• প্রচ্ছদ » » যারা অফিসে বসে গুটিবাজি করেন, আপনারা মন দিয়ে গুটিবাজি করে যান, দিন শেষে ওই গুটিবাজিই আপনার নিয়তি


যারা অফিসে বসে গুটিবাজি করেন, আপনারা মন দিয়ে গুটিবাজি করে যান, দিন শেষে ওই গুটিবাজিই আপনার নিয়তি

আমাদের নতুন সময় : 04/07/2019

সাদিয়া নাসরিন

আমি জীবনে কোনোদিন কিছু প্ল্যান করে করি না। ইনফ্যাক্ট প্ল্যানিং জিনিসটাই আমার ধাতে নেই। ক্যারিয়ার নিয়েও কোনো প্ল্যান ছিলো না। তবে ক্যারিয়ারের একটা ভিশন ছিলো। তাহলো চল্লিশ বছরের পর কোনোভাবেই আমি ‘চাকরি’ করবো না, করলেও লিড পজিশনে করবো। তো আমার সেই ভিশনের প্রাথমিক ধাপ আমি অ্যাচিভ করেছি সময়ের আগেই। গ্রæপ ডেপেলপমেন্টের কান্ট্রি ম্যানেজারের চেয়ারে আমি যখন বসি তখন আমার বয়স ত্রিশ বছর নয় মাস। নয় বছর সারপ্লাস। এই নয়টা বছর আমি প্রচÐ ফোকাসড এবং ডেডিকেটেডলি কাজে লাগিয়েছি। সংসার, সন্তান, প্রতিষ্ঠান এবং লেখালেখিকে একসঙ্গে ডেভেলপ করার চেষ্টা করেছি। পেশাগত ক্যারিয়ারের সঙ্গে লেখালেখির ক্যারিয়ারের প্রতি মনোযোগ দিয়েছি। সবটাই যে খুব প্ল্যান করে করেছি তা নয়। বরং কাজের জায়গায় নিজের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা এনজয় করেছি, যখন যা করেছি আনন্দ নিয়ে করেছি। যাই করি না কেন, নিজের সেরাটা করার চেষ্টা করেছি। ক্যারিয়ার বা পজিশন নিয়ে ক্ষুধাটা বা অতৃপ্তিটাকে মরতে দিইনি কখনোই-ই। যেদিন এই ক্ষুধাটা মরে যাবে, আমি জানি সেদিনই আমার ক্যারিয়ার শেষ। আমার প্রথম চাকরি ছিলো একশন এইডের একটা প্রজেক্টে। আমি আমার পার্টনার অর্গানাইজেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলাম এইচআইভি প্রতিরোধে কমিউনিটির সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক একটি প্রজেক্ট মাঠ পর্যায়ে ইমপ্লিমেন্ট করার। আমি এই কাজটি এবাদতের মতো করে করতাম। বিভিন্ন ইভেন্ট শেষ করে ফিন্যান্সের কাজটাও খুব গুছিয়ে করার চেষ্টা করতাম। যেটা পারতাম না সেটা একাউন্টস থেকে শিখে নিতাম। তো আমার যে সহকারী ছিলেন তিনি খুব বিরক্ত ছিলেন এসবের জন্য। সে মনে করতো ছোট দুটা বাচ্চা নিয়ে আমি বেশি স্ট্রেস নিই, তাকেও দিই, যা আমার কাজ না তাও আমি করি, ইত্যাদি। সে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে দল পাকিয়ে হাসাহাসি করতো। আমার এসব বোকামির সুযোগ নাকি অফিস নেয়। আমি মনে মনে হাসতাম। কারণ আমি জানতাম এসব বোকামিই একদিন আমার সঙ্গে থাকবে। যারা তখন খুব চালাক ছিলো তারা কিন্তু এখনো চালাক হয়ে ওই অবস্থাতেই আছেন। কিন্তু আমি সেদিন বোকামি করে প্রোগ্রাম, এডমিন আর একাউন্টসের কাজ সবটা করতাম বলেই আমাকে নিজের প্রতিষ্ঠান চালাতে কোনো একাউন্টেন্ট আগ্রার তাজমহল দেখাতে পারেনি, অডিট, প্রকিউরমেন্ট এসব নিয়ে নাকানিচুবানি খেতে হয়নি।
আমার পনেরো বছরের কর্মজীবনে আমি একটা বিষয়ই এবাদতের মতো বিশ্বাস করেছি, একজন কর্মী আসলে তার তার অফিস/কোম্পানি/মালিককে কিছুই দেয় না, দিতে পারে না। একজন কর্মী যতোটুকু তার কর্মস্থলে দেয় তার সবটুকুই কিন্তু তার অভিজ্ঞতা আর দক্ষতার ঘরে জমা হয়। আর যতোটুকু ফাঁকিবাজি করে, গুটিবাজি করে, তাও আখেরে তার নিজের ভাঁড়ারকেই ফুটো করে। বেশিরভাগ মানুষই তো বছরের পর বছর চাকরি করে যায়। তারা বছরের পর বছর টিফিন কেরিয়ার হাতে নিয়ে অফিসে আসে, গুটিবাজি করে আর নিজের কতোটুকু রক্ত কোম্পানির জন্য পানি করলো সেই হিসাব করতে থাকে। এই ফাঁকে কিন্তু অল্প কিছু মানুষ চুপচাপ নিজের ক্যারিয়ার করে ফেলে। তারা যেখানেই যায় ডেডিকেডেটলি নিজের কাজ করে যায়। এই বোকা মানুষগুলো জানে, কাজ করলেই কাজ শেখা যায়। আজকে আমি যখন কাউকে বলতে শুনি, আমি আছি বলে এই প্রতিষ্ঠান টিকে আছে বা আমি আমার রক্ত পানি করে এই প্রতিষ্ঠানকে এখানে নিয়ে এসেছি, তখন আমার হাসি আসে। গাধাগুলো জানেই না যে, তাদের প্রতিষ্ঠান বেতন, সুযোগ-সুবিধা সব দিয়ে পোষেই রক্ত পানি করার জন্য, রক্তে চর্বি বাড়ানোর জন্য নয়। সুতরাং যারা অফিসে বসে গুটিবাজি করেন তাদের জন্য শুভ কামনা। আপনারা মন দিয়ে গুটিবাজি করে যান। দিন শেষে ওই গুটিবাজিই আপনার নিয়তি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]