মধ্যরাতে এ কিসের চিৎকার!

আমাদের নতুন সময় : 05/07/2019

সালাহ্ উদ্দীন পল্লব

: হেলু, মামু আছেন নিকি?
: হু, জলদি বলো, মিটিংয়ে ঢুকবো।
: আরে! আমার দুকানের পইশ্চিমের উল্টা পাশে একটা বিন্ডিল হইতেছে দেখছেন?
: পশ্চিমের উল্টা দিক মানে তো পূর্ব, তাই না? আর ওই ছয়তলা কাজ হওয়া নতুন বিল্ডিংয়ের কথা বলছো তো?
: হ, হ! পুরবো দিক নামডা ভুইল্যা গেছিলাম, আর হ, ওই বিল্ডিলের কতাই কইতাছি।
: বুঝলাম, কিন্তু ব্যাপার কি? তাড়াতাড়ি বলো…
: ওই বিল্ডিলের একজন ফস্যা লম্বা মুতন একটা কেরটেকার আছে না? গত মাসে আমার দুকানে রাইত এগারোটার সুমায় আইসা আমার থিকা একটা ছুড়ি, একটা ম্যাচ বাক্স, এক গজ তাবিজের কালা সুতা আর একটা বলাকা ব্লেড লইয়া গেলো!
: হু, এতে সমস্যা কি?
: আরে মিয়া কতা হুনেন! আমার ইট্টু সন্দেহ লাগলো। আমি ওই বিন্ডিলের তলে গিয়া খাড়াইতেই শুনি খালি চিৎকার দিয়া কান্দনের আওয়াজ আর কেমন একটা মুটা গলার ধমক! অনেক্ষণ ধইরা এমুন হউয়ার পরে সব চুপ হইলো!
: তারপর!
: পরের দিন ব্যাডা আইসা আমার ছুড়ি, এক্কেরে নতুন ম্যাচ বাক্স, তাবিজের একগজ সুতা, আর বলাকা বিলেড ফেরত দিয়া গেলো! কিন্তুক আবার ১০০ টেকাও দিয়া গেলো বকশিশ কইয়া! দুপুরে আমি লুকায় ওই বিন্ডিলে গিয়া দেইখা আসছি কিন্তু কিছুই পাই নাই!
: হুম, এটা তোমার মনের ভুল। আর লোকটা ভালো এজন্য তোমাকে টাকা দিয়েছে।
: আরে মিয়া খাড়ান! পরের সপ্তাহেও একই ঘটনা আর আবার একশো টেকা! আমি ম্যাচ বক্সের কাঠি গুইন্যা দেখছি, ছুড়ির বাটে কসট্যাপ মুড়াইয়া দেখছি কুনো হাতের ছাপ নাই। তাবিজের সুতাও একগজ পুরাই আছে! তাইলে এত্ত কান্দন আর বকাবাজি করে ক্যাডা?
: বলো কি! এটা তো সন্দেহ জনক!
: আরে আমি তো তাই কই! এমুন আরো দুই সপ্তা হইছে। কাইল রাইতে যখন ব্যাডায় আবার এইসব লইয়া হাঁটা দিলো, আমি পিছের দিকের দেয়াল টপকাইয়া হের আগেই বিন্ডিলে ঢুইকা সিঁড়ির তলে বইসা গেলাম! মামুগো… আঙ্গুল কাইট্যা ফালাইলে মানুষ যেমনে চিল্লায় এমুন চিল্লান শুইন্যা আমি দৌড়াইয়া চইল্যা আইলাম!
: সর্বনাশ! তুমি পুলিশে খবর দাও…
: আরে মিয়া কতা শেষ করতে দেন! আইজ সকালে যখন ওই ব্যাডা আবার সব জিনিস ফেরত দিতে আইলো, আমি হেরে ধইরা জিগাইলাম, ‘ভাই ঘটনা কি?’
: হ্যাঁ হ্যাঁ তারপর!… কি বললো সে?
: আমার কাছে ধরা খাইয়া আমারে সে সব খুইল্যা কইলো। শেষে আমারে কছম দিয়া কইলো কাওরে না কইতে!
: তোমার কাছে ধরা যখন পড়েছে তখন তো বলতেই হবে! বলো কি বললো সে?
: কি যে কন না! এইডা কুনো কতা?
: ঢং করো না, তাড়াতাড়ি বলো… এটা শোনার জন্য আমি মিটিংয়ে যাইনি এখনো!
: ছিঃ ছিঃ! আমারে কছম খাওয়াইছে না! কেমনে কই? কছম ছুটায় দিলে কমুনে!
: ফাজলামো হচ্ছে! এটা কোনো কথা হলো!
: কি? অস্থির লাগতাছে? কেমনেগো খালি মজা পাওনের জইন্য খবর জানা দরকার! একজন মানুষ অখনো মরে নাই, কষ্টে জীবিত আছে আর দ্যাশের পাব্লিক অপেক্ষায় আছে কখন তার মিত্যুর খবর পাইবো, কেমনে মরলো, মরার আগে কি কইলো, কই তার মাজার শরিফ বানাইবো… ইত্যাদি! আরে মিয়া… রাইতের অই চিৎকার গুলান আসলে আপ্নাগাে বিবেকের! কেমনেরা দিন দিন এত্ত পশু হইয়া যাইতেছেন…. কেমনেগো বিবেক আর থাকতে চাইতেছে না আপ্নাগাে লগে!
: হু! বুঝলাম তুমি এরশাদ সাহেবকে নিয়ে চিন্তায় আছো! কিন্তু ওই লোকটা কি বললো তোমাকে? বলো…
: যান মিয়া, দৌড়ের উপ্রে থাকেন, ফুন রাখলাম! ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]