• প্রচ্ছদ » » কবিতা ও প্রেমিকা দুইই ভীষণ স্পর্শকাতর ও অভিমানী!


কবিতা ও প্রেমিকা দুইই ভীষণ স্পর্শকাতর ও অভিমানী!

আমাদের নতুন সময় : 05/07/2019

আবেদিন কাদের

আমাদের কবি লেখকদের মধ্যে যারা ষাটের দশকের, তাদের বেশিরভাগ বাংলা বিভাগ থেকে এসেছেন। কিন্তু ইংরেজিটা ভালো জানতেন। যেমন কবি রফিক আজাদ, কবি আব্দুল মান্নান সৈয়দ, সাযযাদ কাদির ও আরও দ-ুচারজন। এরা তরুণদের প্রতি ছিলেন ভীষণ স্নেহপরায়ণ। সেসময়ে তরুণদের মধ্যে যারা ইংরেজির ছাত্র তাদের মনে হয় একটু বেশি স্নেহ করতেন। এর কারণ মনে হয় বিদেশি সাহিত্য নিয়ে তারা আলোচনা করতে ভালোবাসতেন তরুণদের সঙ্গে। ইংরেজির ছাত্রদের মধ্যে একটা অহেতুক উন্নাসিকতা থাকতো, সাহিত্যবোধ তেমন থাকতো না দু-চারজন ছাড়া, যেমন ওয়াসি ভাই, বা কবি তপন জ্যোতি বড়ুয়া ও আরও দু-একজন। তবে তরুণ ইংরেজির ছাত্ররা বিদেশি বই পড়ার চেষ্টা করতেন, কিন্তু কতোটা বুঝতেন জানি না। আমার বাংলা বিভাগের বন্ধুরাই অনেক বেশি ক্ষুরধার সাহিত্যবোধসম্পন্ন ছিলেন, যেমন আহমদ বশীর, জাহিদ হায়দার, মাসুদুজ্জামান, আবু সাইদ জুবেরী, দিদারুল আলম বা স্বপন দত্ত, ফিরোজ সারোয়ার, মাহবুব হাসান ও আরও কয়েকজন। সেদিক থেকে একজন মুহাম্মদ যুবায়ের বা এ রকম এক আধজন ছাড়া কারো নাম মনে করা যায় না যাদের সাহিত্যবোধ প্রখর ছিলো। ইংরেজির ছাত্রদের সঙ্গে অধিকাংশ সময়েই তাদের তীব্র অহমিকা আর কিছুটা মূর্খতা-মিশ্রিত দম্ভের জন্য কথা বলা যেতো না। কিন্তু মান্নান ভাই বা রফিক ভাই সেসব ক্ষমা করেই আমার ইংরেজির বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন। রফিক ভাইয়ের আড্ডা তো ছিলো ঢাকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় সাহিত্য-আড্ডা, তবে মান্নান ভাইয়ের সঙ্গে আড্ডাও ছিলো দারুণ। মান্নান ভাইয়ের পরিবার একটু ভিন্ন রকম ছিলো বলে আমরা গেলে মান্নান ভাই বাসা থেকে বেরিয়ে গ্রীন রোডের ‘নিমন্ত্রণ’ রেস্তোরাঁয় বসতেন। ওখানে গিয়েই বালুসা আর চায়ের অর্ডার দিতেন। মিষ্টি মনে হয় মান্নান ভাইয়ের খুব প্রিয় ছিলো। সত্তরের দশকের শেষদিকে অথবা আশির গোড়া থেকে আমার ঢাকায় থাকা অবধি এভাবেই আড্ডা হতো মান্নান ভাইয়ের সঙ্গে। এছাড়া নিউমার্কেটে মান্নান ভাই নলেজ হোমের খান মজলিশ সাহেবের সঙ্গে, অথবা নওরোজের কাদির ভাইয়ের সঙ্গে বসতেন, ওখানেই আমাদের আড্ডা হতো। শেষের দিকে, মানে নব্বই থেকে তেরানব্বই পর্যন্ত হতো কবি আবিদ আজাদের ‘শিল্পতরু’ অফিসে। এটা কাঁঠালবাগানের ঢালে ছিলো বলে মান্নান ভাইয়ের বাড়ি ও গ্রীন রোডে আমার আস্তানা থেকে খুব কাছে ছিলো। এমনি এক আড্ডায়, আশির গোড়ার দিকে আমি আর মান্নান ভাই ‘নিমন্ত্রণে’ বসেছি। জিজ্ঞেস করলাম কী লিখছেন। মান্নান ভাই আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘জানেন আবেদীন, কবিতা ভীষণ অভিমানী, প্রেমিকাদের মতো, একবার গেলে আর ফিরে আসতে চায় না। বেশ কয়েকদিন ধরে খুব চেষ্টা করছি একটি কবিতা নিয়ে, কিন্তু কিছুতেই পারছি না। প্রেমিকাদের মতোই কবিতাকে অবহেলা করতে নেই, ভীষণ স্পর্শকাতর, অভিমানী।’ আমি মন দিয়ে তার কথা শুনলাম, পরে বললাম, ‘ভাই আমার মনে হয় উল্টোটাও সত্যি, প্রেমিকারাও ভীষণ স্পর্শকাতর, রহস্যময়, সংবেদনশীল, অন্তর্গত সংরাগ দ্বারা তাড়িত ও বেশ ভৎধমরষব, কবিতার মতোই ।’ শুনেই মান্নান ভাই তার বিখ্যাত প্রাণখোলা হাসি দিয়ে বললেন, ‘বেড়ে বলেছেন।’ আজ কেন জানি মান্নান ভাইকে খুব মিস করছি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]