• প্রচ্ছদ » » রাজনীতির জায়গা দখল করেছে রাজদুর্নীতি


রাজনীতির জায়গা দখল করেছে রাজদুর্নীতি

আমাদের নতুন সময় : 05/07/2019

পীর হাবিবুর রহমান

কি লিখতে গিয়ে কি লিখি, কি বলতে গিয়ে কি বলি! নিজেই তাজ্জব হয়ে যাই। অন্তহীন দহনে দগ্ধ হই! আত্মতৃপ্তি নেই, মনের সুখ নেই। রাজনীতির জায়গা রাজদুর্নীতি দখল করেছে। আদর্শিক রাজনীতি নেই। রাজনীতির দীর্ঘপথ পরিক্রমায় আদর্শিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে সাংগঠনিক দক্ষতা, মেধা, যোগ্যতা ও গণমুখী সৎ চরিত্র নিয়ে আর রাজনীতিতে আসতে হয় না। যখন যার খুশি অর্থ পেশী শক্তি আর অনুকম্পা বা করুণালাভের মধ্য দিয়ে হঠাৎ নেতা, হঠাৎ রাজনীতিবিদ হওয়া যায়। সরকারি চাকরিবাকরি করে নিরাপদ জীবন গড়ে, অবসরে গিয়ে রাজনীতির মঞ্চে দখলই নয়, এক লাফে এমপি-মন্ত্রী নেতা হওয়া যায়। রাজনীতি করে, কর্মী তৈরি করে, দলের জন্য নিবেদিত হবার অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েই যেমন খুশি, যখন খুশি নেতা হওয়া যায়। আগে রাজনৈতিক কর্মী সংগঠক ও নেতা আসতেন দলের প্রতি আদর্শিক কমিটমেন্ট নিয়ে কাজ করতে করতে কর্মী ও মানুষের মন জয় করে। সাদামাটা নিরাভরণ তাদের জীবন হতো মানুষের আদর্শ। শ্রদ্ধা ভালোবাসায় তাদের জন্য মানুষের মন ভরে যেতো। এখন রাজনীতির পথপরিক্রমা বাদ দিয়ে সামরিক শাসকদের দলের নেতা হবার মতো গণতান্ত্রিক দলেও পাইকারি হারে নেতা পয়দা হয়।
রাজনীতিবিদরা বোকার মতো ঠকে গিয়ে অসহায়ের মতো দেখেন কীভাবে তাদের পেছনে ফেলে অর্বাচীন বালকেরা করুণা ভিক্ষায়, ব্যসায়ীরা বিত্তের গরমে, অবসরপ্রাপ্ত আমলারা সুবিধাবাদী চরিত্রের ষোলোকলা পূর্ণ করে, দলকানা দলদাস সুযোগ সন্ধানীরা হঠাৎ চাটুকারিতায় ছাত্রজীবনে যা বিশ্বাস করেনি, নয়া মুসলমান গরু বেশি খাবার মতো সেই বন্দনা বেশি বেশি করে উঠে আসে। রাজনীতি এভাবে রাজনীতিবিদদের হাতছাড়া হয়ে মরুকবলিতই নয়, প্রাণহীন আকর্ষণহীন সুবিধাবাদীদের গণিমতের মালে পরিণত হয়। যেভাবে যার খুশি যখন-তখন রাজনীতিবিদদের অসহায় করে দিয়ে ভোগের নেশায় দখল করে। নিজেদের আত্মগøানির কারণে রাজনীতির মূল শক্তি বা কর্মীদের মাঝে হয় বিভেদ নয় ভেজাল মাল গোডাউনে ঢুকিয়ে দলকে নড়বড়ে করে দেয়। আর যখন যে দল ক্ষমতা হারায় তখন তারা হায় হায় করে, ত্যাগী কর্মীরা মার খায়, লুটেরা, সুবিধাবাদীরা নিরাপদে নয় আপোসে কেটে পড়ে! কি অদ্ভুত রাজনীতির নীতিহীন আগ্রাসন দেখতে দেখতে বড় বেশি ক্লান্ত লাগে। এ নিয়ে না বলা যায়, লেখা যায়, না সয়ে যাওয়া যায়। আর মুক্তিযুদ্ধে ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে দেখা স্বপ্ন ও অঙ্গীকার অধরাই থেকে যায়। আহারে মনে বড় বিষাদ হয়, বেদনায় ভারি হয়! সেই কৈশোর থেকে পুরো যৌবন কি স্বপ্নই না দেখেছিলাম! বেশি কিছুই চাইনি। চেয়েছিলাম আত্মমর্যাদা নিয়ে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করতে। লিখতে হাত খুলে। বলতে প্রাণ খুলে। পারিনি। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]