শুভ জন্মদিন জঁ ককতো

আমাদের নতুন সময় : 04/07/2019

বাবলু ভট্টাচার্য : চলচ্চিত্র কখনোই তার কাছে একমাত্র চর্চার বিষয় ছিলো না। কবি, উপন্যাসিক, নাট্যকার, সমালোচক এমনকি চিত্রশিল্পী হিসেবে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। তার পঁয়তাল্লিশ বছরের কর্মবহুল জীবনে তিনি লিখেছেন অজ¯্র কবিতা। অনেকগুলো উপন্যাস। দশ-বারোটি নাটক এবং আরও নানা ধরনের প্রবন্ধ ও সমালোচনা। তিনি চলচ্চিত্রের কবি জঁ ককতো। ককতো প্রত্যক্ষভাবে চলচ্চিত্র সৃষ্টির কাজে আত্মনিয়োগ করেন ১৯৩০ সালে। তার নিজের লেখা কাহিনি চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হয় এই ছবি ‘দ্য ব্লাড অব এ পোয়েট’। ককতোর এই প্রথম ছবিটি ছিলো একটি রূপকথাবৃত কল্প কাহিনি। ছবিটিতে ঘটনা বলতে বিশেষ কিছু নেই। যা আছে তাহলো স্রষ্টার মানসিক কিছু বিমূর্ত চিন্তা-ভাবনা। এ সময় থেকেই ইউরোপীয় চলচ্চিত্রে, বিশেষ করে ফরাসি চিত্রে, ‘সুরারিয়ালিজম’ মতবাদের প্রভাব দেখা দিতে থাকে। পরবর্তীকালেও ককতোর কিছু কিছু ছবিতে সুরারিয়ালিজমের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নটি বারে বারে উঠে এসেছে।

১৯৪৬ সালে জঁ ককতো পরিচালিত দ্বিতীয় ছবি ‘দ্য বিউটি এন্ড দ্য বিস্ট’। গল্প বলার স্টাইলের দিক থেকে ছবিটি ছিলো উল্লেখযোগ্য। দানবের দুর্গটি রূপকথার হলেও এটি তৈরি করা হয়েছিলো একেবারে বাস্তবের অনুকরণে। ককতো একে বলেছিলেন ‘রিয়ালিজম অব দ্য আনরিয়াল’। ‘লে পেরাঁ তেরিবল’ (১৯৪৮) চলচ্চিত্র হিসেবে ককতোর সব চাইতে সার্থক সৃষ্টি। এটি ছিলো সব রকম অর্থেই একটি নাট্যধর্মী চলচ্চিত্র। প্রধান তিনটি চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক আচরণের জটিলতায় ছিলো ছবির মুখ্য বিষয়।
জঁ ককতো পরিচালিত অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছবি ‘অরফি’ (১৯৫০) যার মধ্য দিয়ে জীবন-মৃত্যু, কবির ব্যক্তিত্ব এবং কবির দৃষ্টিতে জগত ইত্যাদি বিষয়ে তার স্বকীয় ভাবনা-চিন্তাকে তিনি প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। বাস্তব জীবন ও মৃত্যুর পরপারের কাল্পনিক জীবনের মধ্যে সীমারেখাটি এই ছবিতে তুলে দেয়া হয়েছিলো। আত্মগত (সাবজেকটিভ) কবি-কল্পনা ও মননের এই ছবিটির প্রধান চরিত্রের মধ্যে কবি জঁ ককতো সম্পূর্ণভাবে নিজেকে আরোপিত করেছিলেন। ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘আরফি’ ছবিটি ‘গ্রান্ড প্রিক্স’ পুরস্কারে ভূষিত হয়।
সিনেমা নামের মাধ্যমটি যে পরিচালক তথা ¯্রষ্টার যেকোনো স্তরের মানসিক অনুভূতিকেই প্রকাশ করতে সক্ষম, তা সে অলিক মায়ার কল্পনা, বা স্বপ্ন রূপকথা অথবা অতিকথার (মিথ) কল্পনা যাই হোক না কেন, তা ককতো পরিচালিত ছয়টি ছবি দেখলেই উপলব্ধি করা যায়। চলচ্চিত্র শিল্পের তত্ত্ব ও রূপরেখা নিয়েও জঁ ককতো লিখে গেছেন বিস্তর। চলচ্চিত্রের প্রয়োগ নৈপুণ্যের দিক থেকে জঁ ককতোর বিশেষ অবদানকে কোনোমতেই অস্বীকার করা যাবে না। জঁ ককতো ১৮৮৯ সালের ৪ জুলাই প্যারিসে জন্মগ্রহণ করেন।
লেখক : চলচ্চিত্র গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]