ভারতে তীব্র তাপদাহে সৃষ্টি হতে পারে মানবিক সংকট, সিএনএনের প্রতিবেদন

আমাদের নতুন সময় : 05/07/2019

লিহান লিমা : এই গ্রীষ্মে ভারতে তীব্র তাপদাহের কারণে নিহত হয়েছেন ১০০জনেরও বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, আসছে বছরগুলোতে তাপমাত্রা আরো বাড়বে, যা কি-না সম্ভাব্য মানবিক সংকটের সৃষ্টি করতে পারে। ভারতে সাধারণত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত তাপদাহ থাকে, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সময় আরো দীর্ঘ হচ্ছে। প্রতিবেদন মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনএর।
ইন্টারগর্ভমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট ক্লাইসিস (আইপিসিসি) জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেশগুলোর তালিকায় অন্যতম ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বিশ্ব কার্বন নিঃসরণ কমাতে সফল হয় এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় রাখাও যায়, তব্ওু ভারতের কিছু কিছু অঞ্চলে তীব্র তাপদাহ থাকবে, যা কিনা মানুষের টিকে থাকার জন্য সহনীয় তাপমাত্রা নয়। এই সপ্তাহে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে সাড়ে চার ডিগ্রী বাড়ার পর ভারত সরকার তাপদাহের ঘোষণা দেয়। গত দুই দিন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে সাড়ে ৬ ডিগ্রী অতিক্রম করলে এটি তীব্র তাপদাহে পরিণত হয়। দিল্লিতে বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা ছিলো ৪৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। রাজস্থানে তাপমাত্রা ছিলো ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বিহারে গরমের কারণে স্কুল, কলেজ ও কোচিং সেন্টার পাঁচ দিন বন্ধ রাখা হয়। ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রীর ওপরে ছিলো। তাপদাহের কারণে ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়া হলেও এটি বাহিরে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা লাখো মানুষের জন্য অবাস্তবিক। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ট্রফিক্যাল মেট্রোরলজি সুম্মিতা জোসেফ বলেন, ‘ভবিষ্যতে ভারতের প্রতিটি অঞ্চলেই এই তাপদাহ আঘাত হানবে।’
তীব্র তাপদাহের ফলে দক্ষিণ এশিয়া ভবিষ্যতে বসবাসের উপযোগী থাকবে কি না এমন প্রশ্নে এমআইটির গবেষকরা বলেন, পূর্বসমীক্ষামতে এই শতাব্দীর শেষে বিশ্বব্যাপী ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ৪.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে। আশাবাদী পূর্বসমীক্ষায় বলা হয়েছে, গড় তাপমাত্রা ২.২৫ ডিগ্রী বাড়বে। তাপমাত্রার এই দুই পরিমাণই প্যারিস চুক্তির বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২১০০ সালের মধ্যে ২ ডিগ্রী সেলাসিয়াস নিচে রাখার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। গবেষকরা বলছেন, ২১০০ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় তাপমাত্রা মানুষের টিকে থাকার অনুপযোগী হয়ে উঠবে না। তবে ভারতের উত্তরপূর্বে অবস্থিত বাংলাদেশ সীমান্তের ছোট নাগপুর, গঙ্গা নদীর তীর, ভারতের পূর্বাঞ্চল, পাকিস্তানের ইন্দুজ উপত্যকা ও শ্রীলংকার পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা মানুষের টিকে থাকার মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উন সুন বলেন, ‘ভারতের কিছু কিছু এলাকায় জীবন-যাপন অসম্ভব হয়ে পড়বে। বিশেষ করে কৃষি ও মৎসখাতের ওপর নির্ভরশীল দরিদ্র জনগোষ্ঠি হুমকিতে পড়বে।’ জলবায়ু পরিবর্তনের পদক্ষেপ হিসেবে ভারত ইতোমধ্যে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারসহ অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তীব্র তাপদাহ ও ভবিষ্যত বৈশ্বিক উষ্ণতা দেশটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যা কোটি কোটি মানুষের টিকে থাকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]