বাংলা ও বাঙলা

আমাদের নতুন সময় : 04/07/2019

আবুল কাইয়ুম

বঙ্গ>বাঙ্গালা>বাঙ্গলা>বাঙ্লা>বাংলা> বাঙলা এভাবেই সংস্কৃত থেকে ‘বঙ্গ’ শব্দটি ক্রমান্বয়ে পরিবর্তিত হয়ে ‘বাংলা’ ও ‘বাঙলা’ রূপ পরিগ্রহ করেছে। আঠারো শতাব্দীতে প্রথমে বাঙ্গালা এবং পরে বাঙ্গলা শব্দের উদ্ভব। রবীন্দ্রনাথ ‘বাঙ্গলা’ না লিখে প্রথম ‘বাঙ্লা’ লেখেন এবং পরে ‘বাংলা’। এই ‘বাংলা’ শব্দটিই প্রায় একশো বছর ধরে চলে আসছে, এখনো অধিকাংশ মানুষ ‘বাংলা’ই লিখে যাচ্ছে। সাম্প্রতিককালে অনেকে আবার শব্দটির লেখার ধরন পাল্টে ‘বাঙলা’ লিখছে।
উল্লেখ্য, ভাষাবিদদের মতে অনুস্বার কোনো বর্ণ নয়, এটি আ-কার, ই-কার, ঈ-কার এগুলোর মতোই চিহ্ন। পক্ষান্তরে, ঙ একটি স্বাধীন বর্ণ, যার সঙ্গে স্বরচিহ্ন (আ-কার, ই-কার, ঈ-কার ইত্যাদি) যুক্ত করা যায়। আবার এটি ঘোষ (াড়রপবফ) পশ্চাত্তালুজাত (াবষধৎ) নাসিক্য (হধংধষ) ব্যঞ্জন ধ্বনি (পড়হংড়হধহঃ ংড়ঁহফ) হওয়ায় এর উচ্চারণ অনুস্বারের মতোই। সেদিক দিয়ে অনুস্বার স্থলে ঙ বর্ণটি ব্যবহার করা বিধেয়। এ কারণেই ‘বাঙলা’ শব্দটি ‘বাংলা’র বিকল্প হিসেবে লেখা চালু হয়েছে। বাংলা একাডেমির অভিধানগুলোতেও ‘বাংলা’ ও ‘বাঙলা’ দুটো শব্দই আছে। এটি দেখেও অনেকে ‘বাঙলা’ লিখছে।
‘বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম’ পুস্তিকার ২.১০ ক্রমিক অনুযায়ী তৎসম শব্দ ছাড়া যেকোনো শ্রেণির শব্দে (তদ্ভব, দেশি, বিদেশি ও মিশ্র শব্দ) অনুস্বার স্থলে ঙ বর্ণ ব্যবহার করা যাবে। তবে শব্দে অব্যয় বা বিভক্তি যুক্ত হলে কিংবা পদের মধ্যে বা শেষে স্বরচিহ্ন থাকলে শুধু ঙ লেখার নির্দেশ রয়েছে (যেমন বাঙালি, রঙিন, রঙের ইত্যাদি)। কিন্তু ‘বাংলা’ ও ‘বাংলাদেশ’ শব্দ… দুটি বাংলাদেশের সংবিধানে থাকায় অনুস্বার দিয়ে লিখতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ আমাদের রাষ্ট্রের নাম বলে এই শব্দটি সর্বদা অপিরিবর্তিত থাকবে, এখানে কোনো নিয়ম বা ব্যাকরণের সূত্র খাটে না। কিন্তু ‘বাঙলা’ শব্দটি ব্যবহারে কোনো বিধিসম্মত বাধ্যতা থাকলে বাংলা একাডেমির অভিধানে তা লিপিবদ্ধ করা হতো না। ‘বাংলা’ ও ‘বাঙলা’ দুটোই প্রচলিত। তবে সাম্প্রতিক শব্দ বলে আমার পক্ষপাত ‘বাঙলা’র দিকে। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]