• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়নে চীনের কাছ থেকে ৩৪ হাজার ৫শ কোটি টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ


বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়নে চীনের কাছ থেকে ৩৪ হাজার ৫শ কোটি টাকা পাচ্ছে বাংলাদেশ

আমাদের নতুন সময় : 05/07/2019

শাহীন চৌধুরী : দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাপক উন্নতি হলেও সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারনে কাক্সিক্ষত সুবিধা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। কিন্তু এই খাতে এবার সহযোগিতা করতে যাচ্ছে চীন। বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা বাড়াতে চীনের সঙ্গে পাঁচটি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এজন্য প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাবে ডিপিডিসি ও পিজিসিবি। ঢাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খ্য শিয়াং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ওই পাঁচটি চুক্তির পাশাপাশি তিনটি সমঝোতা স্মারক সই এবং একটি লেটার অব এক্সচেঞ্জ বিনিময় হয়। এর মধ্যে চারটি চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) ১৪০ কোটি ডলার পাবে। একটি চুক্তির আওতায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) পাবে ২৮০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এই দুটি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশী মুদ্রায় পাওয়া যাবে প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকা।
সূত্রমতে, উল্লিখিত দুটি চুক্তি ছাড়াও অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার পাবে বলে জানা গেছে। চীনের সাথে বিদ্যুৎ খাত সম্পর্কিত যে পাঁচটি চুক্তি হয়েছে সেগুলো হচ্ছেÑডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করতে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করতে গভার্নমেন্ট কনসেশনাল লোন এগ্রিমেন্ট, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করতে প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট লোন এগ্রিমেন্ট, পিজিসিবি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎ গ্রিড নেটওয়ার্ক জোরদার করতে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট এবং বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে অর্থনীতি ও কারিগরি সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি।

বিদ্যুৎ খাতের এই চুক্তিগুলোকে যুগান্তকারি আখ্যা দিয়ে ডিপিডিসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান এ প্রতিবেদককে বলেন, এই সময়ের জন্য আমরা ৪ বছর যাবৎ অপেক্ষা করছি। প্রকল্পগুলোর আওতায় ১৩২ কেভি সাব স্টেশন, ৩৩/১১ কেভি সাব স্টেশন এবং পুরাতন ৩৩/১১ কেভি সাব স্টেশন মিলিয়ে মোট ৫২টি সাব স্টেশন নির্মিত হবে। তিনি বলেন, শুধু তাই নয়, ১৩২ কেভি বিতরণ লাইন প্রায় ৬শ কিলোমিটার এবং ৩৩ কেভি বিতরণ লাইন প্রায় ৭শ কিলোমিটার নির্মিত হবে।
প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় পুরো ধানমন্ডি এলাকা আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবেলের আওতায় নিয়ে আসা হবে যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিলো। তিনি বলেন, সাব স্টেশনে নির্মাণের পর অবশিষ্ট যেসব জায়গা থাকবে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে তা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হবে।

এদিকে পিজিসিবি চীনের কাছ থেকে পাওয়া ঋণে সঞ্চালন লাইনের সম্প্রসারণসহ ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। উল্লেখিত পাঁচ চুক্তি ছাড়াও ইনভেস্টমেন্ট কোঅপারেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা এবং ইয়ালু ঝাংবো ও ব্রহ্মপুত্র নদীর তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে। সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পর্যটন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে আরও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চীন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ১১টার দিকে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি খ্য শিয়াং তাকে স্বাগত জানান। অভ্যর্থনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত ভোজ সভায়ও অংশ নেন। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]