ফুয়াদের ফুল, আমারও ফুল!

আমাদের নতুন সময় : 05/07/2019

ইকবাল আনোয়ার

ফুয়াদের ভালো লাগে ফুল। তার গাঁয়ে বুনো ফুল বেশি। আকন্দ ফুল, ভেরন ফুল সে চেনে। রজনীগন্ধা তার আজও অচেনা। একদম গÐগ্রাম থেকে শহরে আসা তার হয়ই না। তাদের বাড়ির পাশ দিয়ে টেম্পু যায়। দূর থেকে বাস দেখে। বারো বছর তার। পিতা বিদেশে কর্ম করে। টাকার অভাবে এবং ছুটি না পাওয়ার কারণে চার বছর দেশে আসেন না তিনি। স্কুল থেকে কক্সবাজার গেছে তার বন্ধুরা। স্কুল থেকে এক হাজার টাকা চেয়েছিলো, মাকে খুব অনুনয় করে ফুয়াদ, মা বলেছে, পুতরে, তোর বাপে টাকা পাঠায় না আটমাস, জমা টেহা শেষ, টাইন্নাটুইন্না এক হাজার দিতাম পারাম, তো এ টেহাডার লগে কিছু আরো খাডাইতে পারলে একটা বাচ্চা ছাগল কিনন যায়। ফুয়াদ মেনে নেয়। এবারই জীবনে প্রথম তার বিশাল আনন্দ ভ্রমণ। মায়ে-পুতে ঈদের আনন্দ করতে লালমাই ডাইনো পার্কে (তাদের ভাষায়) বেড়াতে গিয়েছিলো। বড় আনন্দ হয়েছে তার। সেখানে বিভিন্ন দোলনাপাতি দেখেছে। অনেক রকম ফুল গাছ, ডাইনোসারের মূর্তি ( তার ভাষায়) দেখেছে সে। ফুয়াদ চলে গেলে তার লম্বাটে মুখটা, যেখানে সুন্দর আগামীর প্রত্যয় দেখেছি, চোখে দেখেছি স্বপ্ন আর মায়ে-পুতে বন্ধনের মায়া, তা এঁকেছি আমি আনাড়ী। কৌশোরে আমি ঢাকা গেছি মনে পড়ে অনেক পরে। হঠাৎ মতিঝিলের বড় বড় দালান দেখে চোখ আমার ছানাবড়া, প্রথম লিফটে উঠে ভয় ধরে যায় আমার বুকে। রজনীগন্ধা চিনেছি অতি শৈশবে। ভোরে চুরি করে ছিঁড়ে আনি যে রজনীগন্ধাটা, বেশ বড়, সাদা পাঁপড়ি তার সুঠামো, তার শরীরে ছিলো শিশিরের বড় বড় ফোটা। চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে লাফিয়ে দেয়াল টপকাই, আর কোনমতে ধরা না পড়ে ফুল নিয়ে ঘরে ফিরে, খয়ারী মলাটের ছোট্ট পকেট ডায়েরির প্রথম পাতায় লিখি, আজ ফুল চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়া। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]