জাতীয় সম্মানের জন্য তিমি হত্যা করছে জাপান!

আমাদের নতুন সময় : 04/07/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : তিমির বাণিজ্যিক শিকারের উপর ৩০ বছরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে জাপান। যন্ত্রপাতির আধুনিকীকরণ এবং বহু বছর শিকার না করায় আগের চেয়ে অনেক বেশি তিমি হত্যা করা সম্ভব। গত সোমবার ৩০ বছর পর দেশটির শিকারী জাহাজগুলো আবারও তিমি শিকারে বের হয়। সিএনএন। তবে প্রশ্ন উঠেছে জাপান কি শুধু রসনা মেটাতে এই শিকার আবারও চালু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঐতিহ্যবাহী শিকারকে জাপানিরা শ্রদ্ধার চোখে দেখে। তাই জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় সম্মানের অংশ হিসেবে আবারও তিমি শিকার করছে দেশটি। এর পেছনে শুধু তিমির নরম সুস্বাদু মাংস নয়, আছে ভূ-রাজনৈতিক কারণও।
জাপানের এবারের শিকারের প্রথম মিশনটি ছিলো সাফল্যে ভরা। সকালে রওনা দিয়ে প্রথম জাহাজটি যখন সন্ধ্যায় ফিরে আসে এতে ছিলো বেশ বড় আকারের দুটি মিঙ্ক তিমি। তাদের বিশাল, চর্বিযুক্ত লেজগুলো জাহাজের বাইরে ঝুলছিলো। জাপানের ছোট আকারের তিমি শিকার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ইউশিফুমি কাই বলে, ‘এই শিকার ধারণার চেয়েও অনেক বড় ছিলো। আমি খুবই খুশি।’ শিকারের আগে ইউশিফুমি কাই শিকারি ও নাবিকদের উদ্দেশ্য করে দেয়া আবেগময় ভাষণে জাপানের তিমি শিকারের ‘স্বর্ণালী’ অতীত তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে, কিভাবে পশ্চিমারা ‘অন্যায়ভাবে’ জাপানীদের তিমির সুস্বাদু মাংস খেতে বঞ্চিত করে।
১৯৬৮ সালে আন্তর্জাতিক তিমি কমিশন তিমি শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। জাপানও এর সদস্য ছিলো। কিন্তু জাপানে তিমি শিকার বন্ধ থাকেনি। ‘বৈজ্ঞানিক গবেষণার’ নামে তিমি শিকার হতো স্বল্প পরিসরে। ২০১৮ সালে জাপান নিজেদের তিমি কমিশন থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। এর অংশ হিসেবে তারা আবারও বাণিজ্যিক তিমি শিকারের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে মজার বিষয় হচ্ছে নিষেধাজ্ঞার কারণে জাপানে তিমির মাংসের জনপ্রিয়তা কমে গেছে। তবুও জাপান এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো। গবেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে মূলত তীব্র জাতীয়তাবাদ।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]