• প্রচ্ছদ » » অ্যাবাউট বিচারবহিভর্‚ত হত্যাকাÐ


অ্যাবাউট বিচারবহিভর্‚ত হত্যাকাÐ

আমাদের নতুন সময় : 04/07/2019

মোজাম্মেল হোসেন তোহা

২০১৩ সালে লিবিয়ার সিরতে আনসার আল-শারিয়া নামে এক বিশেষ বাহিনী আত্মপ্রকাশ করে। প্রথম প্রথম তারা শুধুই মসজিদকেন্দ্রিক দাওয়াতি কার্যক্রম চালাতো। মানুষকে নামাজ পড়ার জন্য, সিগারেট না খাওয়ার জন্য, শরিয়া আইন চালুর পক্ষে অবস্থান নেয়ার জন্য আহŸান জানাতো, লিফলেট বিতরণ করতো। কোনো রকম সহিংসতার সঙ্গে তারা জড়াতো না। ফলে সিরতের লিবিয়ানদের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকে। গাদ্দাফির প্রপাগান্ডা মেশিনের দ্বারা প্রভাবিত লিবিয়ানরা এমনিতে ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোকে খুব একটা পছন্দ করে না। কিন্তু তারপরও স্থানীয় অনেক লিবিয়ান যুবক আনসার শারিয়ায় যোগ দিতে শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যেই আনসার শারিয়া অন্যান্য বাহিনীর লিডারদের গুপ্তহত্যার মাধ্যমে দুর্বল করে নিজেরাই সিরতের সিকিউরিটির দায়িত্ব তুলে নেয়। ট্রাফিক পুলিশের পরিবর্তে আফগান স্টাইলের ড্রেস পরে, একে-৪৭ রাইফেল কাঁধে নিয়ে তারাই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। রাস্তাঘাটে টহল দিতে শুরু করে। শহরে চুরি-ছিনতাই বন্ধ হয়ে আসে। এর আগের অন্যান্য মিলিশিয়াদের তুলনায় অনেক সৎ হওয়ায় আনসারের জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে, পুলিশের অনুপস্থিতিতে মানুষজন এমনকি পারিবারিক সমস্যা মেটানোর জন্যও তাদের কাছে যেতে শুরু করে। কিন্তু ২০১৪ সালের মাঝামাঝি থেকেই তাদের প্রকৃত রূপ প্রকাশিত হতে শুরু করে। কদিন পর পর রাতে তারা একেকজনকে তুলে নিয়ে যেতে থাকে, আর পরদিন সকালে তাদের চোখবাঁধা লাশ পাওয়া যেতে থাকে শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে সাবাতাশের পরিত্যক্ত কিলিং ফিল্ডে। কিন্তু যেহেতু তারা কেবল চিহ্নিত ড্রাগস ব্যবসায়ী, ঘুষখোর বা লুটেরাদেরই হত্যা করতো তাই সিরতের লিবিয়ানরা তখনও তাদের পক্ষেই ছিলো। তাদের লজিক ছিলো, দেশে যেহেতু সরকার নেই, পুলিশ নেই, তাই আনসার শারিয়াই না হয় অপরাধীদের শাস্তি দেক! ক্ষতি কী?
ক্ষতিটা তাদের টের পেতে দেরি হয়নি। ২০১৪ সালের শেষ দিকে এই আনসার শারিয়া শহরের এক মিসরী খ্রিস্টান ডাক্তার পরিবারকে জবাই করে হত্যা করে। বেপর্দা চলাফেরা করা এক মেয়েকে জবাই করে সমুদ্রের পাড়ে লাশ ফেলে রাখে এবং কয়েকমাস পরে যখন আইএসের ছোট একটা কনভয় শহরে প্রবেশ করে, তখন তারা আইএসকে সাদরে আমন্ত্রণ জানায় এবং আইএসের হাতে শহরের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয়। যেই সিরতের জনগণ একসময় আনসারের বিচারবহিভর্‚ত হত্যাকাÐে সমর্থন দিয়েছিলো সেই সিরতেই আনসারের সহায়তায় আইএস ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সিরতের এক সালাফি শেখ আইএসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দেয়ায় সিরতেরই অন্তত ২৩ জন শেখকে আইএস হত্যা করে এবং রাস্তার মাঝখানে তাদের লাশ ঝুলিয়ে রাখে। অনেক পরে আইএসকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর সরকারি বাহিনীর হাতে তাদের হাজার দেড়েক সদস্যের পাশাপাশি বেশ কিছু টপ লিডারও জীবিত গ্রেপ্তার হয়। সরকার বেশ কিছু টিভি সাংবাদিককে তাদের সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগ দেয়। সেরকম এক সাক্ষাৎকারে আনসারের একট টপ লিডারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে সিরতের মানুষ যখন তাদের বিচারবহিভর্‚ত হত্যাকাÐগুলোতে খুশি হয়ে নিশ্চিন্তে দিন কাটাচ্ছিলো, তখনই সেসহ আনসারের তিনজন নেতা তুরস্ক হয়ে বর্ডার পাড়ি দিয়ে সিরিয়াতে গিয়ে আইএসের লিডারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে এসেছিলো। যে বিচারবহিভর্‚ত হত্যাকাÐগুলোকে সিরতের জনগণ সমর্থন করেছিলো, সেগুলো ইনফ্যাক্ট আইএসকেই আরও শক্তিশালী করে তুলেছিলো। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]