• প্রচ্ছদ » টুকরো খবর » অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বললেন, সুশাসনের অভাবেই দুর্ঘটনায় প্রতি ঘণ্টায় ১২ জন নিহত হচ্ছে


অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বললেন, সুশাসনের অভাবেই দুর্ঘটনায় প্রতি ঘণ্টায় ১২ জন নিহত হচ্ছে

আমাদের নতুন সময় : 05/07/2019

আমিরুল ইসলাম : দেশে বিভিন্ন খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হলেও সামাজিক নিরাপত্তা যেন দিন দিন কমছে। ২০১৬ সালের সর্বশেষ জাতীয় জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দুর্ঘটনা ও আঘাতের কারণে দেশে প্রতি ঘণ্টায় ১২ জন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আর প্রতি ঘণ্টায় আহত হচ্ছে ২ হাজার ২৮৭ জন। মারাত্মক আহত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রতি ঘণ্টায় প্রতিবন্ধী হয়ে পড়ছে ২৮ জন। সামাজিক নিরাপত্তা হ্রাস পাওয়ার কারণ কি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন জানতে চাইলে স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছেন, সুশাসনের অভাবেই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রতি ঘণ্টায় ১২ জন নিহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও সহিংসতার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে। ইদানীং অনেক ধরনের সামাজিক ঘটনা ঘটছে যেগুলো অনাকাক্সিক্ষত। জনসংখ্যা দেশে অনেক বেড়ে গেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধিও দেশে এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধির একটি কারণ। আগে এক হাজার লোক ছিলো যে জায়গায় সেখানে এখন দুই হাজার লোক বাস করে যার ফলে ঘটনা ও দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়তেই আছে। দেশে আইনের শাসনের অভাব রয়েছে। দুর্ঘটনা কমানোর জন্য আইনের শাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। আইনের শাসনও জনসংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। জনসংখ্যা যে হারে বেড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সে হারে বাড়েনি। জনসংখ্যা সাড়ে সাত কোটি থেকে ১৭ কোটি হয়েছে। জনবলের দিক থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ততোটা শক্তিশালী হতে পারেনি। সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংখ্যায় বাড়লেও আনুপাতিক হারে বাড়েনি। দেশে নানা রকম অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং আমাদের দ্রুত উন্নয়ন আকাক্সক্ষার কারণে অনেকে ব্যক্তিগতভাবে বা সামাজিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারছে না। অনেকেরই উচ্চাকাক্সক্ষা বেশি হয়ে যাওয়ার কারণে আইন মানার প্রবণতা কমে গেছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ ও কর্মহীন বেকারদের মধ্যে অস্থিরতা বেড়ে গেছে। শিক্ষার অভাব ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে এমনটা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ আনুপাতিক হারে বাড়েনি বলে সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে। সমাজে সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হচ্ছে বলে নৈতিক অবক্ষয় আরও দ্রুত হচ্ছে অনলাইনের যুগে। এখন মিথ্যা খবর ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে যার ফলে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হচ্ছে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণটা সঠিকভাবে হয় না। শিক্ষার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। নৈতিক শিক্ষা দেয়ার বিষয়টি জোরদার করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ও প্রশাসনের দায়িত্বই সবচেয়ে বেশি, তবে জনগণকেও বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]