিন্দারা বিশেষ করে ভারত এবং বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলের অধিবাসীরা প্রতিদিনই এই ক্ষতির তীব্রতা স্বচক্ষে দেখছেন। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে প্রতিবেশী দেশদুটির সুন্দরবন এলাকায় সমুদ্র স্রোতের তীব্রতা কিভাবে বাড়ছে এবং আবাসের ভূমি কিভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ছে তারই জীবন্ত স্বাক্ষী আশিদা। সূত্র : মঙ্গাবে ডটকম।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন অংশে বালাইরা গ্রামে বাড়ি ২৪ বছরের গৃহিণী আশিদার। প্রতিদিন তিনি দেখেন, কিভাবে সুন্দরবনের মাঝে অবস্থিত তার সুন্দর দ্বীপ গ্রামটি ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। আজ থেকে ১৫ বছর আগেও এই গ্রামে নোনা পানি সরাসরি ঢুকতো না, অথচ আজ চাষের জমির নিরাপত্তা বাঁধ ভেঙ্গে গ্রামের গভীরে রোজ রাতেই চলে আসে তীব্র স্রোত। কাদামাখা চাষের জমিকে পানিতে ভরিয়ে, নতুন খোঁড়া পুকুর ভরিয়েভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ চাঁদের আলোয় যেন এক অপার্থিব দৃশ্যের সৃষ্টি করে এই জোয়ার। অনেকের জন্য এটা কাব্যিক উপমার সমতুল্য হলেও, সুন্দরবনের অধিবাসী মাত্রই জোয়ারের পর আসা ভাটার তীব্রতাকে চেনেন। যার কারণে প্রতিদিনই ভাংগছে আর বিলীন হচ্ছে, এমন অসংখ্য দ্বীপ গ্রাম।
এখন মাসে অন্তত দুদিন এমন জোয়ার তীব্র ঢেউসহ আঘাত হানছে। যার কল্যাণে সুন্দরবনের নদীগুলো উপচে পড়ছে স্রোতে। বঙ্গোপসাগরের তীরে সুন্দরবনের ২শ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যে অতি-নিচু পাললিক দ্বীপ সমষ্টি রয়েছে, তাদের ভৌগলিক অস্তিত্বকেই বিনাশ করছে এই সর্বনাশা স্রোত।
বৈশ্বিক উষ্ণতা, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার কারণে আজ শুধু সুন্দরবনের বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলো নয়, তাদের অধিবাসীরাও নিজ দেশের অন্যত্র জলবায়ু শরণার্থী হিসেবে সরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সবচাইতে পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, আজো বিশ্বের জলবায়ু সম্মেলন এবং আলোচনায় সুন্দরবনের এই ক্রমাগত ক্ষয় ও বনচারী মানব গোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে কার্যত কোন আলোচনাই হচ্ছে না।
বালাইরা গ্রামের জ্যেষ্ঠ নারী ৭১ বছরের লুফতি বেগম বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন নদী অনেক দূরে ছিলো। আজ সেই নদী ধীরে ধীরে মসজিদ, চাষের জমিন, কবরস্থান সব গ্রাস করছে। এটা একদিনে হয়নি, আমি নিজের চোখের সামনে গত বিশ বছর ধরে এই সর্বনাশা প্রকৃতি দেখে আসছি। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]